Ajker Patrika

রাজস্ব ঘাটতিতে চাপে ভোমরা স্থলবন্দর, সংকটে শ্রমিকেরা

আবুল কাসেম, সাতক্ষীরা
আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৮: ৫৯
রাজস্ব ঘাটতিতে চাপে ভোমরা স্থলবন্দর, সংকটে শ্রমিকেরা
ছবি: আজকের পত্রিকা

সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে রাজস্ব আদায়ে বড় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বন্দরে পণ্যবাহী ট্রাকের প্রবেশ কমে এক-তৃতীয়াংশে নেমে আসায় জীবিকাসংকটে পড়েছেন হ্যান্ডেলিং শ্রমিকেরা। অবকাঠামোগত সংকট, প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাব ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিকে রাজস্ব ঘাটতির অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ীরা। তবে সাম্প্রতিক সময়ে রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে বলে জানিয়েছেন শুল্ক বিভাগের কর্মকর্তারা।

স্থলবন্দর সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৬ সালের ১৫ এপ্রিল ১৬টি পণ্যের আইটেম নিয়ে এলসি স্টেশন হিসেবে যাত্রা শুরু করে ভোমরা স্থলবন্দর। ২০১৩ সালে ওয়্যার হাউস নির্মাণের পর পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দরের মর্যাদা পায় বন্দরটি। ভোমরা থেকে কলকাতার দূরত্ব মাত্র ৬০ কিমি হওয়ায় সম্ভাবনাময় হয়ে উঠে এ বন্দর।

তবে অবকাঠামোগত সংকট, প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাব এবং জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বন্দরে ব্যবসা-বাণিজ্য কমে গেছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।

এ বিষয়ে হ্যান্ডেলিং শ্রমিক বাবলুর রহমান বলেন, ‘আগে পাঁচ থেকে ছয় শ ট্রাক ঢুকত বন্দরে। প্রায় পাঁচ হাজার শ্রমিক এখানে। এখন ঢোকে এক থেকে দেড় শ ট্রাক। তাহলে শ্রমিকেরা চলবে কীভাবে? আমাদের কামাই-রোজগার একেবারে নেই।’

বাবলুর রহমান আরও বলেন, আগে প্রতিদিন প্রতি শ্রমিকের কমপক্ষে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা ইনকাম হতো। এখন অনেকের অনেক দিন ১ টাকাও রোজগার হয় না।

ব্যবসায়ী হামিদুর রহমান জানান, ভোমরায় এখন ব্যবসা নেই। ব্যবসার পরিবেশও নেই। উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ক্রেন, ওয়্যার হাউস, শেড ও ট্রাক টার্মিনাল দরকার। পাশাপাশি টনপ্রতি যে স্বাভাবিক ছাড় পাওয়া যায় সেটাও এখানে নেই।

ভোমরা স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু মুসা বলেন, ‘পাশের বন্দরের তুলনায় আমরা একটি অসম প্রতিযোগিতার মধ্যে আছি। কলকাতা খুব কাছে থাকা সত্ত্বেও আমরা এর ফল ঘরে তুলতে পারছি না।’

আবু মুসা আরও জানান, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যের গতি কিছুটা শ্লথ হওয়াসহ নানাবিধ কারণে রাজস্ব আহরণে বিপুল ঘাটতি হচ্ছে।

চলতি অর্থবছরে টার্গেট করা রাজস্ব আদায়ে সচেষ্ট রয়েছেন বলে জানান ভোমরা কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার মিজানুর রহমান। তিনি জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২ হাজার ৬৪ কোটি টাকার বিপরীতে আদায় হয়েছে ১ হাজার ১১৪ কোটি টাকা। আর চলতি অর্থবছরে ২ হাজার ৩৮৬ কোটি টাকা টার্গেটের বিপরীতে প্রথম ৩ মাসে মাসে আদায় হয়েছে ৪১২ কোটি টাকা।

মিজানুর রহমান আরও বলেন, সাধারণত এ বন্দর দিয়ে মসলা জাতীয় পণ্য, সবজি, চাল, ডাল, গম, শিল্পের কাঁচামাল ইত্যাদি আমদানি হয়ে থাকে। তবে অন্যান্য সময়ের তুলনায় রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধি গেল তিন মাসে ৯৪ শতাংশ।

ভোমরা স্থলবন্দরের উপপরিচালক মামুন কবির জানান, বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়নে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পের কাজ শেষ হলে বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন হবে। তখন ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করতে আরও আগ্রহী হবেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত