Ajker Patrika

নরসিংদীতে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের ৮৫তম জন্মবার্ষিকী পালিত

রায়পুরা (নরসিংদী) প্রতিনিধি
নরসিংদীতে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের ৮৫তম জন্মবার্ষিকী পালিত
‘বাংলার ঈগল’ স্মৃতিস্মারকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

নরসিংদীর রায়পুরায় যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানী বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানের ৮৫তম জন্মবার্ষিকী। আজ বৃহস্পতিবার দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা এবং দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

দুপুরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের মাহমুদাবাদ এলাকায় স্থাপিত ‘বাংলার ঈগল’ স্মৃতিস্মারকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে বাদ জোহর উপজেলা মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদ রানা বলেন, বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্মৃতিস্মারকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনায় উপজেলা মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

১৯৪১ সালের ২৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার আগা সাদেক রোডের পৈতৃক বাড়ি ‘মোবারক লজে’ জন্মগ্রহণ করেন মতিউর রহমান। তাঁর পৈতৃক নিবাস নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মতিনগর গ্রামে। মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক খেতাব ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ প্রদান করা হয়।

মতিউর রহমানের শিক্ষাজীবন শুরু হয় ঢাকার কলেজিয়েট স্কুলে। পরে তিনি পাকিস্তানের সারগোদা এয়ার ফোর্স পাবলিক স্কুলে পড়াশোনা করেন। ১৯৬৩ সালে পাকিস্তান বিমানবাহিনীতে কমিশন লাভের পর তিনি ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট পদে উন্নীত হন।

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে পাকিস্তান বিমানবাহিনীতে কর্মরত থাকা অবস্থায়ও দেশের স্বাধীনতার পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন তিনি। মুক্তিকামী বাঙালি যুবকদের সংগঠিত ও প্রশিক্ষিত করতে ভৈরব এলাকায় উদ্যোগ নেন। একপর্যায়ে পাকিস্তান থেকে একটি প্রশিক্ষণ বিমান নিয়ে স্বাধীনতাযুদ্ধে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করেন এই বীর সেনানী।

১৯৭১ সালের ২০ আগস্ট পাকিস্তানের করাচির মাসরুর বিমানঘাঁটি থেকে একটি টি-৩৩ প্রশিক্ষণ বিমান নিয়ে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। এ সময় বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে বিমানটি পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের থাট্টা এলাকায় বিধ্বস্ত হয়। এতে শহীদ হন মতিউর রহমান। তাঁর এই আত্মত্যাগ তাঁকে বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামের ইতিহাসে অমর করে রেখেছে।

শহীদ হওয়ার পর পাকিস্তানের করাচিতে তাঁকে সমাহিত করা হয়। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর ২০০৬ সালের ২৪ জুন তাঁর দেহাবশেষ বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়। পরদিন ২৫ জুন পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ঢাকার মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাঁকে পুনঃসমাহিত করা হয়।

বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের স্মৃতি সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর বীরত্বগাথা তুলে ধরতে রায়পুরায় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর। তাঁর জীবন, দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগ আজও দেশের তরুণ প্রজন্মকে স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত