
দেশের অর্থনৈতিক পরিকল্পনাকে বাস্তবভিত্তিক ও ভবিষ্যৎমুখী করার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, অতীতের মতো বাস্তবতাবিবর্জিত ও সংখ্যাভিত্তিক বয়াননির্ভর পরিকল্পনা নয়, বরং বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় নিয়ে নতুন অর্থনৈতিক কৌশল প্রণয়ন করা হবে। সে সঙ্গে পরিকল্পনার বাস্তবায়ন কৌশল ও জবাবদিহিও নিশ্চিত করা হবে।
আজ বুধবার আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে গঠিত অ্যাডভাইজরি কমিটির প্রথম সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, সরকার অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় তিনটি মৌলিক পরিবর্তন আনতে চায়। অতীতে প্রণীত পরিকল্পনা ও পরিসংখ্যানের সঙ্গে বাস্তবতার বিস্তর অমিল ছিল, যা এখন মূল্যায়নের আওতায় আনা হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন পরিকল্পনা নেওয়া হবে, যা বাস্তবায়নযোগ্য এবং জনগণের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নের প্রসঙ্গ টেনে তিতুমীর বলেন, অর্থনৈতিক পরিকল্পনা এমনভাবে প্রণয়ন করতে হবে, যেখানে সবার প্রয়োজন ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়। জনগণের প্রত্যাশা ও বাস্তবতার সমন্বয় ঘটিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণই হবে সরকারের অগ্রাধিকার।
খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তায় কৌশলগত পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, ভবিষ্যতের সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় খাদ্যের পাশাপাশি জ্বালানি খাতেও কৌশলগত মজুত গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। নিজস্ব গ্যাসসহ অন্যান্য জ্বালানি সম্পদের উত্তোলন বাড়ানো এবং বিদ্যুৎ-জ্বালানির নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হবে প্রধান লক্ষ্য।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর আরও বলেন, অর্থনৈতিক কৌশল তখনই কার্যকর হয়, যখন তা বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় নিয়ে প্রণয়ন করা হয়। কিন্তু অতীতে দেশের অনেক পরিকল্পনাই ছিল জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন, বাস্তবতাবিবর্জিত এবং কেবল কিছু সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে তৈরি।
নির্বাচনী অঙ্গীকার প্রসঙ্গে রাশেদ আল মাহমুদ বলেন, জনগণের দেওয়া দায়িত্ব ও নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতিগুলো এখন জাতীয় অ্যাজেন্ডায় পরিণত হয়েছে। এসব প্রতিশ্রুতিকে বাস্তবায়নযোগ্য কর্মকৌশলে রূপান্তর করা এবং কার্যকর বাস্তবায়নের পথ নির্ধারণই এখন প্রধান কাজ।
শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণের বিষয়ে উপদেষ্টা রাশেদ বলেন, একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হলে শিল্প খাতে নতুন করে ভাবতে হবে। শিল্পের বহুমুখীকরণ, প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর ওপর জোর দিতে হবে। তবে সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক শুমারির তথ্য অনুযায়ী শিল্প উৎপাদন নিম্নমুখী, যা উদ্বেগজনক।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে রাশেদ আল মাহমুদ বলেন, এই দুই খাতে বৈষম্যের পাশাপাশি গুণগত মানের ঘাটতি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে, শিক্ষাক্ষেত্রে রিডিং দক্ষতা ও সামগ্রিক পারফরম্যান্সের অবনতি একটি গভীর সংকটের ইঙ্গিত দেয়। সব মিলিয়ে একটি ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি ও বৈরী আন্তর্জাতিক পরিবেশের মধ্যে দেশকে এগিয়ে নিতে হচ্ছে।
সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম প্রসঙ্গে উপদেষ্টা রাশেদ বলেন, সমাজের অধিকাংশ মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার কার্ড চালু করা হয়েছে, যা জনগণের জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক হবে।
কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধির প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, দেশ এখন একটি প্যারাডাইম শিফটের দিকে এগোচ্ছে, যার লক্ষ্য ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা। তবে প্রবৃদ্ধির চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে কর্মসংস্থান সৃষ্টি। অতীতে প্রবৃদ্ধির যে চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, তা অনেকাংশেই কর্মসংস্থানবিহীন ছিল এবং এর তথ্যের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
রাশেদ আল মাহমুদ আরও বলেন, বর্তমানে যুব, নারী ও বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতকদের মধ্যে বেকারত্ব বেড়েছে। অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। কোভিড-পরবর্তী সময়ে পুঁজিবাজারে একাধিক কেলেঙ্কারির কারণে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বাজার এখনো পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি।
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রসঙ্গে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, এই বৈরী পরিস্থিতি মোকাবিলায় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি। একটি নতুন সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে, যেখানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত থাকবে। নির্দিষ্ট সময়ে জ্বালানি সরবরাহের তথ্য জনগণের কাছে উন্মুক্ত থাকলে সরকারের কার্যকারিতা সহজেই মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে।

বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে। তবে অলংকারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য। স্বর্ণালংকারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না।
১ ঘণ্টা আগে
অর্থবছর শেষ হতে বাকি মাত্র চার দিন। অথচ গত মে মাস পর্যন্ত সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (আরএডিপি) অর্ধেকের বেশি অর্থ ব্যয় করতে পারেনি সরকার। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-মে সময়ে এডিপি বাস্তবায়নের হার দাঁড়িয়েছে ৪৮ দশমিক ২৩ শতাংশে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের ৪৯ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশের নিচে।
১ দিন আগে
বিশ্ব এমএসএমই (মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প) দিবস-২০২৬ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নির্বাচিত সাতজন উদ্যোক্তাকে সম্মাননা দিয়েছে প্রাইম ব্যাংক পিএলসি। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাজধানীর হোটেল শেরাটনে ‘প্রাইম ব্যাংক এসএমই উদ্যোক্তা সম্মেলন...
২ দিন আগে
বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের (বিডিওএসএন) সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে নিজেদের ফ্ল্যাগশিপ নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন কর্মসূচি ‘আমরাই তারা’র তিনটি ব্যাচ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে ব্র্যাক ব্যাংক। ব্যাংকটির এই কর্মসূচির...
২ দিন আগে