Ajker Patrika

নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিদেশি বিনিয়োগ চায় বিএসআরইএ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিদেশি বিনিয়োগ চায় বিএসআরইএ
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে যৌথ সংবাদ সম্মেলন। ছবি: আজকের পত্রিকা

নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের ছয় মাসের নীতি সহায়তাকে আরও দীর্ঘায়িত করে এই খাতে বৈদেশিক বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টির প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআরইএ)। সুলভ মূল্যের সৌরবিদ্যুতের প্রসারে দেশে প্রতিবছর দুই বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রয়োজন হলেও স্থানীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সেই সক্ষমতা নেই বলেও মনে করে সংস্থাটি। সে জন্য বৈদেশিক বিনিয়োগ উৎসাহিত করার কৌশল নিতে সরকারের প্রতি অনুরোধ করেন বিএসআরইএ সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ।

বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর ও যৌথ প্রকল্পের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে চার দিনের সফরে এসেছেন অস্ট্রেলিয়ার ক্লিন এনার্জি খাতের প্রতিনিধিদল। সেই সফর শেষে আজ মঙ্গলবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আসেন দুই দেশের খাতসংশ্লিষ্ট দুই সমিতির নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে বিএসআরইএর সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ, রিনিউয়েবল এনার্জি কাউন্সিল এশিয়া প্যাসিফিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জন গ্রাইমস, উপপ্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্কট হ্যামিল্টনসহ প্রতিনিধিদলের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বিএসআরইএর মতে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক মডেলের জন্য সমন্বিত আইনি ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো গড়ে তোলা জরুরি। রুফটপ সোলার, সৌর সেচ, ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ, স্থলভিত্তিক ও সমুদ্রভিত্তিক বায়ুবিদ্যুৎ, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন, ব্যাটারি স্টোরেজ এবং কার্বন ক্রেডিটের মতো বিষয়গুলোকে কার্যকর নীতিমালার আওতায় আনা উচিত।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়নে সাশ্রয়ী ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের সীমাবদ্ধতাকেও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছে বিএসআরইএ। সংগঠনটির মতে, প্রকল্পের প্রাথমিক বিনিয়োগ ব্যয়, উচ্চ সুদের হার, ব্যাংকিং প্রক্রিয়ার জটিলতা এবং ঋণ পরিশোধের সীমিত মেয়াদ অনেক ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত করে। এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অর্থায়ন প্রতিষ্ঠান, বহু পাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাংক, জলবায়ু তহবিল এবং দেশীয় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে স্বল্পসুদে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের সুযোগ তৈরির আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

এক প্রশ্নের উত্তরে বিএসআরইএ সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশে এখন নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বছরে দুই বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রয়োজন। এই খাতের বিনিয়োগগুলো হতে হবে দীর্ঘমেয়াদি। কিন্তু দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর রয়েছে মাত্র ১৫০০ কোটি টাকার সক্ষমতা। সে জন্য এই খাতে বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে আসার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে নীতি সহায়তা আরও দীর্ঘায়িত করতে হবে।

সরকার আগামী ৫ বছরে সৌরবিদ্যুৎ থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন বাড়াতে চাইছে। সেই হিসাবে প্রতিবছর দুই হাজার মেগাওয়াট হারে নতুন সক্ষমতা যোগ করতে হবে। ইতিমধ্যে নেট মিটারিং নীতি, ওপেক্স মডেলে বিনিয়োগ, ছাদের বিদ্যুৎ প্রতি ইউনিটে ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে প্রণোদনা মূল্যে কিনে নেওয়া, যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক কমিয়ে ১ শতাংশে নামিয়ে আনাসহ বিভিন্ন নীতি সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে।

বিএসআরইএ জানিয়েছে, সফরের মাধ্যমে দুই দেশের কোম্পানি, নীতিনির্ধারক, বিনিয়োগকারী ও গবেষকদের মধ্যে যোগাযোগের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ যোগাযোগকে কার্যকর অংশীদারত্বে রূপ দিতে সম্ভাবনাময় প্রকল্প চিহ্নিতকরণ, যৌথ উদ্যোগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও দক্ষতা উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ করতে চায় সংগঠনটি।

চার দিনের সফরে প্রতিনিধিদল

অস্ট্রেলীয় প্রতিনিধিদলের গত ২৪ থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত চার দিনের বাংলাদেশ সফরে দুই দেশের সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বিনিয়োগকারী ও জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে ধারাবাহিক বৈঠক ও আলোচনায় সৌরবিদ্যুৎ, ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ, রুফটপ সোলার এবং স্থানীয় উৎপাদন ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।

সফরের প্রথম দিন ২৪ অক্টোবর বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনের সঙ্গে বৈঠক করেন অস্ট্রেলীয় প্রতিনিধিরা। বৈঠকে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা নিয়ে আলোচনা হয়।

২৫ অক্টোবর ঢাকার একটি হোটেলে বাংলাদেশের ক্লিন এনার্জি বাজার নিয়ে ওরিয়েন্টেশন ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশের বিদ্যুৎ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের পরিস্থিতি, নীতিমালা, প্রকল্পের সম্ভাবনা, অর্থায়ন, রুফটপ সোলার এবং ব্যাটারি স্টোরেজ নিয়ে আলোচনা করা হয়। একই দিন বিএসআরইএর আয়োজনে সেমিনার ও ব্যবসায়িক যোগাযোগ সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে দুই দেশের কোম্পানিগুলোর মধ্যে ব্যবসায়িক আলোচনায় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প, ব্যাটারি স্টোরেজ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, স্থানীয় উৎপাদন ও যৌথ বিনিয়োগের সম্ভাবনা উঠে আসে।

২৬ অক্টোবর অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এবিসিসিআই) আয়োজনে ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস ও জ্বালানি রূপান্তর’ শীর্ষক সেমিনারে অংশ নেন প্রতিনিধিদল। একই দিন প্রতিনিধিদল বাণিজ্যমন্ত্রী ও বিদ্যুৎ সচিবের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন।

সফরের শেষ দিন মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) আয়োজিত ‘রিনিউয়েবল এনার্জি ফেস্ট ২০২৬ ’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও প্রদর্শনীতে অংশ নেন অস্ট্রেলীয় প্রতিনিধিরা। বিএসআরইএর আয়োজনে ‘ডায়ালগ উইথ দ্য অস্ট্রেলিয়ান ক্লিন এনার্জি ডেলিগেশন’ শীর্ষক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত