সাবিনা খাতুন

দেশে নারী ফুটবলের যাত্রাকালে কোচদের একটাই নির্দেশনা ছিল—‘বল যতটা জাম্বুরা করে খেলো, যত বল ওপরে রাখতে পারো, বল পেলেই উড়োধুড়ো মারো!’ তখন ছোটন স্যার ছিলেন, সান্টু স্যার ছিলেন। নতুন কিছু শুরু হলে দৃশ্যটা কেমন হয় সবাই অনুমান করতে পারছেন। ২০১৪ সাল থেকে আমরা বল ধরে খেলা শুরু করলাম। ২০১৫-১৬ সালে বয়সভিত্তিক ফুটবলে সাফল্য পাওয়া শুরু। ফেডারেশন তা ধরে রাখার চেষ্টা করে। দীর্ঘমেয়াদি ক্যাম্পের ব্যবস্থা করা হলো। আমার মতে, নারী ফুটবলের ঘুরে দাঁড়ানো ২০১৬ সাল থেকেই। সেই দীর্ঘমেয়াদি ক্যাম্পটাই এতটা প্রভাব রেখেছে।
তখনকার এবং বর্তমানের ফুটবলের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। তখন বলা হতো ‘জাম্বুরা’ দর্শনের ফুটবল খেলো, যেন পজিশন ধরে রেখে খেলি। আমাদের খেলার ধরন অনেক পাল্টে গেছে।
নারী ফুটবলের শুরুর দিকে সুযোগ-সুবিধাটাই মুখ্য ছিল। ফুটবল খেলে তখন আর্থিক লাভ হতো না। অনেক নারী ফুটবলার অভিমানে ফুটবলকে বিদায় বলেছেন। তখন পারিবারিক-পারিপার্শ্বিক সমর্থনটাও তেমন পাওয়া যেত না, যেমনটা এখনকার মেয়েরা পাচ্ছে। সে সময় ফেডারেশনও আর্থিক সহায়তা দিতে পারত না, মেয়েদের জন্য পৃষ্ঠপোষকতা মিলত না। আমরা সেভাবে সুযোগ-সুবিধা পেতাম না। ফলটাও মুখ্য। যখন আপনি সাফল্য দেখাতে শুরু করবেন, তখন অনেকেই আগ্রহ দেখানো শুরু করবে। শুরুতে আন্তর্জাতিক খেলা কম হতো, এখনো তা-ই। তবে একটা বিষয় তখন ইতিবাচক ছিল, জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপটা নিয়মিত হতো, যেটা এখন দেখা যায় না।
নতুন কিছু শুরু করতে গেলে কিন্তু আপনি চাইলেও সহজে লোকবল পাবেন না। খেলোয়াড়েরাও আগ্রহী হয় না। তবে তখন আনসার-ভিডিপি, বিজেএমসি ছিল। নারী ফুটবলের উন্নয়নে এসব প্রতিষ্ঠানের অবদান খাটো করে দেখা যায় না। তারা নারী ফুটবলারদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করত। পারিশ্রমিক কম দিলেও তারা অনেক নারী ফুটবলারকে ধরে রাখতে পেরেছিল। কয়েকজন কোচের নাম না বললেই নয়। যেমন আমার কোচ ছিলেন প্রয়াত আকবর আলী স্যার। তাঁরা মেয়েদের কুড়িয়ে এনে জোর করে ফুটবল খেলা শেখাতেন। তাঁদের উদ্যোগ ও পরিশ্রমকে সাধুবাদ জানানো দরকার। তাঁদের মতো মানুষ ছিলেন বলেই নারী ফুটবলের পথটা মসৃণ হয়েছে। মা-বাবারা এখন চান তাঁদের মেয়েরা ফুটবল খেলুক।
গোলাম রব্বানী ছোটন স্যারের ভূমিকা কখনোই ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। এগুলো অতুলনীয়। মেয়েরা তাঁকে ভীষণ মিস করে। ফুটবলে তিনি হয়তো খুব হাইপ্রোফাইল কোচ ছিলেন না; কিন্তু মেয়েদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কটা ছিল আত্মিক। মেয়েদের কীভাবে উজ্জীবিত করতে হয়, সেটা তিনি ছাড়া সম্ভবত আর কেউ ভালো জানেন না।
আমার কাছে ফুটবলই ভালোবাসা ছিল। টাকাপয়সা হয়তো খুব বেশি পেতাম না। কিন্তু এ নিয়ে তেমন মাথা ঘামাইনি। ফুটবল আমার কাছে একটা নেশার মতো। কী পেয়েছি, না পেয়েছি—এসব চিন্তা মাথায় না নিয়েই খেলে গেছি। মালদ্বীপের লিগে মাত্র ৫০০ ডলার নিয়ে খেলেছি। টাকাটা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। আমি যে একটা রেকর্ড গড়েছি, এটাই ছিল আমার কাছে সবচেয়ে বড় বিষয়। এখন সবাই যেমন বলে সাবিনা বাইরের লিগে প্রথম ফুটবলার। এটাই তো একটা বড় অর্জন, একটা ইতিহাস। বিষয়টা আমাকে একটা ভালো লাগার অনুভূতি উপহার দিত। এটা মেনেই এত দূর আসা। আর এখন তো সাফল্য আসা শুরু করেছে। মেয়েরাও আর্থিকভাবে সমর্থন পেতে শুরু করেছে। মেয়েরা অন্তত এখন একটা ভালো জায়গায় আছে।
তবে উন্নতিটা ধরে রাখতে হলে বেশি বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে হবে, যেটা আমরা একেবারেই পাই না। আন্তর্জাতিক ম্যাচের কোনো বিকল্প নেই। বিশ্বের বড় দলগুলো অনেক ম্যাচ খেলে। আমাদের এই জায়গাটা আরও মজবুত হওয়া দরকার। তবে এখন যে অবস্থাটা আছে, সেটা গত ১২-১৩ বছরের তুলনায় যথেষ্ট ভালো। এশিয়ান গেমসে আমরা বড় বড় দলের বিপক্ষে কয়েকটি ম্যাচ খেলব। যেহেতু দক্ষিণ এশিয়ায় আমাদের সাফল্য আছে, এবার লক্ষ্যটা এশিয়ান পর্যায়ে হওয়া উচিত।
লেখক: অধিনায়ক, জাতীয় নারী ফুটবল দল

দেশে নারী ফুটবলের যাত্রাকালে কোচদের একটাই নির্দেশনা ছিল—‘বল যতটা জাম্বুরা করে খেলো, যত বল ওপরে রাখতে পারো, বল পেলেই উড়োধুড়ো মারো!’ তখন ছোটন স্যার ছিলেন, সান্টু স্যার ছিলেন। নতুন কিছু শুরু হলে দৃশ্যটা কেমন হয় সবাই অনুমান করতে পারছেন। ২০১৪ সাল থেকে আমরা বল ধরে খেলা শুরু করলাম। ২০১৫-১৬ সালে বয়সভিত্তিক ফুটবলে সাফল্য পাওয়া শুরু। ফেডারেশন তা ধরে রাখার চেষ্টা করে। দীর্ঘমেয়াদি ক্যাম্পের ব্যবস্থা করা হলো। আমার মতে, নারী ফুটবলের ঘুরে দাঁড়ানো ২০১৬ সাল থেকেই। সেই দীর্ঘমেয়াদি ক্যাম্পটাই এতটা প্রভাব রেখেছে।
তখনকার এবং বর্তমানের ফুটবলের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। তখন বলা হতো ‘জাম্বুরা’ দর্শনের ফুটবল খেলো, যেন পজিশন ধরে রেখে খেলি। আমাদের খেলার ধরন অনেক পাল্টে গেছে।
নারী ফুটবলের শুরুর দিকে সুযোগ-সুবিধাটাই মুখ্য ছিল। ফুটবল খেলে তখন আর্থিক লাভ হতো না। অনেক নারী ফুটবলার অভিমানে ফুটবলকে বিদায় বলেছেন। তখন পারিবারিক-পারিপার্শ্বিক সমর্থনটাও তেমন পাওয়া যেত না, যেমনটা এখনকার মেয়েরা পাচ্ছে। সে সময় ফেডারেশনও আর্থিক সহায়তা দিতে পারত না, মেয়েদের জন্য পৃষ্ঠপোষকতা মিলত না। আমরা সেভাবে সুযোগ-সুবিধা পেতাম না। ফলটাও মুখ্য। যখন আপনি সাফল্য দেখাতে শুরু করবেন, তখন অনেকেই আগ্রহ দেখানো শুরু করবে। শুরুতে আন্তর্জাতিক খেলা কম হতো, এখনো তা-ই। তবে একটা বিষয় তখন ইতিবাচক ছিল, জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপটা নিয়মিত হতো, যেটা এখন দেখা যায় না।
নতুন কিছু শুরু করতে গেলে কিন্তু আপনি চাইলেও সহজে লোকবল পাবেন না। খেলোয়াড়েরাও আগ্রহী হয় না। তবে তখন আনসার-ভিডিপি, বিজেএমসি ছিল। নারী ফুটবলের উন্নয়নে এসব প্রতিষ্ঠানের অবদান খাটো করে দেখা যায় না। তারা নারী ফুটবলারদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করত। পারিশ্রমিক কম দিলেও তারা অনেক নারী ফুটবলারকে ধরে রাখতে পেরেছিল। কয়েকজন কোচের নাম না বললেই নয়। যেমন আমার কোচ ছিলেন প্রয়াত আকবর আলী স্যার। তাঁরা মেয়েদের কুড়িয়ে এনে জোর করে ফুটবল খেলা শেখাতেন। তাঁদের উদ্যোগ ও পরিশ্রমকে সাধুবাদ জানানো দরকার। তাঁদের মতো মানুষ ছিলেন বলেই নারী ফুটবলের পথটা মসৃণ হয়েছে। মা-বাবারা এখন চান তাঁদের মেয়েরা ফুটবল খেলুক।
গোলাম রব্বানী ছোটন স্যারের ভূমিকা কখনোই ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। এগুলো অতুলনীয়। মেয়েরা তাঁকে ভীষণ মিস করে। ফুটবলে তিনি হয়তো খুব হাইপ্রোফাইল কোচ ছিলেন না; কিন্তু মেয়েদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কটা ছিল আত্মিক। মেয়েদের কীভাবে উজ্জীবিত করতে হয়, সেটা তিনি ছাড়া সম্ভবত আর কেউ ভালো জানেন না।
আমার কাছে ফুটবলই ভালোবাসা ছিল। টাকাপয়সা হয়তো খুব বেশি পেতাম না। কিন্তু এ নিয়ে তেমন মাথা ঘামাইনি। ফুটবল আমার কাছে একটা নেশার মতো। কী পেয়েছি, না পেয়েছি—এসব চিন্তা মাথায় না নিয়েই খেলে গেছি। মালদ্বীপের লিগে মাত্র ৫০০ ডলার নিয়ে খেলেছি। টাকাটা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। আমি যে একটা রেকর্ড গড়েছি, এটাই ছিল আমার কাছে সবচেয়ে বড় বিষয়। এখন সবাই যেমন বলে সাবিনা বাইরের লিগে প্রথম ফুটবলার। এটাই তো একটা বড় অর্জন, একটা ইতিহাস। বিষয়টা আমাকে একটা ভালো লাগার অনুভূতি উপহার দিত। এটা মেনেই এত দূর আসা। আর এখন তো সাফল্য আসা শুরু করেছে। মেয়েরাও আর্থিকভাবে সমর্থন পেতে শুরু করেছে। মেয়েরা অন্তত এখন একটা ভালো জায়গায় আছে।
তবে উন্নতিটা ধরে রাখতে হলে বেশি বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে হবে, যেটা আমরা একেবারেই পাই না। আন্তর্জাতিক ম্যাচের কোনো বিকল্প নেই। বিশ্বের বড় দলগুলো অনেক ম্যাচ খেলে। আমাদের এই জায়গাটা আরও মজবুত হওয়া দরকার। তবে এখন যে অবস্থাটা আছে, সেটা গত ১২-১৩ বছরের তুলনায় যথেষ্ট ভালো। এশিয়ান গেমসে আমরা বড় বড় দলের বিপক্ষে কয়েকটি ম্যাচ খেলব। যেহেতু দক্ষিণ এশিয়ায় আমাদের সাফল্য আছে, এবার লক্ষ্যটা এশিয়ান পর্যায়ে হওয়া উচিত।
লেখক: অধিনায়ক, জাতীয় নারী ফুটবল দল

উন্নত বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও মানুষ ধীরে ধীরে ক্যাশলেস লেনদেনের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছে, যা অর্থনীতির আধুনিকায়নের পথে গুরুত্বপূর্ণ একটি অগ্রগতি। এটি শুধু সময় সাশ্রয় করে না, বরং নিরাপদ, স্বচ্ছ ও কার্যকর অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
২০ মার্চ ২০২৫
সিটি ব্যাংক ২০০৪ সালে প্রথম ক্রেডিট কার্ড ইস্যু করে এবং ২০০৯ সালে আমেরিকান এক্সপ্রেস (অ্যামেক্স) কার্ড ইস্যুয়ার ও অ্যাকুয়ারার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। প্রথম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লাউঞ্জ-সুবিধা চালু করার মাধ্যমে ক্রেডিট কার্ড খাতে উদ্ভাবনী সেবা প্রদান করে, যা সিটি ব্যাংককে শীর্ষ স্থানে নিয়ে আসে। বর্তম
২০ মার্চ ২০২৫
ক্রেডিট কার্ডের জগতে প্রতিযোগিতার ছড়াছড়ি। সেখানে কীভাবে ঢাকা ব্যাংক তার অবস্থান ধরে রেখেছে, ভবিষ্যৎ কী পরিকল্পনা, জানিয়েছেন ঢাকা ব্যাংকের এমডি শেখ মোহাম্মদ মারুফ। তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন আজকের পত্রিকার সিনিয়র রিপোর্টার...
২০ মার্চ ২০২৫
বাংলাদেশে যাত্রা শুরুর পর মাস্টারকার্ড এখন কোন অবস্থানে রয়েছে, গ্রাহকের সেবার মান ও নিরাপত্তার ধরন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আজকের পত্রিকার সঙ্গে কথা বলেছেন মাস্টারকার্ডের কান্ট্রি ম্যানেজার সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন
২০ মার্চ ২০২৫