পাইলিং করে নির্মাণ বন্ধ ২২ কোটির সেতুর

পিরোজপুরের নেছারাবাদে ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন নাপিতখালী সেতুর কাজ ছয় মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। প্রায় এক বছর আগে নির্মাণকাজ শুরু হলেও এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ১৭ মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে সেতুটি চালু হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের এক প্রতিনিধির দাবি, পুরো কাজ শেষ হতে আরও প্রায় দুই বছর লাগতে পারে। তবে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর দাবি, ইতিমধ্যে ৪০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।
জানা গেছে, সেতুটি নেছারাবাদ-স্বরূপকাঠি থেকে পিরোজপুর সড়কের নাপিতখালী এলাকায় নির্মাণ করা হচ্ছে। এর দৈর্ঘ্য ৭৯ দশমিক ৪২ মিটার। গত ৯ মার্চ গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মেদ সোহেল মঞ্জু সেতুটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এ সময় তিনি ঠিকাদার মো. মাসুদ খানকে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করার নির্দেশ দেন। পরে নির্মাণকাজ পরিদর্শন করেও দ্রুত কাজ শেষ করার তাগিদ দেন তিনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পাইল স্থাপন ছাড়া দৃশ্যমান তেমন কোনো কাজ হয়নি। এদিকে নতুন সেতুর নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় পাশের ঝুঁকিপূর্ণ পুরোনো সেতু দিয়েই যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ফরিদ শেখ বলেন, দুই-তিন মাস কাজ চলার পর নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়। ঝুঁকিপূর্ণ পুরোনো সেতু দিয়ে প্রতিদিন যানবাহন চলাচল করায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
জলাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোহেদী সরোয়ার বলেন, উপজেলা থেকে জেলা শহরে যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম এই সেতু। প্রতিদিন যাত্রীবাহী বাস, মালবাহী ট্রাকসহ শত শত যানবাহন পুরোনো সেতু দিয়ে চলাচল করছে। এতে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
নির্মাণকাজের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওরিয়েন্ট ট্রেডিং অ্যান্ড বিল্ডার্সের প্রতিনিধি গৌতম সাহা বলেন, ‘পানির অতিরিক্ত স্রোতের কারণে প্রায় পাঁচ মাস কাজ বন্ধ ছিল। আগামী কালীপূজার পর আবার কাজ শুরু হবে। সেতুর ৬৮টি পাইলের মধ্যে ৪৮টি স্থাপন করা হয়েছে। বাকি পাইলগুলো পর্যায়ক্রমে বসানো হবে। তবে পুরো কাজ শেষ হতে আরও প্রায় দুই বছর লাগতে পারে।’
অন্যদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মো. মাসুদ খান বলেন, ‘অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণের জন্য প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণের বরাদ্দ নেই। জমির মালিকদের সঙ্গে সমঝোতা করে জমির ব্যবস্থা করতে সময় লেগেছে। এ ছাড়া স্রোতের কারণে পাঁচ থেকে ছয় মাস কাজ বন্ধ ছিল।’ তাঁর দাবি, ইতিমধ্যে ৩০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার আশা করছেন তিনি।
পিরোজপুর সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাসেল বলেন, ‘২০২৭ সালের ৭ জুলাই প্রকল্পের কাজের মেয়াদ শেষ হবে। এ পর্যন্ত ৪০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং বাস্তবায়িত কাজের বিপরীতে বিল পরিশোধ করা হয়েছে।’









