পণ্য ও বাজার বৈচিত্র্যে ঘাটতি
রোকন উদ্দীন, ঢাকা

যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক আরোপের হুমকি বাংলাদেশকে এমন এক বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছিল, যা ছিল অর্থনীতির জন্য ভয়াবহ এক সতর্কসংকেত। শেষ পর্যন্ত যদি এই শুল্কহার ১৫ শতাংশ কমিয়ে ২০ শতাংশে নির্ধারণ না করা হতো, বরং তা প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় আরও বেশি হতো। তবে এর অভিঘাত হতো বহুমাত্রিক ও ব্যাপক। দেশের রপ্তানিনির্ভর প্রবৃদ্ধি তখন এক ধাক্কায় কেঁপে উঠত। আর এ থেকে আবারও স্পষ্ট হয়েছে, বিশ্ববাজারের মতো অনিশ্চিত মঞ্চে শুধু একটি খাতের ওপর ভরসা করে এগিয়ে চলার ঝুঁকি কতটা ভয়াবহ।
বাংলাদেশের রপ্তানি খাত বহু বছর ধরে প্রায় একমুখী। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও তৈরি পোশাকের বাইরে শক্ত কোনো বিকল্প খাত গড়ে ওঠেনি। বিশ্লেষকেরা দীর্ঘদিন ধরে বলছেন, পণ্যের বৈচিত্র্য, নতুন বাজারে প্রবেশ, উৎপাদন খরচ হ্রাস এবং নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে রপ্তানিতে নিরাপদ ও স্থিতিশীল ভিত্তি গড়া সম্ভব। কিন্তু বাস্তবে তার ছিটেফোঁটাও দেখা যায়নি।
অথচ প্রতিযোগী দেশগুলোর চিত্র একেবারে ভিন্ন। চীনের মোট রপ্তানির মাত্র ৪.৩০ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক থেকে। ভারতের ২.২০ শতাংশ, ভিয়েতনামের ৭.৬০ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ার ২.৩০ শতাংশ, পাকিস্তানের ২৬.৮০ শতাংশ এবং কম্বোডিয়ার ৩৬.৭০ শতাংশ—এই পরিসংখ্যানই বলে দেয়, এসব দেশ রপ্তানি খাতে বহুমুখী পণ্যে দক্ষ। অন্যদিকে, বাংলাদেশে তৈরি পোশাক একাই দেশের মোট রপ্তানির ৮৬.২০ শতাংশ দখল করে আছে, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও ভারসাম্যহীন।
এখানেই সংকটের মূল। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক হুমকির ঘটনায় তা কেবল উন্মোচিতই হয়নি, বরং আরও জোরালোভাবে সামনে এসেছে। একদিকে বাজার সংকুচিত, অন্যদিকে এক পণ্যের ওপর অতিনির্ভরশীলতা—এই সমন্বয়ই দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যকাঠামোকে করে তুলেছে নড়বড়ে। সামনে আবার একটি বড় বাঁক। ২০২৬ সালেই বাংলাদেশ এলডিসি তালিকা থেকে উত্তরণ ঘটাবে। তখন বিদ্যমান শুল্কমুক্ত সুবিধা হারানোর সম্ভাবনা প্রবল, ফলে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরও কমে যাবে। এই বাস্তবতা মেনেই এখনই প্রয়োজন রপ্তানি ঝুঁকি কমানো, পণ্যের ঝুলি প্রসার করা এবং নতুন নতুন বাজারে ঢুকে পড়া।
এই প্রেক্ষাপটে সানেমের নির্বাহী পরিচালক ও অর্থনীতিবিদ ড. সেলিম রায়হান বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের কড়াকড়ি আমাদের জন্য বড় রকমের বার্তা। বৈদেশিক বাণিজ্যকাঠামোকে টেকসই ও বহুমাত্রিক করতে হবে। নির্দিষ্ট গন্তব্য বা একক পণ্যের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো জরুরি; বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের মতো একক বাজারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা অর্থনীতিকে আরও বিপজ্জনক করে তোলে।’
সেলিম রায়হান মনে করেন, এখনই সময় কার্যকর নীতি সংস্কারের—বাণিজ্য, শুল্কনীতি এবং বিনিয়োগ কাঠামোতে পরিবর্তন আনতে হবে, যাতে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ে এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট হয়। তাঁর মতে, উদীয়মান এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও আফ্রিকার সঙ্গে সময়োপযোগী এফটিএ বা পিটিএ স্বাক্ষরের মাধ্যমে নতুন বাজার খোঁজা এখন সময়ের দাবি।
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকিন আহমেদ বলেন, ‘রপ্তানি বহুমুখীকরণের পাশাপাশি তৈরি পোশাক খাতেও ভেতরে ভেতরে বৈচিত্র্য আনা দরকার; বিশেষ করে ওভেন খাতের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ জোরদার না হলে প্রতিযোগিতা টেকানো যাবে না।’
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য হতে পারে রপ্তানিতে নতুন সম্ভাবনার নাম। তাঁর মতে, সঠিক পরিকল্পনা ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড; বিশেষ করে গ্যাপ পরিপালন করতে পারলে এই খাত থেকে বছরে ২ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয় সম্ভব।
তথ্য বলছে, ২০২৪ সালে চীন তৈরি পোশাকে আয় করেছে ১৬৫.২৪ বিলিয়ন ডলার, যা বিশ্ববাজারে ২৯.৬৪ শতাংশ হলেও চীনের মোট রপ্তানির মাত্র ৪.৩০ শতাংশ। একই বছরে বাংলাদেশ রপ্তানি করেছে ৩৮.৪৮ বিলিয়ন ডলার, যা বিশ্ববাজারে ৬.৯০ শতাংশ হলেও দেশের মোট রপ্তানির ৮৬.২০ শতাংশ। অন্যদিকে, ভিয়েতনাম (৩৩.৯৪ বিলিয়ন ডলার), ভারত (১৬.৩৬ বিলিয়ন), কম্বোডিয়া (৯.৮৯ বিলিয়ন), পাকিস্তান (৯.২৮ বিলিয়ন) এবং ইন্দোনেশিয়া (৮.৭৩ বিলিয়ন) তুলনামূলক কম পোশাক রপ্তানি করেও বহুমুখী পণ্যে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক আরোপের হুমকি বাংলাদেশকে এমন এক বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছিল, যা ছিল অর্থনীতির জন্য ভয়াবহ এক সতর্কসংকেত। শেষ পর্যন্ত যদি এই শুল্কহার ১৫ শতাংশ কমিয়ে ২০ শতাংশে নির্ধারণ না করা হতো, বরং তা প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় আরও বেশি হতো। তবে এর অভিঘাত হতো বহুমাত্রিক ও ব্যাপক। দেশের রপ্তানিনির্ভর প্রবৃদ্ধি তখন এক ধাক্কায় কেঁপে উঠত। আর এ থেকে আবারও স্পষ্ট হয়েছে, বিশ্ববাজারের মতো অনিশ্চিত মঞ্চে শুধু একটি খাতের ওপর ভরসা করে এগিয়ে চলার ঝুঁকি কতটা ভয়াবহ।
বাংলাদেশের রপ্তানি খাত বহু বছর ধরে প্রায় একমুখী। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও তৈরি পোশাকের বাইরে শক্ত কোনো বিকল্প খাত গড়ে ওঠেনি। বিশ্লেষকেরা দীর্ঘদিন ধরে বলছেন, পণ্যের বৈচিত্র্য, নতুন বাজারে প্রবেশ, উৎপাদন খরচ হ্রাস এবং নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে রপ্তানিতে নিরাপদ ও স্থিতিশীল ভিত্তি গড়া সম্ভব। কিন্তু বাস্তবে তার ছিটেফোঁটাও দেখা যায়নি।
অথচ প্রতিযোগী দেশগুলোর চিত্র একেবারে ভিন্ন। চীনের মোট রপ্তানির মাত্র ৪.৩০ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক থেকে। ভারতের ২.২০ শতাংশ, ভিয়েতনামের ৭.৬০ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ার ২.৩০ শতাংশ, পাকিস্তানের ২৬.৮০ শতাংশ এবং কম্বোডিয়ার ৩৬.৭০ শতাংশ—এই পরিসংখ্যানই বলে দেয়, এসব দেশ রপ্তানি খাতে বহুমুখী পণ্যে দক্ষ। অন্যদিকে, বাংলাদেশে তৈরি পোশাক একাই দেশের মোট রপ্তানির ৮৬.২০ শতাংশ দখল করে আছে, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও ভারসাম্যহীন।
এখানেই সংকটের মূল। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক হুমকির ঘটনায় তা কেবল উন্মোচিতই হয়নি, বরং আরও জোরালোভাবে সামনে এসেছে। একদিকে বাজার সংকুচিত, অন্যদিকে এক পণ্যের ওপর অতিনির্ভরশীলতা—এই সমন্বয়ই দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যকাঠামোকে করে তুলেছে নড়বড়ে। সামনে আবার একটি বড় বাঁক। ২০২৬ সালেই বাংলাদেশ এলডিসি তালিকা থেকে উত্তরণ ঘটাবে। তখন বিদ্যমান শুল্কমুক্ত সুবিধা হারানোর সম্ভাবনা প্রবল, ফলে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরও কমে যাবে। এই বাস্তবতা মেনেই এখনই প্রয়োজন রপ্তানি ঝুঁকি কমানো, পণ্যের ঝুলি প্রসার করা এবং নতুন নতুন বাজারে ঢুকে পড়া।
এই প্রেক্ষাপটে সানেমের নির্বাহী পরিচালক ও অর্থনীতিবিদ ড. সেলিম রায়হান বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের কড়াকড়ি আমাদের জন্য বড় রকমের বার্তা। বৈদেশিক বাণিজ্যকাঠামোকে টেকসই ও বহুমাত্রিক করতে হবে। নির্দিষ্ট গন্তব্য বা একক পণ্যের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো জরুরি; বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের মতো একক বাজারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা অর্থনীতিকে আরও বিপজ্জনক করে তোলে।’
সেলিম রায়হান মনে করেন, এখনই সময় কার্যকর নীতি সংস্কারের—বাণিজ্য, শুল্কনীতি এবং বিনিয়োগ কাঠামোতে পরিবর্তন আনতে হবে, যাতে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ে এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট হয়। তাঁর মতে, উদীয়মান এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও আফ্রিকার সঙ্গে সময়োপযোগী এফটিএ বা পিটিএ স্বাক্ষরের মাধ্যমে নতুন বাজার খোঁজা এখন সময়ের দাবি।
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকিন আহমেদ বলেন, ‘রপ্তানি বহুমুখীকরণের পাশাপাশি তৈরি পোশাক খাতেও ভেতরে ভেতরে বৈচিত্র্য আনা দরকার; বিশেষ করে ওভেন খাতের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ জোরদার না হলে প্রতিযোগিতা টেকানো যাবে না।’
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য হতে পারে রপ্তানিতে নতুন সম্ভাবনার নাম। তাঁর মতে, সঠিক পরিকল্পনা ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড; বিশেষ করে গ্যাপ পরিপালন করতে পারলে এই খাত থেকে বছরে ২ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয় সম্ভব।
তথ্য বলছে, ২০২৪ সালে চীন তৈরি পোশাকে আয় করেছে ১৬৫.২৪ বিলিয়ন ডলার, যা বিশ্ববাজারে ২৯.৬৪ শতাংশ হলেও চীনের মোট রপ্তানির মাত্র ৪.৩০ শতাংশ। একই বছরে বাংলাদেশ রপ্তানি করেছে ৩৮.৪৮ বিলিয়ন ডলার, যা বিশ্ববাজারে ৬.৯০ শতাংশ হলেও দেশের মোট রপ্তানির ৮৬.২০ শতাংশ। অন্যদিকে, ভিয়েতনাম (৩৩.৯৪ বিলিয়ন ডলার), ভারত (১৬.৩৬ বিলিয়ন), কম্বোডিয়া (৯.৮৯ বিলিয়ন), পাকিস্তান (৯.২৮ বিলিয়ন) এবং ইন্দোনেশিয়া (৮.৭৩ বিলিয়ন) তুলনামূলক কম পোশাক রপ্তানি করেও বহুমুখী পণ্যে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে।

অর্থনীতির চলমান চাপ এবং রাজস্ব ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে সরকারি খরচ চালাতে আয়ের অন্যতম উৎসে বড় ধরনের টান পড়েছে। এর প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে রাজস্ব আদায়ে। এতে করে অর্থবছরের মাঝপথেই জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বড় ঘাটতির মুখে পড়েছে।
৭ ঘণ্টা আগে
এক সপ্তাহ না যেতেই আবারও দেশের বাজারে সোনার দামে রেকর্ড হয়েছে। এবার ভরিপ্রতি সোনার দাম সর্বোচ্চ ৪ হাজার ১৯৯ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা এসেছে। ফলে ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৯ টাকা। এটিই দেশের বাজারে সোনার ভরির রেকর্ড দাম। সোনার নতুন এই দাম আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে সারা দেশ
৯ ঘণ্টা আগে
এখন বিকাশ অ্যাপ থেকে গ্রাহক নিজেই বিকাশ টু ব্যাংক, সেভিংস, মোবাইল রিচার্জ ও পে বিল সেবাসংক্রান্ত অভিযোগ জানাতে পারবেন। সম্প্রতি বিকাশ অ্যাপে যুক্ত হয়েছে ‘সেলফ কমপ্লেইন্ট’ (ই-সিএমএস) সেবা। অভিযোগ জানানোর প্রক্রিয়া আরও সহজ, তাৎক্ষণিক ও কার্যকর করতেই এই উদ্যোগ নিয়েছে বিকাশ।
১১ ঘণ্টা আগে
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, আদালতের আদেশ মেনে নাসা গ্রুপের সম্পত্তি বিক্রি করে প্রতিষ্ঠানগুলোর শ্রমিকদের আইনানুগ বকেয়া বেতন ও সার্ভিস বেনিফিট পরিশোধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
১৬ ঘণ্টা আগে