Ajker Patrika

বড়াইগ্রামে মতবিনিময় সভায় খাবার খেয়ে শতাধিক শিক্ষক অসুস্থ

বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি
বড়াইগ্রামে মতবিনিময় সভায় খাবার খেয়ে শতাধিক শিক্ষক অসুস্থ
শিক্ষার মান উন্নয়নে মতবিনিময় সভা। ছবি: আজকের পত্রিকা

নাটোরের বড়াইগ্রামে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের সঙ্গে শিক্ষার মান উন্নয়নে মতবিনিময় সভায় সরবরাহ করা খাবার খেয়ে শতাধিক শিক্ষক অসুস্থ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শনিবার সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আয়োজনে অনুষ্ঠানের খাবার খেয়ে রাত থেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন শিক্ষকেরা। তাঁদের উপজেলা হাসপাতাল ও বেসরকারি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নাটোর-৪ (বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ। এতে উপজেলার ৪৪টি এমপিওভুক্ত মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১১০০ শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।

অসুস্থ হওয়াদের মধ্যে আগ্রান উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ জন, কারবালা দাখিল মাদ্রাসার ১১ জন, চান্দাই উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ জন ও মাড়িয়া মাদ্রাসার ২ জন শিক্ষক রয়েছেন বলে জানা গেছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌসের সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রোস্তম আলী হেলালী, জেলা বিএনপির সদস্য অ্যাড. আব্দুল কাদের মিয়া ও অ্যাড. শরীফুল হক মুক্তা, বড়াইগ্রাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান আসাদ প্রমুখ।

একাধিক শিক্ষক জানান, শিক্ষকপ্রতি ৩০০ টাকা নিয়ে এই সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠান থেকে সরবরাহ করা খাবার খেয়ে রাত থেকে বমি বমি ভাব, পাতলা পায়খানা ও পেটব্যথা দেখা দেয়। পরে তাঁরা বিভিন্ন হাসপাতালে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন।

আগ্রান উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সেলিম রেজা বলেন, এই খাবার খেয়ে ১০ জন সহকর্মী অসুস্থ হয়ে বাড়িতেই প্রাথমিক চিকিৎসা নিচ্ছেন।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম আক্তার বলেন, অসুস্থ হওয়ার খবর শুনেছি। এই অনুষ্ঠান শিক্ষকদের আয়োজনে। কোথা থেকে কীভাবে খাবার সরবরাহ করেছে, তাঁরাই বলতে পারবে।

বড়াইগ্রাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান বলেন, উপজেলা আহম্মেদপুর বনফুল হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট থেকে খাবার নিয়ে এসে সরবরাহ করা হয়েছে। কীভাবে অসুস্থ হলো, বোঝা যাচ্ছে না।

বনফুল হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের মালিক মিন্টু মিয়া বলেন, কী কারণে হয়েছে, বলতে পারব না। তার খাবার খেয়ে সবাই অসুস্থ হওয়ার কথা। কেউ হলো, কেউ হলো না—কেমন কথা। ইউএনও অফিসের ৪০ জন খেয়েছে, তাঁরা কেউ অসুস্থ হলো না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, হোটেলের মান খারাপ হওয়ার কারণে এমনটা হতে পারে। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে হোটেলের খাবারের মান খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত