Ajker Patrika

ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা শিশুছাত্রী, সব সম্পদের বিনিময়ে মামলা থেকে মুক্তি চান মাদ্রাসাশিক্ষক

নেত্রকোনা প্রতিনিধি
আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২: ০৬
ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা শিশুছাত্রী, সব সম্পদের বিনিময়ে মামলা থেকে মুক্তি চান মাদ্রাসাশিক্ষক
অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগর। ছবি: সংগৃহীত

নেত্রকোনার মদনে ১১ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে একাধিকবার ধর্ষণ ও গর্ভবতী করার মামলায় যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। আগামী ১১ নভেম্বর মামলাটির রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছেন আদালত।

আজ বুধবার নেত্রকোনা জেলা ও দায়রা জজ এবং শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আব্দুছ সালামের আদালতে যুক্তিতর্ক শেষে এ দিন ধার্য করা হয়।

যুক্তিতর্ক চলাকালে বিচারকের অনুমতি নিয়ে কথা বলার সুযোগ চান অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগর। তিনি জানান, তাঁর ১২-১৫ শতাংশ জমি রয়েছে। মামলা থেকে মুক্তি পেতে জমিসহ জীবনের সব সম্পদের বিনিময়েও রাজি বলে জানান তিনি। এ সময় স্ত্রী ও সন্তানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন কারাগারে থাকতে হলে তাঁদের ভরণপোষণ ও দেখাশোনা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার যুক্তিতর্ক শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট নুরুল কবির রুবেল এবং আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান অংশ নেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী আপসের বিষয়ে কথা বলতে চাইলে বিচারক তা নাকচ করে দেন।

এর আগে অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ডিএনএ পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রতিবেদনে ভুক্তভোগী শিশুর জন্ম দেওয়া নবজাতকের সঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষক সাগরের ডিএনএর ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ মিল পাওয়া যায়। এ প্রতিবেদনকে মামলার গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। এ ছাড়া পুলিশ আদালতে চূড়ান্ত অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. নূরুল কবীর রুবেল বলেন, মামলার রায়ের আগে গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক প্রক্রিয়া হিসেবে আজ বুধবার যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের সব নথিপত্র আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। মামলার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পেরেছেন বলে তাঁরা মনে করেন। আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

গত ২৮ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মদন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আক্তারুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এতে মাদ্রাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদি ওরফে সাগর এবং তাঁর ভাই মাইমুন ওরফে মামুন মিয়াকে (৩২) অভিযুক্ত করা হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২৩ এপ্রিল ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে মদন থানায় শিক্ষক সাগরের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। এজাহারে অভিযোগ আনা হয়, সাগর শিশুটিকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। এতে শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে এবং পরবর্তী সময়ে একটি সন্তানের জন্ম দেয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত