Ajker Patrika

রাসিক প্রশাসকের দৌড়ে বিএনপির ৫ নেতা

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
রাসিক প্রশাসকের দৌড়ে বিএনপির ৫ নেতা
মোসাদ্দেক হোসেন, মামুন অর রশিদ, ওয়ালিউল হক, আবুল কালাম, মাহফুজুর রহমান

দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের মধ্যে অর্ধেকে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। নিয়োগপ্রাপ্তরা সবাই দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তবে এখনো রাজশাহী সিটি করপোরেশনসহ (রাসিক) ছয়টিতে প্রশাসক নিয়োগ হয়নি। ফলে প্রশাসক নিয়োগকে ঘিরে শুরু হয়েছে নানা তৎপরতা।

১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠনের পর রাসিকের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী ও অনুসারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে শুরু হয় প্রচারণা। দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণে চলে তৎপরতা।

এরই মধ্যে গত রোববার ছয়টি সিটি করপোরেশনে ‘রাজনৈতিক’ প্রশাসক নিয়োগের পর পাল্টে যায় দৃশ্যপট। মেয়র নির্বাচনের প্রস্তুতির পাশাপাশি এখন আলোচনার কেন্দ্রে প্রশাসক পদ। আর এই পদে নিয়োগ পেতে রাজশাহী মহানগর বিএনপির অন্তত পাঁচ নেতা নেমেছেন জোর লবিংয়ে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির বন ও পরিবেশ-বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদ, সহসভাপতি ওয়ালিউল হক রানা ও আবুল কালাম আজাদ সুইট এবং সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন প্রশাসক পদে নিয়োগ পেতে জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন।

তাঁদের কেউ ঢাকায় অবস্থান করে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন, কেউ আবার রাজশাহী থেকেই হাইকমান্ডের শীর্ষ পর্যায়ে নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন। প্রত্যেকেই দলের প্রতি দীর্ঘদিনের ত্যাগ, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা এবং বিগত সরকারের আমলে মামলা-হামলা ও নির্যাতনের বিষয় সামনে এনে নিজেদের যোগ্যতা তুলে ধরছেন।

সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল রাজশাহীর রাজনীতিতে পরিচিত মুখ। ২০০৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার সিটি নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি তৎকালীন আওয়ামী লীগ প্রার্থী এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের কাছে পরাজিত হন।

পরে ২০১৩ সালে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটে লিটনকে পরাজিত করে মেয়র হন। ২০১৮ সালেও দলীয় প্রার্থী ছিলেন, তবে ওই নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেন। বর্তমানে তিনি প্রশাসক পদে নিয়োগের বিষয়ে যোগাযোগ রাখছেন বলে দলীয় সূত্রের দাবি। যদিও এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি।

মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদও সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন। তিনি মহানগর যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি ছিলেন। পরবর্তীকালে মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক, যুগ্ম সম্পাদক ও সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করে বর্তমানে সভাপতির দায়িত্বে আছেন। তবে লবিংয়ের কথা অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘দল যদি যোগ্য মনে করে, তাহলে দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত।’

সহসভাপতি ওয়ালিউল হক রানা ছাত্রজীবন থেকেই বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয়। মহানগর যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সভাপতি এবং মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন।

সম্প্রতি ঢাকায় গিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। মেয়র পদে মনোনয়ন কিংবা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব—দুই ক্ষেত্রেই আগ্রহের কথা জানান তিনি।

ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা নেতা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন। রাজশাহী সিটি কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি ছিলেন তিনি। মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় কমিটির দায়িত্ব পালন করেছেন।

এ ছাড়া তিনি মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক, আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় সহসভাপতির দায়িত্বও সামলেছেন। তাঁর বক্তব্য, জনসেবার লক্ষ্যে রাজনীতি করেন এবং দলীয় সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।

সহসভাপতি আবুল কালাম আজাদ সুইট রাজশাহী কলেজ ও মহানগর ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক এবং মহানগর যুবদলের সভাপতিও ছিলেন। প্রশাসক পদে আগ্রহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বিগত সরকারের আমলে নির্বাচিত হয়েও দায়িত্ব পালন করতে না পারা মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে সম্মান জানানো হলে সেটিই যুক্তিযুক্ত হবে। তবে দল তরুণদের বিবেচনা করলে দায়িত্ব পেলে কাজ করতে প্রস্তুত আছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত