Ajker Patrika

মডেল থানার এএসআইয়ের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার-বাণিজ্যের অভিযোগ

রাজশাহী, প্রতিনিধি
মডেল থানার এএসআইয়ের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার-বাণিজ্যের অভিযোগ
এএসআই জাহাঙ্গীর আলম। ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহীর চারঘাট মডেল থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে আসামি গ্রেপ্তার-বাণিজ্য, মাদক কারবারিদের সঙ্গে যোগাযোগ ও মাসোহারা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত এক আসামিকে ১০ হাজার টাকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া ও আরেক ব্যক্তিকে ১০ হাজার টাকা নিয়ে মাদক মামলার আসামি করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ১ জুন চারঘাট উপজেলার ইউসুফপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও মাদক মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি মো. সাহাবুদ্দিন ওরফে সুমনকে (৩৫) তাঁর নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করেন এএসআই জাহাঙ্গীর আলম। পরে ১০ হাজার টাকা নিয়ে বাড়িতেই তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। সাহাবুদ্দিনের বাবার নাম মৃত গোলাম মজিদ।

থানায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে একটি মাদক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আদালত থেকে চারঘাট থানায় পৌঁছায়। এখনো তিনি আইনের আওতায় আসেননি।

অথচ এর মধ্যে তাঁকে গ্রেপ্তার করেও ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। বিষয়টি ওই এলাকার প্রায় সবাই জানে।

এদিকে মো. সাধন (৩৭) নামের এক ব্যক্তিকে ১০ হাজার টাকা নিয়ে মাদক মামলার আসামি করার অভিযোগও উঠেছে এএসআই জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে। গত সোমবার (৮ জুন) চারঘাট থানায় মামলাটি করেন উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুল ইসলাম। সাধনের বাড়ি উপজেলার মোক্তারপুর মধ্যপাড়া গ্রামে। তাঁর বাবার নাম জেকের আলী।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, পারিবারিক কলহে সাধন প্রায়ই তাঁর স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মারধর করতেন। প্রতিকার চাইতে স্বপ্না পুলিশের কাছে গেলে এএসআই জাহাঙ্গীর তাঁকে মাদক মামলায় জেলে পাঠানোর পরামর্শ দেন। পরে স্বপ্নার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নিয়ে গত সোমবার খুদির বটতলা এলাকা থেকে সাধনকে আটক করা হয়। এরপর ১৫০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার দেখিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মাদক মামলা করা হয়।

এএসআই জাহাঙ্গীর আলমকে ১০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন স্বপ্না খাতুন।

এলাকায় খোঁজ নিয়ে আরও জানা গেছে, চারঘাটের মাদকপ্রবণ এলাকা ইউসুফপুর ইউনিয়নের বিট কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় জাহাঙ্গীর আলম ওই এলাকার মাদক কারবারিদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। অভিযোগ রয়েছে, অন্তত ২৭ জন মাদক কারবারির কাছ থেকে তিনি মাসে ৫ থেকে ১৫ হাজার টাকা করে মাসোহারা নিতেন। ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার সময় বোনাসও দিতে হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

জানতে চাইলে এএসআই জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ অস্বীকার করেন। টাকার বিনিময়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি সাহাবুদ্দিনকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগও তিনি নাকচ করেন। তিনি বলেন, ‘এসব কথা সব মিথ্যা। এসবের সত্যতা নেই। আমাকে এসব নিয়ে কেউ কিছু বলেনি।’

চারঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মালেক জানান, আসামি সাহাবুদ্দিনকে টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া কিংবা টাকা নিয়ে সাধনকে মাদক মামলার আসামি করার বিষয়টি তিনি জানেন না। তিনি বলেন, মাদকের মামলা কিন্তু এএসআইয়েরা করতে পারেন না। মাদকের মামলা এসআইয়েরা করেন। তাই বিষয়টা খোঁজখবর না নিয়ে বলা যাবে না।

তবে ওসি স্বীকার করেন, জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে মাদক কারবারিদের যোগাযোগের বিষয়টি তিনিও শুনেছেন। খোঁজখবর নেওয়ার পর এ বিষয়ে কথা বলবেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত