Ajker Patrika

ভোটকেন্দ্র পরিবর্তন নিয়ে আপত্তি, তদন্তে নির্বাচন কর্মকর্তারা

গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি
ভোটকেন্দ্র পরিবর্তন নিয়ে আপত্তি, তদন্তে নির্বাচন কর্মকর্তারা
সাউদপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চিলখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে নির্বাচন কর্মকর্তারা। ছবি: আজকের পত্রিকা

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় ভোটকেন্দ্র পরিবর্তন নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের আপত্তির পর সরেজমিন তদন্ত করেছেন নির্বাচন কর্মকর্তারা। আজ মঙ্গলবার তাঁরা উপজেলার কোলকোন্দ ইউনিয়নের সাউদপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চিলখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। এ সময় কেন্দ্র পরিবর্তনের পক্ষে-বিপক্ষে থাকা দুই পক্ষের বক্তব্য শোনেন তাঁরা।

রংপুরের অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, ‘আমরা সরেজমিনে দুটি কেন্দ্র পরিদর্শন করেছি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দুই পক্ষের বক্তব্য শুনেছি। সবকিছু পর্যালোচনা করে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে। নির্বাচন কমিশনই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে।’

স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে সাউদপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোটগ্রহণ হয়ে আসছে। স্থানীয় নির্বাচনের সময় এ কেন্দ্রে ভোটারদের ব্যাপক সমাগম হয়। দীর্ঘদিনের এ কেন্দ্রটি পরিবর্তন করে চিলখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেওয়া হলে ভোটারদের ভোগান্তি বাড়বে। তাঁদের দাবি, কেন্দ্র পরিবর্তনের আগে স্থানীয় ভোটারদের মতামত নেওয়া হয়নি।

সাউদপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল গাফফার ও জাহেদুল ইসলাম বলেন, কেন্দ্র পরিবর্তন করা হলে নারী, বয়স্ক ও অসুস্থ ভোটারদের বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হবে। নতুন কেন্দ্রে যাতায়াতের সুবিধাও কম। এ কারণে তাঁরা আগের কেন্দ্রটি বহাল রাখার দাবি জানান।

অন্যদিকে, চিলখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দা হাবিবুর রহমান ও আব্দুল হালিম বলেন, কেন্দ্র পরিবর্তনের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত রয়েছে। তবে ভোটারদের যাতায়াতের সুবিধা ও ভোট গ্রহণের পরিবেশ বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, তিস্তা নদীর ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত চিলখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট গ্রহণের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত হয়নি। বিদ্যালয়টি নদীর কাছাকাছি হওয়ায় সেখানে যাতায়াতেও সমস্যা রয়েছে। নতুন কেন্দ্রে রিকশা-ভ্যান চলাচলের সুবিধা না থাকায় অনেক ভোটারকে হেঁটে যেতে হতে পারে। এ ছাড়া কেন্দ্রটিতে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে প্রশাসনের পক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

এ অবস্থায় আগের ভোটকেন্দ্র বহাল রাখার দাবিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন এলাকাবাসী।

কোলকোন্দ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত প্যানেল চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘ভোটকেন্দ্র পরিবর্তনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন থেকে আমাদের কাছে কোনো চিঠি আসেনি। বিষয়টি আমাদের জানানোও হয়নি।’

অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান বলেন, ‘আমরা দুটি কেন্দ্র পরিদর্শন করেছি এবং দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁরা আমাদের কাছে সঠিক তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। আমরা যা দেখেছি, তা-ই প্রতিবেদনে লিখব। এখানে কোনো পক্ষপাতিত্ব করার সুযোগ নেই।’

রেজাউল করিম আরও বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন থেকে ভোটকেন্দ্র পরিবর্তন নিয়ে পাওয়া অভিযোগের চিঠিটি তদন্তের জন্য আমাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। কমিশনের নির্দেশেই আমরা তদন্তে এসেছি। কেন্দ্রটি নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য শুনেছি, আমরাও সরেজমিনে দেখেছি। এখন তদন্ত প্রতিবেদন নির্বাচন কমিশনে পাঠাব। কমিশনই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।’

উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে মোট ভোটার ২ হাজার ২৭০ জন। তাঁদের মধ্যে পুরুষ ১ হাজার ১৮১ জন এবং নারী ১ হাজার ৮৯ জন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত