Ajker Patrika

অপরিকল্পিত স্থানান্তরের মাশুল দিচ্ছে চামড়াশিল্প

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা
অপরিকল্পিত স্থানান্তরের মাশুল দিচ্ছে চামড়াশিল্প
গত শুক্রবার সাভারের চামড়াশিল্প নগরীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) পরিদর্শন করেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মোক্তাদির। ছবি: আজকের পত্রিকা

দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাত চামড়াশিল্প প্রত্যাশিত গতি পায়নি। রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি কারখানা স্থানান্তরের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার যে লক্ষ্য ছিল, বাস্তবে তা পুরোপুরি অর্জিত হয়নি। বরং অপরিকল্পিত বাস্তবায়ন ও অব্যবস্থাপনার কারণে মাঝপথে হারিয়ে গেছে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পুরো খাতের বিকাশ।

শিল্প, বাণিজ্য এবং পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মোক্তাদির বলেছেন, হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। কারণ, উচ্চমাত্রার বর্জ্য উৎপন্ন হওয়া এ শিল্প এমন স্থানে পরিচালিত হওয়া প্রয়োজন, যেখানে আধুনিক বর্জ্য শোধনের সব সুবিধা রয়েছে। তবে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া ছিল অপরিকল্পিত ও অবহেলাপূর্ণ। এর ফলে চামড়া খাত কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে এবং অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান মাঝপথেই হারিয়ে গেছে।

ঈদুল আজহার পরদিন গত শুক্রবার সাভারের বিসিক চামড়া শিল্পনগরীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, দেশের সংগৃহীত সব চামড়া সঠিকভাবে প্রক্রিয়াজাত ও রপ্তানি করা গেলে এ খাত থেকে বছরে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার আয় সম্ভব। এ কারণে সরকার চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

তবে সেই সম্ভাবনা বাস্তবায়নের পথে এখনো বড় বাধা হয়ে রয়েছে শিল্পনগরীর পরিবেশ ব্যবস্থাপনা। মন্ত্রী জানান, ট্যানারিগুলোর তরল বর্জ্য শোধনের জন্য স্থাপিত সিইটিপির দৈনিক পরিশোধন সক্ষমতা প্রায় ২৫ হাজার ঘনমিটার। অথচ উৎপাদনের সর্বোচ্চ সময়ে প্রতিদিন ৪০-৫০ হাজার ঘনমিটার বর্জ্য তৈরি হয়। ফলে বিদ্যমান সক্ষমতা চাহিদার তুলনায় অনেক কম।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার দুটি বিষয়ে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। প্রথমত, সিইটিপিকে পরিকল্পিত দৈনিক ২৫ হাজার ঘনমিটার বর্জ্য শোধন সক্ষমতায় ফিরিয়ে আনা এবং ক্রোমিয়াম পুনরুদ্ধার ব্যবস্থার উন্নয়ন। দ্বিতীয়ত, স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় ঝরে পড়া ও ঋণের সংকটে দুর্বল হয়ে পড়া চামড়াশিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ।

মন্ত্রী জানান, চামড়াশিল্পের পরিবেশগত মান উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের (সিইটিপি) কার্যক্রমে ইতালিকে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

পরিদর্শন শেষে তিনি শিল্পনগরীর দাপ্তরিক কার্যালয় ও বে-ট্যানারি কারখানা ঘুরে দেখেন এবং মালিকদের সঙ্গে শিল্পের বর্তমান অবস্থা, উৎপাদন কার্যক্রম ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করেন।

এ সময় শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান, বিসিক চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলামসহ মন্ত্রণালয় ও বিসিকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত