Ajker Patrika

এনআইসিইউতে রাখা দুই যমজ নবজাতকের শরীরে অকার্যকর সব অ্যান্টিবায়োটিক, শঙ্কায় মা-বাবা

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
আপডেট : ১৫ মে ২০২৬, ১৪: ৩৬
এনআইসিইউতে রাখা দুই যমজ নবজাতকের শরীরে অকার্যকর সব অ্যান্টিবায়োটিক, শঙ্কায় মা-বাবা
দুই যমজ নবজাতককে এসআইসিইউতে রাখা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে জন্ম নেওয়া দুই যমজ ভাইয়ের শরীরে কোনো অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করছে না। চিকিৎসকেরা বলছেন, অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট শরীরে জন্ম নিয়েছে শিশু দুটি। এখন তাদের নিউনেটাল নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (এনআইসিইউ) রাখা হয়েছে।

নবজাতক দুটির এখনো কোনো নাম রাখা হয়নি। বাবার নাম মানিক উদ্দিন (৪২)। তাই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউনেটাল আইসিইউতে নবজাতক দুই ভাইকে ডাকা হচ্ছে ‘মানিক-১’ ও ‘মানিক-২’ নামে। জন্মের পর একবারও বাড়ি যাওয়া হয়নি তাদের। বয়স মাত্র নয় দিন। এরই মধ্যে শরীরে কার্যকারিতা হারিয়েছে প্রায় সব ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক। এমন খবর জানার পর থেকে দুশ্চিন্তা আর অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে মা-বাবার।

শিশু দুটির বাবা নাটোরের লালপুর উপজেলার লক্ষণবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা মানিক উদ্দিন নিজেও চিকিৎসক। ৫ মে হাসপাতালে নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে তাঁর স্ত্রী কোহিনুর সুলতানা জন্ম দেন যমজ দুই সন্তানের। প্রথমে স্বস্তিতেই ছিল পরিবার। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই চিকিৎসকেরা জানান, নবজাতক দুটির অক্সিজেন সঞ্চালন স্বাভাবিক নয়। তাদের হাসপাতালে ভর্তি রাখতে হবে। এরপর শিশু দুটিকে রামেক হাসপাতালের ২৬ নম্বর শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

তাদের বাবা মানিক উদ্দিন জানান, এক দিন এক রাত সেখানে থাকার পর বাচ্চা দুটো অস্বাভাবিক কান্নাকাটি শুরু করে। পরে তাদের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের নিউনেটাল আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। তখন থেকেই চলছে অক্সিজেন সাপোর্ট। গত সোমবার (১১ মে) শিশু দুটির কয়েকটি পরীক্ষা করানো হয়। এর মধ্যে ছিল ‘কালচার অ্যান্ড সেনসিটিভিটি টেস্ট’। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সেই পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে পান চিকিৎসকেরা। রিপোর্টে দেখা যায়, শিশু দুটির শরীরে প্রায় সব ধরনের অ্যান্টিবায়োটিকই রেজিস্ট্যান্ট হয়ে গেছে। এর পর থেকেই ভেঙে পড়েছেন মা-বাবা। কী করবেন বুঝতে পারছেন না।

ওয়ার্ডের চিকিৎসক মোহতারামা মোস্তারী বলেন, মানিক-১ তুলনামূলক ভালো আছে। তবে মানিক-২-এর অবস্থা বেশি জটিল। তার শরীরে অক্সিজেনের চাহিদাও বেশি। চিকিৎসকেরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। অভিভাবকদেরও নিয়মিত হালনাগাদ তথ্য দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, সব অ্যান্টিবায়োটিকে রেজিস্ট্যান্ট নবজাতক এর আগেও তাঁরা পেয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণত ‘কলিস্টিন’ নামের একটি শক্তিশালী ড্রাগ ব্যবহার করা ছাড়া বিকল্প থাকে না। সমস্যা বুঝতে পেরে পাঁচ দিন আগেই শিশু দুটির ‘কালচার অ্যান্ড সেনসিটিভিটি টেস্ট’ করা হয়েছিল। রিপোর্ট পাওয়ার আগেই কলিস্টিন দেওয়া শুরু করেন চিকিৎসকেরা। বৃহস্পতিবার রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর দেখা যায়, তাদের আশঙ্কাই সত্য হয়েছে।

অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হাসপাতালের শিশু বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক বেলাল উদ্দিন বলেন, দেশে নির্বিচারে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের কারণেই এ ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অনেক সময় রোগের প্রয়োজনের চেয়ে বেশি মাত্রার ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। আবার সঠিক ডোজ ও নির্ধারিত সময় পর্যন্ত ওষুধ সেবনের বিষয়টিও মানা হচ্ছে না। এতে ব্যাকটেরিয়াগুলো ধীরে ধীরে প্রতিরোধক্ষম হয়ে উঠছে।

তিনি বলেন, যেসব রোগ স্বল্পমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিকেই সেরে যাওয়ার কথা, সেখানে দ্রুত ফল দেখাতে উচ্চমাত্রার ওষুধ ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে পরবর্তীকালে সাধারণ অ্যান্টিবায়োটিক আর কাজ করে না। এখন রোগীর শরীরে কোন ওষুধ কার্যকর আছে, আর কোনটি অকার্যকর হয়ে গেছে, তা জানতে কালচার অ্যান্ড সেনসিটিভিটি টেস্ট করতে হচ্ছে। হাসপাতালের আইসিইউ ল্যাবেই এ পরীক্ষা হচ্ছে। পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়ে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত