Ajker Patrika

অক্সিজেন না দেওয়ায় রমেকে রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ, স্বজনদের মহাসড়ক অবরোধ

রংপুর প্রতিনিধি
আপডেট : ১৩ জুন ২০২৬, ১৬: ২৫
অক্সিজেন না দেওয়ায় রমেকে রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ, স্বজনদের মহাসড়ক অবরোধ
রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের মেডিকেল মোড় এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন রোগীর স্বজনেরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

রংপুরে এক রোগীর মৃত্যু ঘিরে স্বজন ও চিকিৎসকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় মরদেহ মর্গে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে। পাশাপাশি প্রায় দুই ঘণ্টা জরুরি বিভাগ বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন রোগী ও স্বজনেরা। পরে মারা যাওয়া রোগীর মরদেহ হস্তান্তরের দাবিতে স্বজনেরা রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের মেডিকেল মোড় এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।

রোগীর স্বজন ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ভোরে নগরীর জুম্মাপাড়া এলাকার বাসিন্দা নুর নাহার বেগম হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁর ছেলে রিফাত তাঁকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রমেক) নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকদের কাছে রোগীকে অক্সিজেন দেওয়ার অনুরোধ করা হলে আগে ভর্তিপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয় বলে স্বজনদের দাবি। এ সময় রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং একপর্যায়ে তাঁর মৃত্যু হয়।

রোগীর মৃত্যুর পর ক্ষুব্ধ স্বজনেরা দায়িত্বরত চিকিৎসকদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর মরদেহ মর্গে রাখা হয় এবং সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত জরুরি বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ থাকে। স্বজনদের অভিযোগ, মরদেহ বুঝিয়ে দিতে গড়িমসি করা হয়। পরে বেলা দেড়টার দিকে তাঁরা মরদেহের দাবিতে মেডিকেল মোড় এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন।

মৃত নুর নাহার বেগমের বড় ছেলে নুরুজ্জামান রিন্টু বলেন, ‘আমার স্ত্রী ফোন করে মায়ের অসুস্থতার খবর দেয়। হাসপাতালে এসে দেখি উত্তেজনাকর পরিস্থিতি। সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমার মায়ের মরদেহ আটকে রাখা হয়েছে। অ্যাম্বুলেন্সে তোলার পরও সেখান থেকে মরদেহ নামিয়ে নেওয়া হয়।’

রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের মেডিকেল মোড় এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন রোগীর স্বজনেরা। ছবি: আজকের পত্রিকা
রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের মেডিকেল মোড় এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন রোগীর স্বজনেরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

কান্নাজড়িত কণ্ঠে নুরুজ্জামান আরও বলেন, ‘ভোর থেকে এখন পর্যন্ত মায়ের মুখ দেখতে পারিনি। কখনো ভাবিনি মারা যাওয়ার পরও মায়ের মরদেহ নিয়ে এমন ভোগান্তি হবে। আমরা শুধু মায়ের মরদেহ চাই, যেন দাফন সম্পন্ন করতে পারি।’

এ বিষয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার আশিকুর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। রোগীকে হাসপাতালে আনার পরপরই তাঁর মৃত্যু হয়। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, দায়িত্বরত চিকিৎসকের কোনো গাফিলতি ছিল না। কোনো কারণ ছাড়াই চিকিৎসক নাঈম ও রাকিবসহ অন্যদের মারধরের চেষ্টা করা হয়েছে। এমনকি দায়িত্বরত নার্সের সঙ্গেও অশোভন আচরণ করা হয়েছে।’

আশিকুর রহমান আরও বলেন, ‘কোনো চিকিৎসকই চান না যে কোনো রোগী অবহেলার কারণে মারা যাক। কিন্তু রোগীর স্বজনেরা যে আচরণ করেছেন, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং থানায় এজাহার দাখিল করা হবে।’

মরদেহ আটকে রাখার অভিযোগ প্রসঙ্গে পরিচালক বলেন, ‘মরদেহ আটকে রাখার অভিযোগ সঠিক নয়। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত লোকসমাগম ও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে কিছু সময় মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছিল। পরে তা স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত