Ajker Patrika

মব ভায়োলেন্স গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে দিচ্ছে: মির্জা ফখরুল

সিলেট প্রতিনিধি
সিলেটের গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: আজকের পত্রিকা
সিলেটের গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: আজকের পত্রিকা

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘দুর্ভাগ্যক্রমে আমাদের দেশে অন্তর্বর্তী সরকার আসার পর থেকে গত এক বছরে একটা খুবই ভয়ংকর কালচারের শুরু হয়েছে—মব ভায়োলেন্স, মবোক্রেসি, যা গণতন্ত্রকে একেবারে ধ্বংস করে দিচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘এখান থেকে সচেতনভাবে সবাইকে বেরিয়ে আসতে হবে এবং এর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। সেটা সম্ভব একমাত্র একটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা যদি আমরা চালু করতে পারি এবং সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারি।’

আজ রোববার সন্ধ্যায় সিলেট নগরীর একটি হোটেলের হলরুমে সিলেটের গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দীর্ঘ সময় আমরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য সংগ্রাম করেছি, লড়াই করেছি ১৫ থেকে ১৬ বছর। এই সময়ে আমাদের বিএনপির শুধু প্রায় ৬০ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। আমাদের প্রায় ২০ হাজার নেতা-কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। সিলেটের কৃতী সন্তান এম ইলিয়াস আলীসহ প্রায় ১ হাজার ৭০০ নেতা-কর্মীকে গুম করে দেওয়া হয়েছে। গোটা বাংলাদেশে তারা একটা ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে গিয়েছিল। ভয় দেখিয়ে তারা মানুষকে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছিল। পরে এ দেশের জনগণের, ছাত্র-জনতার জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে এই ফ্যাসিস্ট শক্তি পরাজিত হয়েছে এবং দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের নির্বাচনের ঘোষণার মধ্য দিয়ে একটা আশার সঞ্চার হয়েছে জনগণের মধ্যে। যদিও অনেকে অনেক অনিশ্চয়তার কথা বলেন, পত্রপত্রিকায় আসে, তারপরও আমরা নির্বাচনের যেই পথ, সেই পথে আগাচ্ছি।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ১২ তারিখে নির্বাচন হওয়ার কথা। বাছাইপর্ব শেষ হয়েছে, পরে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে। এই নির্বাচন শুধু আমাদের কাছে না, পুরো জাতির কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ এ জন্য যে, দীর্ঘ ১৫ বছর এই জাতি ভোট দেওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। নাগরিকদের ন্যূনতম চাহিদা হচ্ছে—সুশাসন থাকে, বিচার থাকে, স্বাধীনতা থাকে, মিডিয়া কর্মীদের স্বাধীনতা থাকে কাজ করবার, লিখবার—এই বিষয়গুলো কিন্তু গত ১৫ বছর একদম পুরোপুরিভাবে শেষ হয়ে গেছে। আজকে আমরা সেই সুযোগের সামনে। সেই সুযোগ যেন সঠিকভাবে আমরা কাজে লাগাতে পারি।’

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘এই সরকার অন্তর্বর্তী সরকার। এখন এটা কেয়ারটেকার সরকারে রূপ নিয়েছে। এটার পেছনে জনগণের ম্যান্ডেট নাই। কিন্তু এর মধ্যে তারা যেই কাজগুলো করেছে, সেটার জন্য অবশ্যই তাদেরকে কৃতিত্ব দিতে হবে। তারা ইতিমধ্যে সংস্কারের ব্যাপারে যে কাজগুলো করেছে, এই কাজগুলো বাংলাদেশের জাতীয় জীবনে নিঃসন্দেহে অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এবং আমরা বিশ্বাস করি, সংস্কারের বিষয়ে আমরা রাজনৈতিক দলগুলো সকলে একমত হয়েছি। এর মাধ্যমে আমাদের রাজনৈতিক কাঠামোতে একটা গুণগত পরিবর্তন আসবে।’

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে আমাদের খুব বেশি আশঙ্কা ছিল না। মিডিয়ার যাঁরা আছেন, আপানারা আশঙ্কার কথা বলেন, টক শো যাঁরা করেন, তাঁরা বলেন। কিন্তু, দল হিসেবে আমরা কোনো আশঙ্কা করিনি। আমরা প্রথম থেকেই নির্বাচন চেয়েছি, নির্বাচনের পথে থেকেছি, নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েছি এবং আমাদের বিশ্বাস ছিল যে, নির্বাচন সঠিক সময়ে হবে এবং প্রধান উপদেষ্টা ও আমাদের নেতা তারেক রহমানের সঙ্গে লন্ডনে যে বৈঠক হয়েছে, এর পর থেকে কিন্তু নির্ধারিত হয়ে গেছে ইলেকশন হচ্ছে এবং সঠিক সময়ে হবে। ৭-৮টা আসনে আমরা আশঙ্কা করেছিলাম যে, ব্যাংকে ক্লিয়ারেন্স হচ্ছে কি না, কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না, সে জন্য বিকল্প হিসেবে রেখেছি কয়েকটা। সেগুলোতেও সমস্যা হবে না, ঠিক হয়ে যাবে।’

সভায় আরও ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার মুক্তাদির, আরিফুল হক চৌধুরী, ড. মোহাম্মদ এনামুল হক চৌধুরী, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি কাইয়ূম চৌধুরী, মহানগরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কয়েস লোদী, যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ মালেক প্রমুখ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত