Ajker Patrika

৮৮৮ স্কুলের নেই প্রধান শিক্ষক, ব্যাহত পাঠদান

  • জেলায় ১ হাজার ৬২৩ বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রধান শিক্ষক আছেন ৭৩৫টিতে।
  • প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক মিলিয়ে ১ হাজার ৪৫৯টি পদ শূন্য।
আনোয়ার সাদাৎ ইমরান, টাঙ্গাইল 
৮৮৮ স্কুলের নেই প্রধান শিক্ষক, ব্যাহত পাঠদান

টাঙ্গাইল জেলায় অর্ধেকের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। ১২ উপজেলায় ১ হাজার ৬২৩ বিদ্যালয়ের মধ্যে ৮৮৮টিই প্রধান শিক্ষক ছাড়া চলছে। সহকারী শিক্ষকের আরও ৫৭১ পদ খালি। সব মিলিয়ে ১ হাজার ৪৫৯ শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এমনকি কোনো বিদ্যালয়ে শিক্ষকের পদসংখ্যা পাঁচজন থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র দুজন। তাঁদের মধ্যে একজনকে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের। ফলে বাকি এক শিক্ষক দিয়ে সব শ্রেণির পাঠদান করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নিয়োগ, পদোন্নতিসহ নানা জটিলতায় এই সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ঘাটাইল উপজেলায় ১৭২ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১১০টির প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। সখীপুরে ১৪৭ প্রধান শিক্ষক পদের মধ্যে ফাঁকা ২৪টি, গোপালপুরের ১৬১ জনের মধ্যে ১২৬, বাসাইলে ৭৯ জনের মধ্যে ৩০, সদরে ১৬৩ জনের মধ্যে ৭৪, দেলদুয়ারে ১০০ জনের মধ্যে ৬৩, মির্জাপুরে ১৭০ জনের মধ্যে ৬০, কালিহাতীতে ১৭০ জনের মধ্যে ১১২, মধুপুরে ১১০ জনের মধ্যে ৭৩, নাগরপুরে ১৫৬ জনের মধ্যে ১০৫, ভূঞাপুরে ১১০ জনের মধ্যে ৭৫ এবং ধনবাড়ী উপজেলায় ৮৫ জনের মধ্যে ৩৬ জন প্রধান শিক্ষকের পদ ফাঁকা রয়েছে। কর্মরত আছেন ৭৩৫ জন প্রধান শিক্ষক।

এ ছাড়া জেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের অনুমোদিত পদ সংখ্যা ৯ হাজার ৬৮। এগুলোর মধ্যে পদ শূন্য রয়েছে ঘাটাইলে ৮৫, সখীপুরে ২৯, গোপালপুরে ৮১, বাসাইলে ১৩, সদরে ৪১, দেলদুয়ারে ৪৬, মির্জাপুরে ৫০, কালিহাতীতে ৬৪, মধুপুরে ২৭, নাগরপুরে ৬৫, ভূঞাপুরে ৫৪ ও ধনবাড়ী উপজেলায় ১৬টি। সব মিলিয়ে জেলায় মোট ৫৭১টি সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য আছে। কর্মরত আছেন ৮ হাজার ৪৯৭ জন সহকারী শিক্ষক।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার একাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে, যেগুলোতে পাঁচজন শিক্ষকের পদ থাকলেও কর্মরত আছেন দুজন বা তিনজন। এমনকি প্রধান শিক্ষকের পদও ফাঁকা। ফলে একজন সহকারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে হয়। এ জন্য তাঁর পক্ষে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান করানো সম্ভব হয় না এবং শ্রেণিশিক্ষকের ঘাটতি আরও বেড়ে যায়।

ঘাটাইলের খাজনাগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক) নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের বিদ্যালয়ে শিক্ষকের পদসংখ্যা পাঁচজন হলেও কর্মরত মাত্র দুজন। এর মধ্যে আমাকে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে, দাপ্তরিক অনেক কাজের জন্য বিভিন্ন সময় ব্যস্ত থাকতে হয়। ফলে বাকি একজন শিক্ষকের পক্ষে সব শ্রেণির, সব বিষয়ের পাঠদান অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে শিক্ষার্থীরাও লেখাপড়ায় পিছিয়ে পড়ছে। অনেক অভিভাবক তাঁদের সন্তানদের অন্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করাচ্ছেন।’

মধুপুরের বরইকুড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শাপলা খাতুন বলেন, ‘আমাদের বিদ্যালয়ে পাঁচ শিক্ষকের মধ্যে তিনজন অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) গেছেন। একজনকে প্রেষণে (ডেপুটেশন) অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। তিনি আগামী মাসে চলে যাবেন। ফলে মাত্র একজন শিক্ষক থাকবেন বিদ্যালয়টিতে। এভাবে বিদ্যালয় পরিচালনা ও পাঠদান করা কঠিন হয়ে পড়েছে।’

শুবকচনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা শাহিদা খাতুন বলেন, ‘আমাদের প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। আমরা মহাবিপদের মধ্যে আছি। সকাল ৯টা থেকে ৪টা পর্যন্ত টানা ক্লাস করাতে হয়। অধিকাংশ সময়ই দুজন শিক্ষক থাকেন।’

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী জাকিয়া খাতুন বলে, ‘আমাদের এক ক্লাসে শিক্ষক আসেন, পড়া দিয়ে আরেক ক্লাসে যান। সেখানে কাজ দিয়ে এসে আমাদের পড়া নেন। পরে আবার চলে যান আরেক ক্লাসে। এভাবে লেখাপড়া ঠিকমতো হয় না। জরুরি ভিত্তিতে শিক্ষক দেওয়া প্রয়োজন।’

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলা শাখার সভাপতি বাশিরুল ইসলাম বলেন, ‘একজন শিক্ষককে সপ্তাহে ২৫ থেকে ৩০টি ক্লাস নিতে হয়। শিক্ষক ঘাটতি থাকা বিদ্যালয়ে ৩৫ থেকে ৪০টিও নিতে হয়। ফলে শিক্ষকের শ্রেণিকক্ষে শেখানো কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত সময় ও শিক্ষার্থীর শিখন নিশ্চিত করা যায় না।’

টাঙ্গাইল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহীন মিয়া আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘শিক্ষকসংকটের কারণে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদানসহ নানা সমস্যা হচ্ছে। শূন্য পদের বেশির ভাগই প্রান্তিক ও দুর্গম অঞ্চলের বিদ্যালয়ের। সংযুক্তির মাধ্যমে শিক্ষক সমন্বয় করে সমাধানের চেষ্টা চলছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত