হাতিয়ায় ৪ দোকানে তালা দিয়ে দখলে নিলেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা

নোয়াখালীর হাতিয়ায় বাজারে বেচাকেনা চলাকালে দোকানিদের বের করে দিয়ে চারটি দোকানে তালা লাগিয়ে দখলের অভিযোগ উঠেছে জাহাজমারা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা দিনাজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে। জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী নাসির উদ্দিন।
আজ সোমবার এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে সহকারী পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন নাসির উদ্দিন। এর আগে গতকাল রোববার বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার জাহাজমারা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।
অভিযুক্ত দিনাজ উদ্দিন জাহাজমারা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মনির উদ্দিনের ছেলে। তিনি একই ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক।
অভিযোগে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের জমিতে দোকানঘর নির্মাণ করে ভাড়া দিয়ে ভোগদখল করে আসছেন স্থানীয় নাসির উদ্দিন ও তাঁর ভাই। জমির মালিকানা ও দখল-সংক্রান্ত কাগজপত্র তাঁদের কাছে রয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
নাসির উদ্দিনের অভিযোগ, গত কয়েক বছর ধরে দিনাজ উদ্দিন ও তাঁর বাবা ওই জায়গার মালিকানা দাবি করে আসছেন। এ নিয়ে তাঁরা আদালতে মামলা করেছেন, যা বিচারাধীন।
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, গতকাল বিকেলে দিনাজ উদ্দিনসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জোর করে দোকানঘরে ঢোকেন। সে সময় বেচাকেনায় ব্যস্ত দোকানিদের বের করে দিয়ে তাঁরা তালা লাগিয়ে দেন। বাধা দিতে গেলে নাসির উদ্দিন ও তাঁর ভাইকে ভয়ভীতি দেখানো এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
নাসির উদ্দিন সহকারী পুলিশ সুপারের কাছে দোকানঘরের তালা খুলে দেওয়া, সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পর্যালোচনা করে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া ও তাঁদের সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আবেদন জানান।
সহকারী পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে জাহাজমারা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মমিনুল হককে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এদিক, অভিযুক্ত দিনাজ উদ্দিন বলেন, ‘তারা ২০১৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাব দেখিয়ে আমাদের এই জায়গা দখল করে। এরপর আমরা দেওয়ানি মামলা করি। সরকার পতনের পর নৌবাহিনীর কারণে আমরা দখলে যেতে পারিনি। গতকাল হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কার্যালয়ে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে বৈঠক হয়। তাতে তারা মালিকানার কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। এই জায়গা আমাদের, তাই আমরা দখলে নিয়েছি।’
জাহাজমারা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মমিনুল হক বলেন, ‘সহকারী পুলিশ সুপার মহোদয় আমাকে মৌখিকভাবে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। সরেজমিনে দোকানঘরে তালা দেওয়ার ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। আদালতের নির্দেশ ছাড়া কেউ কারও ঘরে তালা দিতে পারেন না। তাঁদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’









