Ajker Patrika

কিউ-ক্যাশ সংকট: ব্যাংকের শাখায় দীর্ঘ সারি

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২৩: ০৮
কিউ-ক্যাশ সংকট: ব্যাংকের শাখায়
দীর্ঘ সারি

কিউ-ক্যাশ পেমেন্ট গেটওয়ের জরুরি সিস্টেম মাইগ্রেশনের কারণে এর আওতায় থাকা ৩৫টির মধ্যে প্রায় ৩০টি ব্যাংকের বিভিন্ন কার্ড ও ডিজিটাল লেনদেন সেবা বন্ধ রয়েছে। ৪ অক্টোবর রাত ৯টা থেকে শুরু হওয়া এই কার্যক্রম চলবে ১০ অক্টোবর দুপুর ১২টা পর্যন্ত। এতে এটিএম বুথ থেকে টাকা উত্তোলন, পয়েন্ট অব সেল (পিওএস), ই-কমার্স, কিউআর কোড পেমেন্ট, কার্ড লেনদেন, তহবিল স্থানান্তরসহ বিভিন্ন সেবা ব্যাহত হচ্ছে।

দীর্ঘ সময় এসব সেবা বন্ধ থাকায় জরুরি প্রয়োজনে নগদ টাকা তুলতে ও কার্ডে লেনদেন করতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন গ্রাহকেরা। অনেকে এটিএম বুথে গিয়ে সেবা বন্ধ থাকার বিষয়টি জানতে পারছেন। দোকান, রেস্তোরাঁ কিংবা অনলাইনেও কার্ড ব্যবহার করতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন অনেকে। ফলে ডিজিটাল সেবার বদলে ব্যাংকের শাখায় গিয়ে লেনদেন করতে হচ্ছে। এতে বিভিন্ন শাখায় দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে এবং স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় গ্রাহকের চাপ বেড়েছে।

এনসিসি ব্যাংকের গ্রাহক সাখাওয়াত হোসেন জানান, জরুরি প্রয়োজনে টাকা তুলতে গিয়ে বুথের সামনে সেবা বন্ধের নোটিশ দেখতে পান। পরে উপায় না দেখে শাখায় গিয়ে দীর্ঘ সারি দাঁড়িয়ে টাকা তুলতে হয়েছে।

গ্রাহকদের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ এই কারিগরি কাজের বিষয়ে তাঁদের আগাম জানানো হয়নি। ব্যাংক এশিয়ার গ্রাহক রাশেদুজ্জামান মিঠু বলেন, কোনো ধরনের আগাম নোটিশ ছাড়া একযোগে এত ব্যাংকের ডিজিটাল সেবা বন্ধ রাখা কাম্য নয়।

ব্যাংকগুলো বলছে, কিউ-ক্যাশের পক্ষ থেকে আগাম ঘোষণা না পাওয়ায় তারাও গ্রাহকদের যথাসময়ে জানাতে পারেনি। ট্রাস্ট ব্যাংকের সিএফও মাহফুজুর রহমান বলেন, কিউ-ক্যাশ বা আইটিসি হঠাৎ সিস্টেম বন্ধ করেছে। আগে ২৮ অক্টোবরের দিকে ডাউনটাইম নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। জরুরি প্রয়োজনের কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই সেবা বন্ধ করা হয়েছে। নেটওয়ার্ক বন্ধের দিন সন্ধ্যায় ব্যাংককে নোটিশ দেওয়া হয়। ফলে গ্রাহকদের জানানোর মতো এক দিনও সময় পাওয়া যায়নি। ট্রাস্ট ব্যাংকের প্রায় ৬ লাখ ডেবিট কার্ড সচল রয়েছে। এসব কার্ড এনপিএসবি, ভিসা ও ব্যাংকের নিজস্ব ব্যবস্থায় পরিচালিত হয়। তবে ক্রেডিট কার্ড, প্রিপেইড কার্ড ও কিউ-ক্যাশের এটিএম সেবা বন্ধ রয়েছে।

কিউ-ক্যাশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মনোয়ার বলেন, জরুরি সিস্টেম মাইগ্রেশনের কারণে সাময়িকভাবে সেবায় বিঘ্ন ঘটেছে। কনসোর্টিয়ামে ৩৫টির বেশি ব্যাংক রয়েছে এবং এসব ব্যাংক বিভিন্ন ইলেকট্রনিক লেনদেনে কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে। মাইগ্রেশনের সময় কিছু সেবা বন্ধ রাখতে হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ২৮ অক্টোবর থেকে কাজটি করার পরিকল্পনার কথা কয়েকটি ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানিয়েছিল। কিন্তু ৪ অক্টোবর সিস্টেম ক্র্যাশ করার উপক্রম হওয়ায় কিউ-ক্যাশ কর্তৃপক্ষ ব্যাংকগুলোকে না জানিয়েই কাজ শুরু করে। তাই ব্যাংকগুলোও আগাম নোটিশ দিতে পারেনি।

কিউ-ক্যাশের আওতায় থাকা ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে অগ্রণী, বাংলাদেশ কমার্স, কৃষি, ব্যাংক এশিয়া, বেসিক, আলফালাহ, কমিউনিটি, আইসিবি ইসলামিক, ফার্স্ট সিকিউরিটি, আইএফআইসি, যমুনা, জনতা, মেঘনা, মার্কেন্টাইল, মিডল্যান্ড, মধুমতি, ন্যাশনাল, এনসিসি, এনআরবিসি, এনআরবি গ্লোবাল, রূপালী, শাহ্জালাল ইসলামী, সীমান্ত, সোশ্যাল ইসলামী, সোনালী, সাউথ বাংলা, ট্রাস্ট, ইউনিয়ন, উত্তরা ও উরি ব্যাংক।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত