Ajker Patrika

নীলফামারীতে ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবিতে ৫ ঘণ্টা রেল অবরোধ

নীলফামারী প্রতিনিধি
আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬: ২৯
নীলফামারীতে ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবিতে ৫ ঘণ্টা রেল অবরোধ
আজ সকালে উপজেলার জোড়াবাড়ী ইউনিয়নের মির্জাগঞ্জ রেলস্টেশন এলাকায় রেললাইন অবরোধ করেন স্থানীয়রা। ছবি: সংগৃহীত

নীলফামারীর মির্জাগঞ্জ রেলস্টেশনে ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবিতে পাঁচ ঘণ্টা রেললাইন অবরোধ করেছেন স্থানীয়রা। এতে চিলাহাটি থেকে খুলনাগামী রকেট মেইল ট্রেনটি প্রায় পাঁচ ঘণ্টা দেরিতে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চিলাহাটি স্টেশন থেকে যাত্রা শুরু করে। আর রূপসা এক্সপ্রেস চিলাহাটি পর্যন্ত না গিয়ে মির্জাগঞ্জের আগের স্টেশন ডোমার থেকে খুলনার উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

আজ শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার জোড়াবাড়ী ইউনিয়নের মির্জাগঞ্জ রেলস্টেশন চত্বরে মানববন্ধন শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এতে প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষ অংশ নেন। পরে তাঁরা রেললাইন অবরোধ করেন।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, এই রুটে চলাচলকারী ট্রেনগুলোর মধ্যে শুধু রকেট মেইল মির্জাগঞ্জ স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেয়। তবে ট্রেনটি প্ল্যাটফর্মসংলগ্ন ১ নম্বর লাইনে না দাঁড়িয়ে ২ নম্বর লাইনে থামে। এতে নারী, বয়স্ক ও সাধারণ যাত্রীদের ট্রেনে ওঠানামায় দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, নীলফামারীর অন্যতম প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশন মির্জাগঞ্জ। অথচ তিতুমীর ও বরেন্দ্র এক্সপ্রেসের মতো গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনগুলোর নিয়মিত যাত্রাবিরতি নেই। স্টেশনটি জোড়াবাড়ী ইউনিয়ন ছাড়াও আশপাশের কয়েকটি ইউনিয়ন এবং পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষের যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম। স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও দূরদূরান্তে মালামাল পরিবহনে স্টেশনটি ব্যবহার করেন।

বক্তারা আরও বলেন, বর্তমানে যে ট্রেনটি মির্জাগঞ্জে থামে, সেটিও ২ নম্বর লাইনে দাঁড়ায়। ফলে নিচ থেকে উঁচুতে উঠে ট্রেনে উঠতে ও নামতে গিয়ে যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। তাই ১ নম্বর লাইনে ট্রেন থামানোর দাবি জানান তাঁরা।

আন্দোলনকারীরা মির্জাগঞ্জ স্টেশনে পর্যাপ্ত ট্রেনের যাত্রাবিরতি, ১ নম্বর লাইনে ট্রেন থামানো এবং তিতুমীর, রূপসা ও বরেন্দ্র এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতির দাবি জানান। এসব দাবি ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মেনে নেওয়া না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া রহমত আলী বলেন, ‘আমরা ছাড়াও আশপাশের পাঁচ-ছয়টি ইউনিয়নের মানুষ এই স্টেশন ব্যবহার করে যাতায়াত করি। অনেক ব্যবসায়ীও এখান থেকে দূরদূরান্তে মালামাল পরিবহন করেন। তাই আমাদের প্রধান দাবি, ১ নম্বর লাইনে ট্রেন থামাতে হবে। বর্তমানে যে ট্রেনটি থামে, সেটি ২ নম্বর লাইনে দাঁড়ায়। নিচ থেকে ঝুলে ঝুলে ট্রেনে উঠতে গিয়ে নারীসহ সব যাত্রীকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।’

জামাল উদ্দিন বলেন, ‘আমরা বাবা-চাচাদের কাছে শুনেছি, একসময় এই স্টেশনে তিন-চারটি ট্রেন থামত। আমরা এখনো সেই সুবিধা ফিরে পাওয়ার দাবি জানাই। তিতুমীর, বরেন্দ্র ও রূপসা ট্রেনকে ১ নম্বর লাইনে থামাতে হবে।’

বাংলাদেশ রেলওয়ের পার্বতীপুর শাখার সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, ‘জনবলসংকটের কারণে মূলত মির্জাগঞ্জ স্টেশনটি বন্ধ রয়েছে। এসব সমস্যা ও স্থানীয়দের দাবিগুলো লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হলে আশা করি কর্তৃপক্ষ সমস্যা সমাধানে ইতিবাচক সাড়া দেবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত