
নীলফামারীর সৈয়দপুরের মুন্সিপাড়া এলাকায় রপ্তানিমুখী খান অ্যান্ড সন্স পোশাক তৈরির কারখানায় কাজ করতেন প্রায় অর্ধশত শ্রমিক। কিন্তু ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় বড় পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঝুট কাপড়ের দাম বেড়ে যায়। পাশাপাশি স্থলবন্দর দিয়ে পোশাক রপ্তানিতে ভারতের নিষেধাজ্ঞার কারণে ক্রয়াদেশ কমতে থাকে। এসব সংকটের মধ্যেও কারখানাটি চালু রাখার চেষ্টা করেছিলেন মালিক ও সৈয়দপুরের রপ্তানিমুখী ক্ষুদ্র গার্মেন্টস মালিক শিল্প সমিতির সভাপতি আকতার হোসেন খান। শেষ পর্যন্ত আর্থিক সংকটে গত সপ্তাহে কারখানাটি স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করতে বাধ্য হন তিনি।
আকতার হোসেন খান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ৪৭ জন নারী ও পুরুষ শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন।
তাঁদের পরিবারগুলোর ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত।’
সৈয়দপুরের রপ্তানিমুখী ক্ষুদ্র গার্মেন্টস মালিক শিল্প সমিতির তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে উপজেলায় ছোট-বড় ১০০টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এর মধ্যে ৭০টি স্থায়ীভাবে ও ৩০টি অস্থায়ীভাবে বন্ধ হয়েছে। এতে প্রায় পাঁচ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। একই সময় সুতা ও অন্যান্য উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি এবং পুঁজিসংকটের কারণে উপজেলার প্রায় দেড় শ কারচুপি শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে আরও পাঁচ হাজারের বেশি কারিগর কাজ হারিয়েছে। সব মিলিয়ে দুই শিল্প খাতে বন্ধ হয়েছে প্রায় ২৫০টি কারখানা।
সৈয়দপুর এক্সপোর্টেবল স্মল গার্মেন্টস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (ইএসজিওএ) জানায়, পাকিস্তান আমল থেকেই সৈয়দপুরে ঝুট কাপড়ভিত্তিক পোশাক উৎপাদন হয়ে আসছে। ২০০২ সালের পর এই শিল্পের বিস্তার আরও বাড়ে। ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রাম থেকে সংগৃহীত ঝুট কাপড় দিয়ে ট্রাউজার, শর্টস, জ্যাকেট, টি-শার্ট ও জিনস তৈরি করা হয়। এসব পোশাকের বড় বাজার ছিল ভারত, নেপাল ও ভুটান।
ইএসজিওএর তথ্য অনুযায়ী, ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত ১৭ মে এক আদেশে তৈরি পোশাক শুধু কলকাতা সমুদ্রবন্দরের মাধ্যমে আমদানি করার সিদ্ধান্ত নেয়। এতে স্থলবন্দরনির্ভর রপ্তানি কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। আগে সৈয়দপুর থেকে বেনাপোল, সোনামসজিদ ও সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে পোশাক রপ্তানি হতো। যেখানে আগে এক চালানে খরচ পড়ত প্রায় ২০ হাজার টাকা, এখন কলকাতা সমুদ্রবন্দর দিয়ে রপ্তানিতে খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬০ হাজার টাকা।
রপ্তানিকারকেরা জানান, টিকে থাকার জন্য অনেক প্রতিষ্ঠান লোকসান গুনেও উৎপাদন চালাচ্ছে। চলতি বছরে সৈয়দপুর থেকে প্রায় দুই লাখ ডলারের পোশাক ভারতে রপ্তানি হয়েছে, যা গত কয়েক বছরের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ কম।
সৈয়দপুর রপ্তানিমুখী ক্ষুদ্র গার্মেন্টস মালিক শিল্প সমিতির সভাপতি আকতার হোসেন খান বলেন, ‘ভারত সরকারের স্থলবন্দর-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা এ শিল্পকে বড় ধাক্কা দিয়েছে।’
কারচুপি শিল্পকারখানা
সৈয়দপুর কারচুপি শিল্প সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার শহর ও গ্রামের বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠে তিন শতাধিক কারচুপি কারখানা। এসব কারখানায় কাঠের ফ্রেমে শাড়ি, পাঞ্জাবি, ওড়নাসহ বিভিন্ন ধরনের পোশাকে কারচুপি ও নকশার কাজ করেন প্রায় ১০ হাজার নারী-পুরুষ। এ ছাড়া বাড়িতেও কাজ করেন কেউ কেউ।
শহরের রসুলপুর এলাকার বাসিন্দা রোজিনা বেগম তাঁর স্বামীর মৃত্যুর পর পরিবারের হাল ধরেন। তিনি যে কারখানায় কাজ করতেন, সম্প্রতি সেটি বন্ধ হয়ে যায়। রোজিনা বলেন, ‘লোকসানের জন্য মালিক কারখানা বন্ধ করে দেইল। এলাই হামার কাম-কাজ নাই। কেমন করি সংসার চলিবে। ছোট দুইখান ছাওয়াক নিয়া না খায়া মরির নাগিবে।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী বিভাগের ৩৯টি আসনের মধ্যে অন্তত ১৬টি আসনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বিভাগের অন্য আসনগুলোর মধ্যে ১৭টিতে বিএনপির প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। আর জামায়াতের প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন ৬টি আসনে। ৮ জেলার মাঠপর্যায়ের তথ্য বিশ্লেষণে এমন হিসাবই পাওয়া যাচ্ছে।
১৫ মিনিট আগে
রাজধানীর উত্তরায় ওয়েল্ডিংয়ের ঝালাই থেকে ফার্নিচার মার্কেটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ছয় দোকানের মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। যদিও দুপুরে একই কাজ করতে গিয়ে আরেকবার অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। পরে ব্যবসায়ীরা তা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে।
৩ ঘণ্টা আগে
‘আমি অনেকবার জামিন চেয়েছি, জামিন হয়নি। আমি আমার ছেলেকে কোলে নিতে পারিনি, আমার স্ত্রী-সন্তানের লাশের বিনিময়ে আমাকে জামিন দেওয়া হলো।’
৪ ঘণ্টা আগে
শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে বিএনপি-জামায়াত নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষে আহত শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিম মারা গেছেন। জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাফিজুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন। শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভূঞাও আজকের পত্রিকাকে বিষয়টি নিশ্চিত
৪ ঘণ্টা আগে