Ajker Patrika

ক্ষতিগ্রস্ত ১৭ হাজার বিনিয়োগকারীর অর্থ দেওয়া শুরু করেছে ডিএসই

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০: ৩২
ক্ষতিগ্রস্ত ১৭ হাজার বিনিয়োগকারীর অর্থ দেওয়া শুরু করেছে ডিএসই

ব্রোকারেজ হাউসের অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৭ হাজার ৩৩২ বিনিয়োগকারীকে ইনভেস্টরস প্রোটেকশন ফান্ড (আইপিএফ) থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত দিচ্ছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। আজ সোমবার ডিএসই আয়োজিত ‘আইপিএফ তহবিল বিতরণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের’ মাধ্যমে এই অর্থ ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান। তিনি বলেন, পাঁচটি সিকিউরিটিজ হাউসে ৪৯২ কোটি টাকার আর্থিক অস্বচ্ছতার ঘটনায় ১৭ হাজার ৯৬৭ জন বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পুঞ্জীভূত এই সমস্যার সমাধান প্রয়োজন ছিল। আইপিএফের অর্থ ফেরতের মাধ্যমে সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

মাসুদ খান বলেন, বিনিয়োগকারীদের অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়মের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সব ব্রোকারেজ হাউসের জন্য একটি ইউনিফায়েড ও নিরাপদ ব্যাক অফিস সফটওয়্যার চালু করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ব্রোকারেজ হাউসের ব্যাংক হিসাব ও কাস্টমার ক্লিয়ারিং অ্যাকাউন্টে থাকা অর্থের রিয়েল-টাইম তথ্য পাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। এতে প্রতিদিন অর্থের পুনর্মিলন করা সম্ভব হবে এবং ঘাটতি বা অনিয়ম দ্রুত শনাক্ত করা যাবে।

ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, শেয়ারের দাম কমা-বাড়া পুঁজিবাজারে স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু কোনো মধ্যস্থতাকারীর অনিয়মের কারণে বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত হলে বাজারের ওপর তাঁদের আস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে। পাঁচটি ব্রোকারেজ হাউস বিনিয়োগকারীদের অর্থ বা শেয়ার নিজেদের হিসাবে নেওয়ার পর তা ফেরত দিতে পারেনি। তিনি জানান, মোট ১৭ হাজার ৯৬৭ জন ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীর মধ্যে এ পর্যায়ে ১৭ হাজার ৩৩২ জনকে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত সম্পূর্ণ অর্থ দেওয়া হবে। যাঁদের পুরো অর্থ এ পর্যায়ে ফেরত দেওয়া সম্ভব হবে না, তাঁদের অর্থও আইনানুগ প্রক্রিয়ায় দ্রুত ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মমিনুল ইসলাম জানান, বিনিয়োগকারীদের কষ্টার্জিত অর্থ নিয়ে যে আর্থিক ও মানসিক ক্ষতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, তার জন্য তিনি দুঃখিত। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে বিএসইসি, দুই স্টক এক্সচেঞ্জ, সিডিবিএল, ব্রোকারেজ হাউসসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, আইপিএফের অর্থের প্রধান উৎস ব্রোকারদের ট্রেড কমিশন ও কাস্টমার কনসোলিডেটেড অ্যাকাউন্টের সুদের ২৫ শতাংশ। ব্রোকারেজ হাউসগুলোর অবদান ছাড়া এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন সম্ভব হতো না।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত