রায়পুরায় অভিযানে বিদেশি পিস্তলসহ গ্রেপ্তার ৩

নরসিংদীর রায়পুরায় পুলিশের পৃথক অভিযানে তিনটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও আটটি গুলিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ১৮ ও ২০ অক্টোবর এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় একটি নিবন্ধনবিহীন মোটরসাইকেলও জব্দ করেছে পুলিশ।
আজ বুধবার বিকেলে রায়পুরা থানা প্রাঙ্গণে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আশিকুর রহমান।
তিনি জানান, গত ২০ অক্টোবর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার চর আড়ালিয়া ইউনিয়নের বাঘাইকান্দি এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. ইসমাইল (৩৫) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্য ও দেখানো মতে, তাঁর মায়ের বসতঘরের চালের ড্রাম থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও ছয়টি গুলি উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া তাঁর নিজের বসতঘর থেকে আরও একটি বিদেশি পিস্তল ও একটি গুলি উদ্ধার করা হয়।
এর আগে ১৮ অক্টোবর রাতে আড়িয়াল খাঁ নদীর ওপর বাঘমারা সেতুতে চেকপোস্ট বসিয়ে অভিযান চালায় পুলিশ। রাত পৌনে ১০টার দিকে মোটরসাইকেলে থাকা দুই আরোহীকে তল্লাশি করা হয়। এ সময় বিজয় মিয়া (২৩) নামের এক ব্যক্তির কোমরের পেছনে গোঁজা অবস্থায় একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও এক রাউন্ড গুলি পাওয়া যায়। তাঁর সঙ্গে থাকা জুম্মন মিয়া (১৯) নামের আরেক ব্যক্তিকেও গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের ব্যবহৃত কালো রঙের একটি নিবন্ধনবিহীন সুজুকি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার বিজয় মিয়ার বাড়ি কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার শিবপুর এলাকায়। জুম্মন মিয়া নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার উত্তর বাখরনগর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা। এর আগে গ্রপ্তার হওয়া ইসমাইলও একই উপজেলার চর আড়ালিয়া ইউনিয়নের বাঘাইকান্দি গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ আরও জানায়, রায়পুরা এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় রায়পুরা থানায় অস্ত্র আইনে পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে। ১৮ অক্টোবরের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অস্ত্র আইনের ১৯ (ক) / ১৯ (চ) ধারা এবং ২০ অক্টোবরের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ১৯ (ক) ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে।
রায়পুরা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার বায়েজিদ বিন মনসুরের নেতৃত্বে এসব অভিযান পরিচালিত হয়। এতে রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান, পরিদর্শক (তদন্ত) টি এম ফরিদুল আলমসহ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা অংশ নেন।









