Ajker Patrika

জামিন পেতে বিএনপির প্রত্যয়নপত্র জালিয়াতি, থানায় অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
জামিন পেতে বিএনপির প্রত্যয়নপত্র জালিয়াতি, থানায় অভিযোগ
আবুল কালাম আজাদ। ছবি: সংগৃহীত

ছাত্র-জনতার ওপর হামলার মামলায় জামিন পেতে বিএনপির প্রত্যয়নপত্র জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে রাজশাহীর গোদাগাড়ীর আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে। তিনি গোদাগাড়ী পৌর এলাকার অন্যতম শীর্ষ মাদক কারবারি বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন গোদাগাড়ী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার সাবেক মেয়র আনোয়ারুল ইসলাম। পুলিশ অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

আবুল কালাম আজাদ গোদাগাড়ী পৌরসভার মহিষালবাড়ি মহল্লার বাসিন্দা। তাঁর বিরুদ্ধে মাদকের সাতটি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। তিনি আগে যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গোদাগাড়ীতে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণের মামলায় গত ২০ জুলাই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ১২ আগস্ট রাজশাহী জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে তিনি জামিন পান।

আদালতের নথিপত্রে দেখা গেছে, আবুল কালাম আজাদ বিএনপির কর্মী—এমন একটি প্রত্যয়নপত্র আদালতে দাখিল করা হয়েছে। এতে বিএনপি নেতা আনোয়ারুল ইসলামের স্বাক্ষর ও সিল রয়েছে। তবে আনোয়ারুল ইসলামের দাবি, প্রত্যয়নপত্রে ব্যবহৃত সিল ও স্বাক্ষর তাঁর নয়, জাল করা হয়েছে। এ নিয়ে শনিবার ‘ভেলকি দেখাচ্ছেন মাদক কারবারি আজাদ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয় আজকের পত্রিকায়।

শনিবার আনোয়ারুল ইসলাম জানান, প্রত্যয়নপত্র জালিয়াতির বিষয়টি জানতে পেরে তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গিয়েছিলেন। তবে পুলিশ তাঁর কাছ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ নিয়েছে। তিনি হোয়াটসঅ্যাপে অভিযোগের একটি কপিও পাঠিয়েছেন।

অভিযোগে আনোয়ারুল ইসলাম লিখেছেন, ‘আবুল কালাম আজাদ আমার প্যাড, সিল ও স্বাক্ষর জাল করে প্রতারণামূলকভাবে আদালতে দাখিল করে জামিনে মুক্ত হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে আমি আবুল কালাম আজাদ নামের কোনো ব্যক্তিকে আমার সিল ও স্বাক্ষর দিয়ে বিএনপির কর্মী হিসেবে স্বীকৃতি দিইনি। আবুল কালাম আজাদ নিজের সুবিধার জন্য এবং আমার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার নষ্ট করার উদ্দেশ্যে সিল ও স্বাক্ষর জাল করে ব্যবহার করেছে।’

গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজন মিঞা অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমরা অভিযোগটি পেয়েছি। তদন্ত করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে আবুল কালাম আজাদ ১৮ আগস্ট রাতে আজকের পত্রিকাকে বলেছিলেন, ‘প্রত্যয়নটা কোনোভাবে হয়েছে আর কী। যে কোনোভাবে হয়ে আছে, আমি সঠিক বলতে পারব না।’

আবুল কালাম আজাদ আগে যুবলীগের কর্মী ছিলেন। আওয়ামী লীগ নেতাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থাকতেন। তাঁর স্ত্রী আরমিনা আক্তার বাবলির বাবার বাড়ি রংপুরের পীরগঞ্জে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শ্বশুরবাড়ির মহল্লায়। তিনি নিজেকে ছাত্রলীগ নেত্রী পরিচয় দিতেন। এ ছাড়া শেখ হাসিনাকে তিনি দাদি বলে পরিচয় দিতেন এবং বিভিন্ন স্থানে প্রভাব খাটাতেন।

তবে এখন বিএনপি সাজতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন মাদক কারবারি আবুল কালাম আজাদ ও তাঁর স্ত্রী আরমিনা আক্তার বাবলি। সম্প্রতি নিজের নিরাপত্তা চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে আবেদন পাঠিয়েছেন কালাম। এতে তিনি লিখেছেন, জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক আদর্শের অনুসারী হওয়ায় গত ১৭ বছরে তিনি বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হয়েছেন। তবে সেখানেও রয়েছে মিথ্যা তথ্য। আবেদনে কালাম দাবি করেন, তিনি প্রতিবছর সরকারকে প্রায় ২৫ থেকে ৩৫ লাখ টাকা ভ্যাট ও আয়কর দেন। বাস্তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আয়কর দিয়েছেন ২ লাখ ৯০ হাজার ৭৩০ টাকা। এর আগের অর্থবছরে তিনি আয়করই দেননি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত