Ajker Patrika

সৈয়দপুর রেল কারখানা: চাকার অভাবে চলছে না ট্রেনের শতাধিক কোচ

  • বিভিন্ন রুটে ট্রেনগুলোতে প্রয়োজনীয় কোচের সংকট সৃষ্টি হয়েছে
  • আসন্ন ঈদযাত্রায় ট্রেনসেবা বিঘ্ন হওয়ার আশঙ্কা
  • দরপত্রে জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতায় চাকার অভাব
রেজা মাহমুদ, সৈয়দপুর (নীলফামারী) 
সৈয়দপুর রেল কারখানা: চাকার অভাবে চলছে না ট্রেনের শতাধিক কোচ
প্রয়োজনীয় চাকা না থাকায় সংস্কার করা যাচ্ছে না রেলের শতাধিক কোচ। ইয়ার্ডে দীর্ঘদিন পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে কোচগুলো। গতকাল নীলফামারীর সৈয়দপুর রেল কারখানায়। ছবি: আজকের পত্রিকা

নীলফামারীর সৈয়দপুর রেল কারখানার ইয়ার্ডে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে রয়েছে শতাধিক কোচ। এগুলোর মধ্যে অধিকাংশই ব্রডগেজ লাইনের ঢাকা থেকে ভিন্ন ভিন্ন রুটে চলাচলকারী বিভিন্ন আন্তনগর ট্রেনের কোচ। চাকা সংকটের কারণে এগুলো মেরামত করা যাচ্ছে না। এতে একদিকে যেমন কারখানায় ক্যারেজ মেরামতের প্রতিদিনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হচ্ছে না, তেমনি কোটি কোটি টাকা মূল্যের কোচগুলো খোলা জায়গায় পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। রেল কর্তৃপক্ষ বলছে, এ সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে।

জানা গেছে, আমদানিনির্ভর হওয়ায় দরপত্রে জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতায় এই রেল ইয়ার্ডে চাকার অভাব দেখা দিয়েছে। এতে মেরামতযোগ্য কোচগুলোও মেরামত করা যাচ্ছে না। ফলে আসন্ন ঈদযাত্রায় ট্রেনসেবা বিঘ্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা সূত্রে জানা যায়, যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের আন্তনগর ট্রেনের দুই শতাধিক কোচ মেরামতের জন্য সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় পাঠানো হয় প্রায় ৬ মাস আগে। এগুলোর মধ্যে ১০০টির বেশি কোচের শুধু চাকার সমস্যা। চাকা পরিবর্তন করলেই আবার সচল হবে। কিন্তু কারখানাটিতে নতুন চাকার সরবরাহ নেই বেশ কয়েক বছর থেকে। আর মজুত চাকাও শেষ হয়ে গেছে ইতিমধ্যে। এ কারণে কোচগুলো মেরামত করা সম্ভব হচ্ছে না। সেগুলো বর্তমানে কারখানার ইয়ার্ডে পড়ে রয়েছে। এতে করে দেশের বিভিন্ন রুটে ট্রেনগুলোতে প্রয়োজনীয় কোচের সংকট সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ব্রডগেজ কোচগুলোর ক্ষেত্রে এ সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কোচগুলো কারখানার ইয়ার্ডে পড়ে রয়েছে। এগুলোতে মরিচা ধরে গেছে। আশপাশে আগাছা গজিয়েছে। কোচগুলোর ভেতরের অবস্থাও নাজুক।

রেলওয়ে কারখানার বগি শপের ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী শাহিনুর আলম শাহ জানান, ট্রেনের বগিগুলো স্থাপন করা থাকে ট্রলির ওপর। এই ট্রলি স্থাপন করা হয় চাকার ফ্রেমে। প্রতিটি কোচে চার জোড়া চাকা থাকে, এর মধ্যে থাকে স্প্রিং এবং সূক্ষ্ম কিছু যন্ত্রাংশ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে রেলওয়ে কারখানার প্রকৌশল বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘অচল হয়ে পড়ে থাকা কোচগুলো ভারত, ইন্দোনেশিয়া, চীন থেকে আমদানি করা। এগুলো আনার পর একই সঙ্গে বিভিন্ন ট্রেনে সংযোজিত করে চালানো হয়েছে। ওই কোচগুলো আমদানির পর থেকে আর চাকার পরিবর্তন করা হয়নি। ফলে এগুলোর চাকার সমস্যা একই সময়ে দেখা দিয়েছে।’

ওই প্রকৌশলী আরও বলেন, ‘ট্রেনের খুলে রাখা ওই কোচগুলোর সব চাকাই পুরোটাই নষ্ট হয়ে গেছে। সেগুলো বদলাতে হবে। রেলওয়ের কোচের এসব চাকা আমদানিনির্ভর। কিন্তু দরপত্রে জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতায় রেল কারখানায় চাকাসহ কিছু যন্ত্রাংশের অভাব দেখা দিয়েছে। এ কারণে কোচগুলো মেরামত করা যাচ্ছে না।’

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) শাহ সুফী নুর মোহাম্মদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘লোকবল সংকট সত্ত্বেও প্রতি দু-দিনে তিনটি যাত্রীবাহী ও তিনটি মালবাহী কোচ মেরামতে সক্ষম সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা। কিন্তু প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সংকটের কারণে যথাসময়ে মেরামত করা যাচ্ছে না। বিশেষ করে বিদেশ থেকে আমদানিনির্ভর যন্ত্রাংশের খুবই সংকট দেখা দিয়েছে। এ কারণে আমাদের চাহিদামাফিক আউট টার্ন দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাপক বিড়ম্বনার সৃষ্টি হয়েছে।’ এসব সমস্যা সমাধানে রেলওয়ে ভবনসহ মন্ত্রণালয় ও সরকারের ইতিবাচক পদক্ষেপ আশা করেন নুর মোহাম্মদ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩ অধ্যাদেশ: বেশির ভাগ উঠবে না সংসদে

রোজার সময় সহবাসের নিয়ম ও বিধান

অবশেষে তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া আসনে প্রার্থী ঘোষণা, কে তিনি

কবি মোহন রায়হানের বাংলা একাডেমি পুরস্কার না পাওয়ার যে কারণ জানালেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

ফরিদগঞ্জে শৌচাগার থেকে প্রবাসীর স্ত্রীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত