জয়নাল আবেদীন খান, ঢাকা

দেশের ব্যাংকিং খাতে আবারও ঋণ পুনঃ তফসিলের হিড়িক পড়েছে। পুরোনো ধারাবাহিকতায় বছরের পর বছর ঋণ পুনঃ তফসিল করে আড়াল করা হচ্ছে প্রকৃত খেলাপিঋণের চিত্র। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন বলছে, ২০২৪ সালে প্রায় ৫৭ হাজার কোটি টাকার ঋণ পুনঃ তফসিল হয়েছে। এর বড় একটি অংশ, প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা পুনঃ তফসিল করা হয়েছে মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে।
ব্যাংকিং খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এতে সাময়িক স্বস্তি তৈরি হলেও পুনঃ তফসিলের এই প্রবণতা আসলে দীর্ঘ মেয়াদে সমস্যা আরও গভীর করছে। ঋণ পুনঃ তফসিলের পরও খেলাপি ঋণের বোঝা বেড়েই চলেছে। ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকিং খাতে মোট বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৭ লাখ ১১ হাজার ৪০২ কোটি টাকা, যার মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা, অর্থাৎ বিতরণ করা মোট ঋণের প্রায় ২০ দশমিক ২ শতাংশ এখন খেলাপি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২৪ সালের প্রথম ৯ মাসে তুলনামূলক কম পুনঃ তফসিল হলেও বছরের শেষ প্রান্তিকে হঠাৎ করে এই প্রবণতা তীব্র আকার ধারণ করে। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে পুনঃ তফসিল হয়েছে ২০ হাজার ৭৩২ কোটি টাকার ঋণ, যেখানে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে পুনঃ তফসিলের পরিমাণ ছিল ৭ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকা। বছরের শেষ সময়ে মাত্র তিন মাসে পুনঃ তফসিলের অঙ্ক প্রায় তিন গুণ বেড়ে যায়।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, ২০২২ সালে জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণ পুনঃ তফসিল নীতিমালা শিথিল করেছিল। তৎকালীন গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারের নেতৃত্বে মাত্র ২ শতাংশ ডাউনপেমেন্টের বিনিময়ে ঋণ পুনঃ তফসিলের বিশেষ সুযোগ দেওয়া হয়। এই সুযোগে হাজার হাজার কোটি টাকার পুরোনো খেলাপি ঋণ ‘নিয়মিত’ দেখানোর চেষ্টা চলে। এখন দেখা যাচ্ছে, সেই পুনঃ তফসিল করা ঋণগুলোও আবার নতুন করে খেলাপিতে পরিণত হচ্ছে, ফলে ব্যাংকিং খাতের ঝুঁকি আরও বাড়ছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. মইনুল ইসলাম মনে করেন, পুনঃ তফসিলের নামে খেলাপি ঋণ চাপা দিয়ে লাভ হবে না। তাঁর মতে, বারবার পুনঃ তফসিল করে যাঁরা টাকা লোপাট করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে জনগণের টাকা ফিরিয়ে আনতে হবে। তবেই ব্যাংকের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরে আসবে।
ব্যাংকিং খাতের সংকট আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে রাষ্ট্রমালিকানাধীন ও বেসরকারি ব্যাংকগুলোর পরিসংখ্যানেও। রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মোট বিতরণ করা ঋণের মধ্যে খেলাপির হার এখন ৪২ দশমিক ৮৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা আগের তিন মাসের তুলনায় বেড়েছে। অন্যদিকে, বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের হার ১৫ দশমিক ৬০ শতাংশে পৌঁছেছে, যা একইভাবে ঊর্ধ্বমুখী।
অতীতের তথ্য বলছে, ২০২৩ সালে ঋণ পুনঃ তফসিলের পরিমাণ পৌঁছেছিল রেকর্ড ৯১ হাজার ২২১ কোটি টাকায়, যেখানে ২০২২ সালে ছিল ৬৩ হাজার ৭২০ কোটি টাকা। তার আগের বছরগুলোতেও পুনঃ তফসিলের প্রবণতা কম ছিল না, তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এটি উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে।

দেশের ব্যাংকিং খাতে আবারও ঋণ পুনঃ তফসিলের হিড়িক পড়েছে। পুরোনো ধারাবাহিকতায় বছরের পর বছর ঋণ পুনঃ তফসিল করে আড়াল করা হচ্ছে প্রকৃত খেলাপিঋণের চিত্র। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন বলছে, ২০২৪ সালে প্রায় ৫৭ হাজার কোটি টাকার ঋণ পুনঃ তফসিল হয়েছে। এর বড় একটি অংশ, প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা পুনঃ তফসিল করা হয়েছে মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে।
ব্যাংকিং খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এতে সাময়িক স্বস্তি তৈরি হলেও পুনঃ তফসিলের এই প্রবণতা আসলে দীর্ঘ মেয়াদে সমস্যা আরও গভীর করছে। ঋণ পুনঃ তফসিলের পরও খেলাপি ঋণের বোঝা বেড়েই চলেছে। ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকিং খাতে মোট বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৭ লাখ ১১ হাজার ৪০২ কোটি টাকা, যার মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা, অর্থাৎ বিতরণ করা মোট ঋণের প্রায় ২০ দশমিক ২ শতাংশ এখন খেলাপি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২৪ সালের প্রথম ৯ মাসে তুলনামূলক কম পুনঃ তফসিল হলেও বছরের শেষ প্রান্তিকে হঠাৎ করে এই প্রবণতা তীব্র আকার ধারণ করে। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে পুনঃ তফসিল হয়েছে ২০ হাজার ৭৩২ কোটি টাকার ঋণ, যেখানে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে পুনঃ তফসিলের পরিমাণ ছিল ৭ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকা। বছরের শেষ সময়ে মাত্র তিন মাসে পুনঃ তফসিলের অঙ্ক প্রায় তিন গুণ বেড়ে যায়।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, ২০২২ সালে জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণ পুনঃ তফসিল নীতিমালা শিথিল করেছিল। তৎকালীন গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারের নেতৃত্বে মাত্র ২ শতাংশ ডাউনপেমেন্টের বিনিময়ে ঋণ পুনঃ তফসিলের বিশেষ সুযোগ দেওয়া হয়। এই সুযোগে হাজার হাজার কোটি টাকার পুরোনো খেলাপি ঋণ ‘নিয়মিত’ দেখানোর চেষ্টা চলে। এখন দেখা যাচ্ছে, সেই পুনঃ তফসিল করা ঋণগুলোও আবার নতুন করে খেলাপিতে পরিণত হচ্ছে, ফলে ব্যাংকিং খাতের ঝুঁকি আরও বাড়ছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. মইনুল ইসলাম মনে করেন, পুনঃ তফসিলের নামে খেলাপি ঋণ চাপা দিয়ে লাভ হবে না। তাঁর মতে, বারবার পুনঃ তফসিল করে যাঁরা টাকা লোপাট করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে জনগণের টাকা ফিরিয়ে আনতে হবে। তবেই ব্যাংকের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরে আসবে।
ব্যাংকিং খাতের সংকট আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে রাষ্ট্রমালিকানাধীন ও বেসরকারি ব্যাংকগুলোর পরিসংখ্যানেও। রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মোট বিতরণ করা ঋণের মধ্যে খেলাপির হার এখন ৪২ দশমিক ৮৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা আগের তিন মাসের তুলনায় বেড়েছে। অন্যদিকে, বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের হার ১৫ দশমিক ৬০ শতাংশে পৌঁছেছে, যা একইভাবে ঊর্ধ্বমুখী।
অতীতের তথ্য বলছে, ২০২৩ সালে ঋণ পুনঃ তফসিলের পরিমাণ পৌঁছেছিল রেকর্ড ৯১ হাজার ২২১ কোটি টাকায়, যেখানে ২০২২ সালে ছিল ৬৩ হাজার ৭২০ কোটি টাকা। তার আগের বছরগুলোতেও পুনঃ তফসিলের প্রবণতা কম ছিল না, তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এটি উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে।

নেপাল ও বাংলাদেশ ঢাকায় বাণিজ্যসচিব পর্যায়ের বৈঠক পুনরায় শুরু করতে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা বিষয়গুলো, বিশেষ করে প্রস্তাবিত দ্বিপক্ষীয় প্রেফারেনশিয়াল ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (পিটিএ) বা অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি এবং এর আওতাভুক্ত পণ্যের তালিকার বিষয়টি পুনরায় আলোচনায় আসবে।
৫ ঘণ্টা আগে
ব্যাংক খাতকে ঘিরে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নানামুখী পদক্ষেপ শেষ পর্যন্ত দীর্ঘদিনের ভয় ও অনিশ্চয়তা ধীরে ধীরে কাটতে শুরু করেছে। অনিয়ম-দুর্নীতি আর লুটপাটের অভিযোগে যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছিল, সেই জায়গা থেকে মানুষ আবার ব্যাংকমুখী হচ্ছে। একসময় আতঙ্কে তুলে নেওয়া নগদ টাকা এখন ফের জমা পড়ছে ব্যাংকে।
১২ ঘণ্টা আগে
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (আরএডিপি) বড় ধরনের কাটছাঁটের মুখে পড়ছে আটটি মেগা প্রকল্প। পরিকল্পনা কমিশনের খসড়া অনুযায়ী, এসব প্রকল্পে বরাদ্দ কমছে মোট ১৩ হাজার ৩৪৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা। অবকাঠামো খাতেই এই সংকোচন সবচেয়ে বেশি।
১২ ঘণ্টা আগে
দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে বড় ধরনের মন্দা দেখা দেওয়ায় হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) এ ঘাটতির পরিমাণ ১ হাজার ১৩ কোটি টাকা।
১২ ঘণ্টা আগে