Ajker Patrika

স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই নেতার বিরুদ্ধে ‘ভাড়ায়’ ব্যাংক কর্মকর্তাকে পেটানোর অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই নেতার বিরুদ্ধে ‘ভাড়ায়’ ব্যাংক কর্মকর্তাকে পেটানোর অভিযোগ
আহত ব্যাংক কর্মকর্তা মাইনুল হক জুয়েল। ছবি: আজকের পত্রিকা

রাজশাহীতে স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই নেতা ‘ভাড়ায়’ গিয়ে ব্যাংকের এক কর্মকর্তাকে পিটিয়ে জখম করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ছয়জনের নামে নগরের চন্দ্রিমা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে অভিযোগের চার দিনেও মামলা রেকর্ড হয়নি। তদন্ত কর্মকর্তা মামলা করতে নিরুৎসাহিত করেছেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী ব্যাংক কর্মকর্তার।

ভুক্তভোগী মাইনুল হক জুয়েল (৪৫) চন্দ্রিমা থানার ছোটবনগ্রাম প্রাইমারি স্কুল মোড়ের বাসিন্দা। তিনি রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) নগরের কাদিরগঞ্জ গ্রেটার রোড শাখার ব্যবস্থাপক।

অপরদিকে অভিযুক্ত নেতারা হলেন স্বেচ্ছাসেবক দলের শাহমখদুম থানার সদস্যসচিব মো. মমিন ও চন্দ্রিমা থানার সদস্যসচিব মো. রবিন। অপর চারজন হলেন মাইনুল হক জুয়েলের সাবেক শ্বশুর আলফাজ উদ্দিন আবেদ ও শ্বাশুড়ি মিনু মমতাজ আরা ডেইজি, সাবেক স্ত্রী ফাহমিদা আহমেদ জুরা এবং ফাহমিদার ছোট বোন আফিয়া জাহিন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৬ জানুয়ারি স্ত্রী ফাহমিদা আহমেদ জুরাকে তালাক দেন মাইনুল হক জুয়েল। এ নিয়ে পারিবারিক কলহের জেরে জুয়েলকে পেটানোর জন্য সাবেক শ্বশুরবাড়ির লোকজন স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই নেতাকে ‘ভাড়া’ করেন। গত রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাতে তাঁকে বাসার সামনে ডেকে নেন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মমিন ও রবিন। সেখানে জুয়েলকে পিটিয়ে জখম করা হয়।

পরে স্থানীয়রা জুয়েলকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করেন। মাথায় লোহার পাইপের আঘাতে গুরুতর জখম হওয়ায় তিনটি সেলাই দেওয়া হয়। এ ছাড়া তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়েছে। হাসপাতাল থেকে ছুটি পেয়ে গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।

ভুক্তভোগী মাইনুল হক জানান, তিনি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে একটি পাঁচতলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন। গত ৬ সেপ্টেম্বর রাতে সাবেক স্ত্রীর পক্ষে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতারা বাড়িটি তাঁর ছেলেমেয়েদের নামে লিখে দিতে চাপ দেন। এতে রাজি না হওয়ায় মমিন ও রবিন তাঁকে মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন-অর-রশিদের কাছে যাওয়ার জন্য বলেন। এতেও রাজি না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁরা জুয়েলকে মারধর শুরু করেন। মমিন ও রবিনসহ ১০-১২ জন লাঠি ও লোহার পাইপ দিয়ে তাঁকে পিটিয়ে ফেলে রেখে যান।

ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, এ ঘটনায় হাসপাতাল থেকে ফিরে মামলা করতে থানায় লিখিত অভিযোগ দিই। কিন্তু পুলিশ চার দিনেও মামলা রেকর্ড করেনি। উল্টো অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা চন্দ্রিমা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোস্তাফিজুর রহমান আমাকে বলেন, ‘আপনি সরকারি চাকরিজীবী। মামলা করা ঠিক হবে না। আরও ভেবে দেখেন।’ এভাবে তাঁকে মামলা করতে নিরুৎসাহিত করেন বলেও ব্যাংক কর্মকর্তার অভিযোগ।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এসআই মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘যারা ঘটনাস্থলে ছিল না, তাদের নামও অভিযোগে লেখা হয়। তাই সংশোধনের জন্য বলা হয়েছিল। মামলা নেওয়া হবে না, এমন না। মামলা নেওয়ার জন্য আমি নিজেই তাঁকে ফোন করেছি।’

স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাদের ‘ভাড়া’ করার অভিযোগের ব্যাপারে কথা বলতে ব্যাংক কর্মকর্তার সাবেক শ্বশুর আলফাজ উদ্দিন আবেদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। কল রিসিভ করেননি শাহমখদুম থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব মো. মমিনও।

চন্দ্রিমা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব মো. রবিন বলেন, ‘ভাড়ায় গিয়ে হামলা করার মতো কোনো বিষয় না। আমার বন্ধু মমিনের এক বোনের সঙ্গে মাইনুল হকের বিয়ে হয়েছিল। তাঁদের সমস্যার বিষয়টি মমিন আমাকে জানালে আমরা তাঁর কাছে গিয়েছিলাম। কথাবার্তা বলছিলাম। এর মধ্যে অনেক লোক জড়ো হয়ে যায়। কে মারধর করেছে জানি না।’

ব্যাংক কর্মকর্তাকে মহানগর বিএনপির সভাপতির চেম্বারে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টার অভিযোগও অস্বীকার করেন এই স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা। তবে বিষয়টি মহানগর বিএনপি, ছাত্রদলসহ সব সংগঠনের নেতারা জানেন বলে তিনি জানিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন-অর-রশিদকে ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত