
গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ব্যাংক খাতের উদ্বেগজনক চিত্র ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। বিগত সরকারের সময়ে নানা উপায়ে চাপা রাখা খেলাপি ঋণ এখন প্রকাশ হতে শুরু করেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সাবেক ক্ষমতাসীনদের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীদের ঋণখেলাপি হওয়ার হিড়িক। সব মিলিয়ে মাত্র এক বছরের ব্যবধানে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার ১২ শতাংশ থেকে একলাফে ২৮ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। অর্থাৎ, ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা প্রতি ১০০ টাকার ঋণের মধ্যে ২৮ টাকার বেশিই এখন খেলাপি।
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনেও এই চিত্র উঠে এসেছে, যেখানে খেলাপি ঋণের সর্বোচ্চ হারে এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষে অবস্থান করছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন মাস শেষে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৩০ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের ২৭ দশমিক ০৯ শতাংশ। এক বছর আগেও এই হার ছিল মাত্র ১২ শতাংশের কাছাকাছি।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ব্যাংক খাত অনেকটাই প্রভাবমুক্ত হওয়ায় ঋণের প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। নামসর্বস্ব ও রাজনৈতিক বিবেচনায় দেওয়া বিপুল পরিমাণ ঋণ এখন খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। এর একটি বড় উদাহরণ এস আলম গ্রুপ-সম্পর্কিত ব্যাংকগুলো। ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকসহ কয়েকটি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ব্যাপক হারে বেড়েছে।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ যখন সরকার গঠন করে, তখন দেশের মোট খেলাপি ঋণ ছিল মাত্র ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। সেখান থেকে গত ১৫ বছরে এই অঙ্ক লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে।
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) প্রতিবেদনটি ২০২৩ সালের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। তবে সেখানেও খেলাপি ঋণে বাংলাদেশের নাজুক অবস্থান স্পষ্ট। ওই প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৩ সাল শেষে ৯ দশমিক ৬ শতাংশ খেলাপি ঋণ নিয়ে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষে ছিল। একই সময়ে ভারতের খেলাপি ঋণের হার ছিল মাত্র ১ দশমিক ৭ শতাংশ এবং মালদ্বীপের ৮ দশমিক ৩ শতাংশ। অন্যদিকে, এশিয়ায় সবচেয়ে কম খেলাপি ঋণ চীনের তাইপে (০.১%) ও কোরিয়ায় (০.২%)।
অর্থনীতিবিদদের মতে, আগে বিভিন্ন কৌশল ও ছলচাতুরীর মাধ্যমে খেলাপি ঋণ কম দেখানো হতো। সহজ শর্তে ঋণ পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠনের সুযোগ দিয়ে প্রকৃত চিত্র আড়াল করা হয়েছিল। বর্তমানে ঋণমানের আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন অনুসরণ করা শুরু হয়েছে। এর পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা এবং পূর্ববর্তী সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠদের ব্যবসা খারাপ হয়ে পড়ায় খেলাপি ঋণ বাড়ছে।
তাঁদের মতে, খেলাপি ঋণের এই ঊর্ধ্বগতি দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য অশনিসংকেত।
এদিকে, ক্রমবর্ধমান খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি নতুন নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। জানা গেছে, খেলাপি হয়ে পড়া প্রায় ১,৪০০ প্রতিষ্ঠান ঋণ পুনর্গঠনের জন্য আবেদন করেছে। নতুন নীতিমালায় মাত্র ১ শতাংশ অর্থ জমা দিয়ে ঋণ পুনর্গঠনের সুযোগ দেওয়া হতে পারে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা আশা করছেন, এর মাধ্যমে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কিছুটা কমে আসবে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধুমাত্র নীতিমালার পরিবর্তন নয়, বরং ঋণ বিতরণে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা না গেলে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

১৭ কর্মকর্তাকে একযোগে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি)। একই সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ের আরও পাঁচ কর্মকর্তার বেতন সর্বনিম্ন গ্রেডে নামিয়ে আনা হয়েছে। বিএসইসি প্রতিষ্ঠার পর একসঙ্গে এতসংখ্যক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন প্রশাসনিক....
১২ মিনিট আগে
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের সার্বিক আধুনিকায়ন ও ডিজিটাল রূপান্তর সংক্রান্ত এক গুরুত্বপূর্ণ সৌজন্য সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যালয়ে আয়োজিত এই সভায় আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের সার্বিক আধুনিকায়ন....
১ ঘণ্টা আগে
পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াবে—নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এমন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই প্রত্যাশা জোরালো হয়। ছয় মাস পর সূচকে কিছুটা উত্থান দেখা গেলেও অন্য প্রধান সূচকগুলো সেই আশার প্রতিফলন ঘটাচ্ছে না। কমেছে বাজার মূলধন ও লেনদেন, কমেছে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ।
১০ ঘণ্টা আগে
বাংলাদেশের অবকাঠামো ও প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে দুটি যৌথ ব্যবসায়িক টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে ভারতের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি (সিআইআই)। এর একটি অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ ও অর্থায়ন নিয়ে কাজ করবে; অন্যটি ডিজিটাল রূপান্তর ও উচ্চপ্রযুক্তির বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা...
১০ ঘণ্টা আগে