Ajker Patrika

ভালোবাসা দিবসে জাঁকজমক আয়োজনে প্রিয় শিক্ষককে বিদায়

বালিয়াডাঙ্গী (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি
ভালোবাসা দিবসে জাঁকজমক আয়োজনে প্রিয় শিক্ষককে বিদায়
ফুল দিয়ে সাজানো ছাদখোলা মাইক্রোবাসে বিদায়ী প্রধান শিক্ষক ইউসুফ আলী। ছবি: আজকের প্রত্রিকা

ভালোবাসা দিবসে প্রিয় শিক্ষককে জাঁকজমক আয়োজনে বিদায় জানিয়েছেন প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। ফুল দিয়ে সাজানো ছাদখোলা মাইক্রোবাসে করে তাঁকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়। পেছনে ছিল শতাধিক মোটরসাইকেলের বহর—যা চোখে পড়ার মতো দৃশ্য। শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়পলাশবাড়ী ইউনিয়নের কাশুয়া খাদেমগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ আয়োজন করা হয়।

সম্প্রতি অবসর নেওয়া বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক ইউসুফ আলীকে এমন ব্যতিক্রমী আয়োজনে বিদায় জানান প্রায় ৫০০ প্রাক্তন শিক্ষার্থী।

দুপুরে বিদ্যালয় মাঠে বিদায়ী সংবর্ধনা ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জয়নাল আবেদিন। বক্তব্য দেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম, কাদিহাট উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুলতান আলী মানিক, বালিয়াহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জিল্লুর রহমানসহ আশপাশের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা।

প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা বলেন, সীমান্তবর্তী প্রত্যন্ত এলাকার এ বিদ্যালয়টিকে তিন দশকে আলোকিত করেছেন ইউসুফ আলী স্যার। তাঁর হাত ধরে গড়ে উঠেছেন বহু চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিক্ষক ও সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা। তাঁরা এখন বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালন করে এলাকার মানুষের সেবা করছেন। তাঁর অবদানে কাশুয়া খাদেমগঞ্জসহ আশপাশের গ্রামগুলো শিক্ষায় এগিয়ে গেছে।

বিদায়ী প্রধান শিক্ষক ইউসুফ আলী। ছবি: আজকের প্রত্রিকা
বিদায়ী প্রধান শিক্ষক ইউসুফ আলী। ছবি: আজকের প্রত্রিকা

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, ‘এই বিদ্যালয়ের সঙ্গে আমাদের অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। ইউসুফ স্যারের শাসন, ভালোবাসা ও যত্ন আজ আমাদের ভালো জায়গায় পৌঁছাতে সহায়ক হয়েছে। আমরা যেন তাঁকে প্রাপ্য সম্মান দিই এবং কখনো অবহেলা না করি।’

বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিদায়ী প্রধান শিক্ষক ইউসুফ আলী। তিনি বলেন, ‘জীবনের শেষ সময়ে এত ভালোবাসায় বিদায় পাব, তা স্বপ্নেও ভাবিনি। শিক্ষার্থীদের জন্য জীবনের সর্বোচ্চ দেওয়ার চেষ্টা করেছি। মহান আল্লাহ আমাকে সেই কর্মের ফল দিয়েছেন। বাকি জীবন এই ভালোবাসা নিয়েই কাটাতে চাই।’

ইউসুফ আলী কাশুয়া খাদেমগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। পরে পদোন্নতি পেয়ে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৩ ফেব্রুয়ারি ছিল তাঁর শেষ কর্মদিবস।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত