Ajker Patrika

করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর দাবি ফিকির

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর দাবি ফিকির
ছবি: সংগৃহীত

করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সংগঠন ফরেইন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ফিকি)। পাশাপাশি সংগঠনটি নিম্ন আয়ের স্তরের কর কাঠামো পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাবও দিয়েছে।

আসন্ন জাতীয় বাজেট সামনে রেখে আজ সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআর ভবনে প্রাক-বাজেট আলোচনায় এ আহ্বান জানায় সংগঠনটি। এতে সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান। অনুষ্ঠানে ফিকির সভাপতি রুপালী হক চৌধুরী ছাড়াও সংগঠনটির শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনায় ফিকির নেতারা দেশে স্বচ্ছ, পূর্বানুমানযোগ্য ও বিনিয়োগবান্ধব করব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান। ফিকির পক্ষে বাজেট প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন করবিদ ও চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট প্রতিষ্ঠান স্নেহাশীষ মাহমুদ অ্যান্ড কোম্পানির অংশীদার স্নেহাশীষ বড়ুয়া। তিনি বলেন, টেকসই বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং রাজস্ব আহরণ বাড়াতে একটি যৌক্তিক ও দক্ষ কর কাঠামো অপরিহার্য। উচ্চ হারে উৎসে কর এবং ব্যয়ের বড় অংশ অগ্রহণযোগ্য ঘোষণার ফলে প্রকৃত করের হার আইনগত হারের চেয়েও বেড়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে বের হতে উৎসে কর হার যৌক্তিক করা এবং প্রকৃত কর দায়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য আনার সুপারিশ করেছে সংগঠনটি।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, ব্যক্তিগত কর ব্যবস্থায় করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো প্রয়োজন। পাশাপাশি নিম্ন আয়ের স্তরের কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস করা প্রয়োজন, যাতে বেতনভুক্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ওপর চাপ কমে এবং ভোগব্যয় ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম বাড়ে।

ফিকির অভিযোগ, প্রশাসনিক জটিলতা ও বিধির কঠোর ব্যাখ্যার কারণে অনেক ক্ষেত্রে বৈধ ভ্যাট ইনপুট ক্রেডিট পাওয়া যাচ্ছে না, যা নিয়ম মেনে চলা ব্যবসার জন্য কার্যকর মূলধনে চাপ সৃষ্টি করছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভ্যাট ক্রেডিট ব্যবস্থা সহজ করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক হিসাব মান অনুসরণকারী ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে মুশক-৪.৩ জমা দেওয়া থেকে অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব করেছে ফিকি।

কাস্টমস ব্যবস্থায় ২০০০ সালের ভ্যালুয়েশন রুলস অনুযায়ী লেনদেনমূল্য কঠোরভাবে অনুসরণের আহ্বান জানায় ফিকি। একই সঙ্গে পণ্য ছাড়ে বিলম্ব কমাতে ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে প্রভিশনাল অ্যাসেসমেন্টের ব্যবহার বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়। অথরাইজড ইকোনমিক অপারেটর কার্যক্রম সহজ করা এবং এতে অংশগ্রহণ বাড়াতে সুস্পষ্ট সুবিধা দেওয়ার কথাও তুলে ধরে সংগঠনটি।

ফিকি মনে করে, আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমসকে একত্রে সংযুক্ত করে একটি সমন্বিত ডিজিটাল করব্যবস্থা গড়ে তুললে দক্ষতা বাড়বে, পুনরাবৃত্তি কমবে এবং তথ্যভিত্তিক তদারকি সম্ভব হবে।

সংগঠনটি আরও উল্লেখ করেছে, বর্তমানে করের বোঝা মূলত নিয়ম মেনে চলা করদাতাদের ওপরই বেশি পড়ছে। তাই করজাল সম্প্রসারণ, ব্যবসার আনুষ্ঠানিকীকরণ এবং সহজ কর প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার মাধ্যমে নতুন করদাতা অন্তর্ভুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

ফিকি সভাপতি রুপালী হক বলেন, আগামী নভেম্বরে এলডিসি উত্তরণের প্রাক্কালে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দাঁড়িয়ে আছে। বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে একটি মানসম্মত, পূর্বানুমানযোগ্য ও স্বয়ংক্রিয় করব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। তিনি বলেন, ঝুঁকিভিত্তিক নিরীক্ষা পদ্ধতি চালু করলে নিয়ম মেনে চলা করদাতাদের ওপর চাপ কমবে এবং কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে কার্যকর নজরদারি করতে পারবে।

এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান বলেন, ‘গত বছর ফিকির অনেকগুলো বাজেট প্রস্তাবনা আমরা আমলে নিয়েছি। আগামী বছর করপোরেট ট্যাক্স রিটার্ন পুরোপুরি অনলাইনে চলে আসবে। কর হয়রানি কমাতে আমরা নানান উদ্যোগ নিয়েছি।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত