আন্তর্জাতিক বাজার থেকে মোট ছয় কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির দুটি পৃথক প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়।
গতকাল শনিবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দুটি উত্থাপন করা হলে সার্বিক আলোচনা শেষে তা অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়।
অনুমোদিত প্রস্তাব দুটির মাধ্যমে বিপি সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড এবং কাতার এনার্জি ট্রেডিং এলএলসি থেকে এই জ্বালানি সরবরাহ করা হবে।
সভা সূত্রে জানা গেছে, প্রথম প্রস্তাবটি ছিল ‘বিপি সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড’-এর কাছ থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে পাঁচ কার্গো এলএনজি আমদানির।
সরকারি ক্রয় আইন ২০০৬-এর ৬৮ ধারা এবং সরকারি ক্রয় বিধিমালা ২০২৫-এর ৯৯ (২) বিধি অনুসরণ করে এই প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। সমঝোতা অনুযায়ী, উভয় পক্ষের সম্মতিতে প্রয়োজনবোধে আরও অতিরিক্ত কার্গো কেনার সুযোগ রাখা হয়েছে।
এই চালানে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে জাপান-কোরিয়া মার্কার (জেকেএম) সূচক মূল্যের চেয়ে শূন্য দশমিক ১৭ মার্কিন ডলার কমে। এ ক্ষেত্রে বিপি সিঙ্গাপুরকে মূল দরদাতা হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে।
দ্বিতীয় প্রস্তাবে জিটুজি ভিত্তিতে ‘কাতার এনার্জি ট্রেডিং এলএলসি’ থেকে অতিরিক্ত এক কার্গো এলএনজি কেনার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। বিদ্যমান দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় এই অতিরিক্ত চালানের সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২০ ডিসেম্বর।
তবে এই অতিরিক্ত চালানের ক্ষেত্রে আগের চুক্তির নির্ধারিত দর থেকে কিছুটা ভিন্ন মূল্য ধরা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, এর দাম হবে জেকেএম সূচক মূল্য থেকে প্রতি এমএমবিটিইউ-তে শূন্য দশমিক ১০ মার্কিন ডলার কম।
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যেই এই জরুরি ক্রয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে বলে সভার কার্যবিবরণীতে উল্লেখ করা হয়।










