Ajker Patrika

নেত্রকোনায় শিশু ধর্ষণ মামলার আসামি গাজীপুরে গ্রেপ্তার

নেত্রকোনা প্রতিনিধি
নেত্রকোনায় শিশু ধর্ষণ মামলার আসামি গাজীপুরে গ্রেপ্তার
আব্দুর রহিম। ছবি: সংগৃহীত

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় ৯ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় আব্দুর রহিম (৫৫) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গাজীপুরের একটি বাসা থেকে র‍্যাব তাঁকে গ্রেপ্তার করে। আজ শুক্রবার সকালে তাঁকে কেন্দুয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়। পরে দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

পুলিশ, শিশুটির পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার দুপুরে বাড়ির পাশের হাওর থেকে গরু আনতে যায় শিশুটি। ফিরতে দেরি হওয়ায় তাকে খুঁজতে বের হন তার মা। একপর্যায়ে হাওরের মধ্যে একটি গাছের নিচে আব্দুর রহিমকে শিশুটিকে ধর্ষণ করতে দেখেন তিনি। মাকে দেখে রহিম দৌড়ে পালিয়ে যান।

পরে শিশুটিকে উদ্ধার করে স্থানীয় এক গ্রাম্য চিকিৎসককে দেখিয়ে বাড়িতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পর গ্রামের কয়েকজন মাতবর বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। নির্যাতিত শিশুটির পরিবারকে আইনি ব্যবস্থা নিতে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকার প্রলোভনও দেখানো হয়। তবে শিশুটির পরিবার এতে রাজি হয়নি।

গত সোমবার দুপুরে মেয়েটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরদিন মঙ্গলবার দুপুরে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেত্রকোনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়। ওই দিনই মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে আব্দুর রহিমকে একমাত্র আসামি করে থানায় মামলা করেন।

মেয়েটির বাবা বলেন, ‘এই ঘটনায় আমি থানায় মামলা করতে চাইলে গ্রামের মাতবর আবু তাহের ও আবু বক্কর মীমাংসার কথা বলে বাধা দেন। টাকার প্রলোভনও দেখান। লোকলজ্জার ভয়ে আমি তখন থানা-পুলিশকে জানাইনি। রহিমের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

অভিযুক্ত মাতবর আবু তাহের ও আবু বক্করের বক্তব্য জানতে তাঁদের মোবাইল ফোনে কল করা হলে তা বন্ধ পাওয়া গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর সোমবার সকাল থেকে ওই দুই ব্যক্তি গা ঢাকা দিয়েছেন।

কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদি মাকসুদ বলেন, অভিযুক্ত আব্দুর রহিমকে র‍্যাব গ্রেপ্তার করে পুলিশে হস্তান্তর করেছে। আজ দুপুরে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই ঘটনায় যে দুজন মাতবরের নাম আলোচনায় এসেছে, তদন্তে তাঁদের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত