Ajker Patrika

পাহাড়ে উৎসবের রং: বর্ণাঢ্য আয়োজনে রাঙামাটিতে দ্বিতীয় পর্বের সূচনা

রাঙামাটি প্রতিনিধি 
পাহাড়ে উৎসবের রং: বর্ণাঢ্য আয়োজনে রাঙামাটিতে দ্বিতীয় পর্বের সূচনা
আজ সকালে সকালে বেলুন উড়িয়ে উৎসবের উদ্বোধন করেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজল তালুকদার। ছবি: আজকের পত্রিকা

পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনপদে এখন উৎসবের আমেজ। পাহাড়ে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর প্রধান সামাজিক উৎসব বৈসুক-সাংগ্রাই-বিজু-বিহু উপলক্ষে রাঙামাটিতে শুরু হয়েছে দ্বিতীয় পর্বের তিন দিনব্যাপী বর্ণিল অনুষ্ঠানমালা। আজ বৃহস্পতিবার সকালে ‘বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামে’র উদ্যোগে রাঙামাটি পৌরসভা প্রাঙ্গণে এই উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। সকালে আনন্দঘন পরিবেশে বেলুন উড়িয়ে উৎসবের উদ্বোধন করেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজল তালুকদার।

উদ্বোধন শেষে পৌরসভা প্রাঙ্গণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা ও পাংখোয়া সম্প্রদায়ের নৃত্যশিল্পীরা তাঁদের নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে নৃত্য পরিবেশন করেন। আদিবাসীদের নিজস্ব সুর ও নাচের ছন্দে পুরো এলাকা উৎসবমুখর জনপদে পরিণত হয়।

সাংস্কৃতিক পরিবেশনা শেষে বের করা হয় ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’। শোভাযাত্রাটি রাঙামাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাঙামাটি শিল্পকলা একাডেমিতে এসে শেষ হয়। রং-বেরঙের ব্যানার, ফেস্টুন এবং ঐতিহ্যবাহী সাজে সজ্জিত হয়ে শত শত মানুষ এই মিছিলে যোগ দেন। শোভাযাত্রা থেকে পুরোনো বছরের সব দুঃখ-গ্লানি মুছে ফেলে নতুন বছরকে আবাহন করার আহ্বান জানানো হয়।

উল্লেখ্য, তিন দিনব্যাপী এই উৎসবের মাধ্যমে পাহাড়ের মানুষের কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরা হচ্ছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য উষাতন তালুকদার, অবসরপ্রাপ্ত সচিব প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা কৃষ্ণচন্দ্র চাকমা। এ ছাড়া স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

দ্বিতীয় পর্বের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আদিবাসী শিল্পীদের নৃত্য পরিবেশনা। ছবি : আজকের পত্রিকা
দ্বিতীয় পর্বের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আদিবাসী শিল্পীদের নৃত্য পরিবেশনা। ছবি : আজকের পত্রিকা

প্রসঙ্গত, বাংলার নতুন বছরকে বরণ এবং পুরোনো বছরকে বিদায় জানাতে পাহাড়ের আদিবাসীরা এ উৎসব পালন করে থাকে। ৩০ চৈত্র হয় মূল অনুষ্ঠান। তার আগের দিন ২৯ চৈত্র নদীতে ফুল ভাসিয়ে পুরোনো বছরকে বিদায় জানানো হয়। পয়লা বৈশাখ নতুন বছরকে বরণ করা হয়। মূলত এই তিন দিনকে কেন্দ্র করেই পাহাড়জুড়ে উৎসব।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত