রাজশাহী নগরীর গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি সড়কের মোড়ে মোড়ে বসানো ছিল ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা। রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) সাইবার ক্রাইম ইউনিটে বসে এই ক্যামেরাগুলোর মাধ্যমেই গোটা শহরে নজর রাখা হতো। কিন্তু এখন এ কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় অনেক সিসি ক্যামেরা ভেঙে ফেলা হয়েছে, কিছু খুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অল্প কিছু সিসি ক্যামেরা থাকলেও এর ভিডিও দেখার কোনো ব্যবস্থা এখন নেই।
অথচ সড়কের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে থাকা সিসি ক্যামেরা দিয়েই নিরাপদ হয়ে উঠেছিল নগরীটি। কমেছিল অপরাধও। নিরাপদ সে নগর এখন অনেকটাই অরক্ষিত। সিসি ক্যামেরায় চোখ রাখার পাশাপাশি আরএমপির সাইবার ক্রাইম ইউনিট থেকে তথ্যপ্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে অপরাধী ও তাঁদের অবস্থান শনাক্ত, ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবের পরীক্ষা ছাড়াও নানারকম কার্যক্রম চলত। এর প্রায় সবই এখন বন্ধ হয়ে গেছে। দ্রুতই সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সব কার্যক্রম চালুর দাবি জানিয়েছেন বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাইবার ক্রাইম ইউনিট চালুর পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান শনাক্ত করে প্রতিদিনই হারিয়ে যাওয়া কিংবা চুরি হওয়া বেশ কিছু মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হতো। সহজে অপরাধী এবং তাঁদের অবস্থান শনাক্ত করা যেত। ফরেনসিক ল্যাবে ডিজিটাল ডিভাইস থেকে নানারকম তথ্য উদ্ধার করা হতো। এতে মামলার তদন্তে গতি পেত। সিসি ক্যামেরার কারণে শহরে চুরি, ছিনতাইও অনেক কমেছিল। বিশেষ করে রিকশা, অটোরিকশা কিংবা মোটরসাইকেল চুরি অনেকটাই বন্ধ হয়েছিল। আবার কোথাও এ ধরনের ঘটনা ঘটলে সহজেই অপরাধীকে শনাক্ত করা যেত।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আরএমপির সাবেক কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক যোগদান করেই আরএমপিতে সাইবার ক্রাইম ইউনিট প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। পরে ২০২০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর মাত্র তিনটি কম্পিউটার নিয়ে সাইবার ক্রাইম ইউনিটের যাত্রা শুরু হয়। তখন এ ইউনিটের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পান তৎকালীন সহকারী কমিশনার উৎপল কুমার চৌধুরী। ইউনিটের প্রধান হিসেবে পদায়ন করা হয় একজন উপকমিশনারকে। আরএমপি সদর দপ্তরে একতলা একটি টিনশেড ভবন থেকে এর কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো। দুটি কক্ষজুড়ে ছিল কম্পিউটার, ল্যাপটপ। দেয়ালজুড়ে ছিল সিসি ক্যামেরার মনিটর। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পর সাইবার ক্রাইম ইউনিটে লুটপাট চলে। পরে আগুন দিয়ে সবকিছুই পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সাবেক পুলিশ কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিকের উদ্যোগে শুরুতেই শহরজুড়ে প্রায় ৪০০ সিসি ক্যামেরা বসানো হয়। এগুলো মনিটরিং করা হতো সাইবার ক্রাইম ইউনিট থেকে। এ ইউনিট পুড়িয়ে দেওয়ার আগপর্যন্ত প্রায় ৩৫০টি সিসি ক্যামেরা সচল ছিল। কার্যক্রম শুরুর পর সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এগিয়ে এসেছিল আমেরিকান দূতাবাস। তাদের সহযোগিতায় এ ইউনিটের পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যরা কয়েক দফা উন্নত প্রশিক্ষণ পান। অপরাধী শনাক্তে প্রযুক্তিগত নানা ধরনের সহায়তাও করেছিল আমেরিকান দূতাবাস।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৫ আগস্টের আগে এই ইউনিটে একজন উপকমিশনার (ডিসি) ও একজন অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) ছিলেন। এ ছাড়া ৩ জন এসআই, ২ জন এএসআই ও ১২ জন কনস্টেবল কাজ করতেন। তাঁদের বাইরে শুধু ক্যামেরায় চোখ রাখার জন্য নিয়োজিত ছিলেন একজন এসআই ও সাতজন কনস্টেবল। সম্প্রতি এ ইউনিটের ডিসি সরকার ওমর ফারুক ও এডিসি উৎপল কুমার চৌধুরী অন্যত্র বদলি হয়ে গেছেন। এখন কোনো ডিসি কিংবা এডিসি এ ইউনিটের দায়িত্বে নেই। ইউনিটের কার্যালয় পুড়িয়ে দেওয়ার পর এখন আরএমপি পুলিশ লাইনসের একটি কক্ষে কয়েকটি কম্পিউটার নিয়ে খুবই স্বল্প পরিসরে কার্যক্রম চলছে। এখন আগের মতো সিসি ক্যামেরায় চোখ রাখা হচ্ছে না। হারানো মোবাইল ফোনও উদ্ধার হচ্ছে না।
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) জেলা সভাপতি আহমেদ সফিউদ্দিন বলেন, ‘আরএমপিতে বেশ কিছু ভালো কাজ হয়েছিল। তার মধ্যে সাইবার ক্রাইম ইউনিট প্রতিষ্ঠা অন্যতম। এর ফলে শহরে অপরাধ কমেছিল। বিগত আন্দোলনের সময় ইউনিট কার্যালয়টি ধ্বংস করে ফেলা হয়। আমি মনে করি, একটা নগরের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিতে এর কোনো বিকল্প নেই।’
জানতে চাইলে আরএমপি কমিশনার আবু সুফিয়ান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘সাইবার ক্রাইম ইউনিটের কর্মীরা আলাদা ছোট একটা অফিসে স্বল্প পরিসরে কাজ করছেন। এটা কবে আবার আগের অবস্থায় ফেরানো যাবে, সেটা এখনই বলতে পারছি না। তবে আমরা আগে সিসি ক্যামেরাগুলো লাগাতে চাই। এ জন্য সিটি করপোরেশনের সহযোগিতা চেয়ে চিঠি দিয়েছি। তারা সাড়া দিলে দ্রুতই হবে।’

নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলায় মাদক সেবনরত অবস্থায় দুজনকে হাতেনাতে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। পরে ঘটনাস্থলে ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) বসিয়ে তাঁদের প্রত্যেককে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
৩৩ মিনিট আগে
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক জানান, মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনাটি মতিঝিল থানা-পুলিশকে জানানো হয়েছে।
৩৬ মিনিট আগে
রাজধানীর শান্তিবাগে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় সেকান্দার আলী (৩২) নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ওই যুবককে মুমূর্ষু অবস্থায় তাঁর স্বজনেরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন।
২ ঘণ্টা আগে
পুলিশ জানায়, সোমবার দুপুরে রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে স্টোরকিপার ফারুক হোসেন প্রায় ৪০ হাজার মেট্রোনিডাজল ট্যাবলেট ও ১৮টি ওজন পরিমাপক যন্ত্র চুরি করে বের করেন। এসব পণ্য তিনি সন্ধ্যার দিকে উপজেলার কলেজপাড়ায় একটি কুরিয়ার সার্ভিসের বুকিং কার্যালয়ে নিয়ে যান।
২ ঘণ্টা আগে