ঠাকুরগাঁও-১ আসনে চলছে ভোট গ্রহণ: কর্মকর্তাদের কার্ডে ছবি না থাকায় উদ্বিগ্ন দেলাওয়ার

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ১৮৫টি কেন্দ্রে একযোগে ভোট গ্রহণ চলছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এ ভোট গ্রহণ চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ভোটের শুরুতে নিজ নিজ কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন ও ১১-দলীয় ঐক্য-সমর্থিত জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন। ফয়সল আমীন জয়ের ব্যাপারে ‘শতভাগ’ আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। অন্যদিকে, প্রিসাইডিং ও সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের পরিচয়পত্রে ছবি না থাকায় উদ্বেগ জানিয়েছেন দেলাওয়ার হোসেন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রের ৯৮৯টি কক্ষে ভোট গ্রহণ হচ্ছে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন ২১ প্লাটুন বিজিবি, ২ হাজার ২৭২ জন পুলিশ সদস্য ও ২ হাজার ৪০৫ জন আনসার সদস্য। এ ছাড়া নির্বাচনী আচরণবিধি ও অনিয়ম তদারকিতে রয়েছেন বিচারিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা। চারজন বিদেশি পর্যবেক্ষকসহ মোট ১৭৭ জন পর্যবেক্ষক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছেন।
জয়ে ‘শতভাগ’ আশাবাদী ফয়সল আমীন
বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন। ভোট দিতে যাওয়ার আগে তিনি মা-বাবার কবর জিয়ারত করেন।
ভোট দেওয়া শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জয়ের ব্যাপারে নিরঙ্কুশ আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। ফয়সল আমীন বলেন, ‘প্রত্যাশা তো অবশ্যই জয়। আমরা নিরঙ্কুশ জয় লাভ করব, ইনশা আল্লাহ।’ জয়ের সম্ভাবনা সম্পর্কে পুনরায় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তিনবার বললাম, শতভাগ।’
প্রশাসনের চিহ্নিত ১১৫টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ প্রশ্নের উত্তর প্রশাসনই দেবে। আমার কাছে সব ভোটারই সমান। তারা শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে আগ্রহী। প্রশাসন প্রয়োজনে নিজস্ব ব্যবস্থা নেবে।’
আবহাওয়া কিছুটা খারাপ থাকলেও ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অন্যদিকে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হাজীপাড়া আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন ১১-দলীয় ঐক্য-সমর্থিত জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন। তিনি ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
ভোট দেওয়া শেষে নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন দেলাওয়ার হোসেন। তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্রের প্রিসাইডিং ও সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের গলায় থাকা পরিচয়পত্রে ছবি নেই।
দেলাওয়ার হোসেন বলেন, ‘এখানে যিনি প্রিসাইডিং অফিসার এবং সহকারী প্রিসাইডিং অফিসাররা আছেন, তাঁদের গলার কার্ডে কোনো ছবি নেই। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার যদি ছবি না থাকে, তবে উনি আসল ব্যক্তি নাকি প্রক্সি দিচ্ছেন, তা বোঝার উপায় নেই। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।’
এ বিষয়ে দ্রুত হস্তক্ষেপ করতে রিটার্নিং কর্মকর্তার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
কিছু কেন্দ্র থেকে পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়ার খবর পাওয়ার কথাও জানান দেলাওয়ার হোসেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সাধারণ ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ভয়ভীতি উপেক্ষা করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাহসিকতার সঙ্গে ভোটকেন্দ্রে আসুন এবং পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে স্বপ্নের ঠাকুরগাঁও গড়ার ভূমিকা রাখুন।’
দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, ‘একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নির্ভর করছে সরকার, প্রশাসন ও নির্বাচন পরিচালনা পর্ষদের সদিচ্ছার ওপর। তারা আন্তরিক হলে অবাধ নির্বাচন সম্ভব। অন্যথায় ৫ আগস্টের পূর্বে মানুষের মধ্যে যে অনাগ্রহ তৈরি হয়েছিল, নির্বাচনব্যবস্থা নিয়ে আবার সেই চিত্র দেখা যাবে।’







-b472b8-256x144.webp)
