Ajker Patrika

বাঘায় বিএনপির বিক্ষোভের পরদিন ইউএনওকে বদলি, প্রধানশূন্য ৫ দপ্তর

বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি      
বাঘায় বিএনপির বিক্ষোভের পরদিন ইউএনওকে বদলি, প্রধানশূন্য ৫ দপ্তর
ইউএনও শাম্মী আক্তার। ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহীর বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাম্মী আক্তারের বদলির আদেশে একযোগে উপজেলাটির অন্তত পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদ খালি হয়ে পড়েছে। ফলে প্রশাসনিক কাজ, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং সাধারণ নাগরিক সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রে অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় স্বাক্ষরের অভাবে বিভিন্ন দপ্তরের ফাইল আটকে থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ।

বিদায়ী ইউএনও শাম্মী আক্তার মূল দায়িত্বের পাশাপাশি কয়েকটি অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি একাধারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, বাঘা পৌরসভার প্রশাসক, আড়ানী পৌরসভার প্রশাসক এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসি ল্যান্ডের দায়িত্বে ছিলেন।

গত রোববার (২৬ জুলাই) রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের প্রজ্ঞাপনে তাঁকে নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় বদলি করা হয়। ফলে একদিনেই পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দপ্তর শীর্ষ কর্মকর্তাশূন্য হয়ে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নতুন কোনো কর্মকর্তা যোগদান না করায় বা বিকল্প কাউকে তাৎক্ষণিক দায়িত্ব না দেওয়ায় দাপ্তরিক অনুমোদন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ও ভূমি সংক্রান্ত সেবাসহ নানা কার্যক্রম স্থবির হয়ে গেছে।

বাঘা পৌরসভার বাসিন্দা আব্দুল হালিম ও আড়ানী পৌরসভার বাসিন্দা সাগর আলী জানান, প্রশাসকের স্বাক্ষর না থাকায় তাঁদের জরুরি ফাইল পাস হচ্ছে না। অন্যদিকে ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা হোসেন আল ইমাম জানান, মূল কর্মকর্তার স্বাক্ষর ছাড়া আবেদন নিষ্পত্তির সুযোগ না থাকায় অনেককেই ফেরত যেতে হচ্ছে।

এই বদলির আদেশের ঠিক আগের দিন, অর্থাৎ শনিবার (২৫ জুলাই) বাঘা উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদের জন্য নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে নির্দিষ্ট সময়ের এক ঘণ্টা পর পরীক্ষা শুরু হওয়া এবং কেবল সুপারভাইজার পদের ফল প্রকাশকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।

পরীক্ষার পর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে বিএনপির নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। দলের বাঘা পৌর শাখার সভাপতি কামাল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক তফিকুল ইসলাম তফি জানান, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, দুর্নীতি ও বৈষম্যের অভিযোগ তুলে তাঁরা ইউএনওর পদত্যাগ ও বদলির দাবি জানান।

পরবর্তীতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) ঘটনাস্থলে গিয়ে বিএনপি নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এর পরদিন রোববার বিভাগীয় কমিশনারের প্রজ্ঞাপনে ইউএনও শাম্মী আক্তারকে ‘জনস্বার্থে বদলি’ করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর বাঘায় ইউএনও হিসেবে যোগ দেন শাম্মী আক্তার। এর কয়েক মাস পর একবার তাঁর বদলির আদেশ জারি হলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়েছিল।

সার্বিক বিষয়ে জানতে রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে বদলি হওয়া ইউএনওর সঙ্গেই কথা বলার পরামর্শ দেন।

বিদায়ী ইউএনও শাম্মী আক্তার অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘সরকারি বিধিমালা এবং নির্দিষ্ট নীতিমালা মেনেই অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ পরীক্ষা পরিচালনা করা হয়েছে। পরীক্ষার ফলে অসন্তুষ্ট হয়ে একটি পক্ষ অসত্য অভিযোগ তুলছে।’

দায়িত্ব হস্তান্তরের বিষয়ে তিনি জানান, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় দায়িত্ব অর্পণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে। এরপর পদগুলোতে বিকল্প কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, সে বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত