Ajker Patrika

ককটেল-বাসে আগুনে জড়িত আ.লীগের নেতা-কর্মীরা: পুলিশের দাবি

জয়নাল আবেদীন, ঢাকা
ককটেল-বাসে আগুনে জড়িত আ.লীগের নেতা-কর্মীরা: পুলিশের দাবি
ফাইল ছবি

রাজধানী ঢাকায় গত শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত তিন দিনে বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুনের ঘটনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে দাবি পুলিশের। পুলিশ বলেছে, কয়েকটি ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাথমিক তদন্তে এমন তথ্য মিলেছে।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ওই তিন দিনে মালিবাগ, আগারগাঁও, মহাখালী, যাত্রাবাড়ী, নিউমার্কেট, বাবুবাজার, কমলাপুর স্টেশন, মগবাজার, মৎস্য ভবন মোড়, শিল্পকলা একাডেমি, সুপ্রিম কোর্টের ফটকের সামনে ও রামপুরায় বিটিভি ভবনের সামনেসহ ১২টির বেশি স্থানে অন্তত ৩২টি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। ওই তিন দিনে কাফরুল থানার সামনে, মিরপুর-১১, মিরপুর-১, মধ্য বাড্ডা, পল্লবী ও আজিমপুরে ছয়টি বাসে আগুনের ঘটনা ঘটে ও অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করা হয়। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা হয়েছে। কয়েকটি ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।

পুলিশ বলেছে, ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে কমলাপুর রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় গ্রেপ্তার দুজনের একজন নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের শাহজাহানপুর থানা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক এবং অন্যজন কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের সক্রিয় কর্মী। তাঁরা ওই সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য দিয়েছেন বলে জানান মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ।

রোববার আজিমপুরে পার্কিং করা একটি বাসে অগ্নিসংযোগের চেষ্টাকালে আমিনুল ইসলাম শাওন নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, এ সময় ১৫-২০ জন পালিয়ে যায়। শাওনের বাড়ি চট্টগ্রামে। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি তিনি ঢাকায় আসেন। লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জামিল হোসেন বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে শাওন নিজেকে যুবলীগের কর্মী পরিচয় দিয়েছেন।

পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং প্রাথমিক তদন্তে নাশকতার সঙ্গে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠনের কর্মীদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম গতকাল বুধবার বলেন, ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুন দেওয়ার প্রতিটি ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা হয়েছে। এসব ঘটনায় জড়িতদের অধিকাংশই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

এর আগে ১১ সেপ্টেম্বর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল থেকে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। ওই ঘটনায় করা মামলায় গতকাল পর্যন্ত অন্তত ১৭৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের অধিকাংশই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে পুলিশ জানিয়েছে।

রোববার রাতে কমলাপুর রেলস্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা হাওর এক্সপ্রেসের একটি বগিতে আগুনের ঘটনাটিকে প্রাথমিকভাবে নাশকতা বলেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ঢাকা বিভাগীয় রেলওয়ের ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) এ বি এম কামরুজ্জামান বলেছেন, দুষ্কৃতকারীরাই আগুন লাগিয়েছে, এটি প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এটি নাশকতা বা স্যাবোটাজ।

ঢাকা রেলওয়ে থানার ওসি গতকাল বলেন, ট্রেনের কোচে আগুনের ঘটনায় মামলা হয়েছে। তবে কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুষ্কৃতকারীরাই আগুন লাগিয়েছে।

পুলিশের সূত্র বলছে, ১৫ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। এর পর থেকে রাজধানীতে ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। রোববার কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের ‘লকডাউন কর্মসূচি’তে এসব বাড়ে।

এ পরিস্থিতিতে রাজধানীতে তল্লাশিচৌকি বসানোসহ নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে ডিএমপি।

পুলিশের সূত্র জানায়, প্রতিটি ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা করা হয়েছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে। এসব ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত