Ajker Patrika

বাতাসে পূজার ঘ্রাণ, মণ্ডপগুলোতে শেষ পর্যায়ের প্রস্তুতি

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
বাতাসে পূজার ঘ্রাণ, মণ্ডপগুলোতে শেষ পর্যায়ের প্রস্তুতি
কমলগঞ্জের লক্ষ্মীপুর সার্বজনীন পূজা মণ্ডপে প্রতিমাকে পোশাক পরানোর কাজ চলছে। ছবি: আজকের পত্রিকা

শরতের শিউলি ঝরা সকাল আর হালকা হিমেল হাওয়ায় ভেসে আসে শারদীয় দুর্গোৎসবের বার্তা। উৎসবের আর দেরি নেই। তাই চারিদিকে এখন পূজার আমেজ। মৌলভীবাজারেও দুর্গোৎসব উপলক্ষে ১ হাজার ২২টি পূজা মণ্ডপে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। আগামী ১৬ অক্টোবর শুক্রবার মহাষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে উৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। ২১ অক্টোবর বুধবার দশমী তিথিতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে দুর্গোৎসব।

জেলা পূজা উদযাপন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, এবার জেলায় ৮৯৮টি সার্বজনীন ও ১২৪টি ব্যক্তিগত মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।

উপজেলাভিত্তিক মণ্ডপের মধ্যে মৌলভীবাজার সদরে ১১১টি, বড়লেখায় ১৪৬টি, জুড়ীতে ৭৬টি, কুলাউড়ায় ২২৭টি, রাজনগরে ১৩৬টি, কমলগঞ্জে ১৫৪টি এবং শ্রীমঙ্গলে ১৭২টি মণ্ডপে পূজা হবে।

কমলগঞ্জের লক্ষ্মীপুর সার্বজনীন পূজা মণ্ডপের বাইরে সাজসজ্জা, রংয়ের কাজ চলছে। ছবি: আজকের পত্রিকা
কমলগঞ্জের লক্ষ্মীপুর সার্বজনীন পূজা মণ্ডপের বাইরে সাজসজ্জা, রংয়ের কাজ চলছে। ছবি: আজকের পত্রিকা

জেলার বিভিন্ন মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির পাশাপাশি সাজসজ্জার কাজ চলছে। কেন্দ্রীয় কালীবাড়ি, রামকৃষ্ণ মিশন, দুর্গাবাড়ী, সৈয়ারপুরের ত্রিনয়নী ও আবাহন এবং গির্জাপাড়ার মহেশ্বরী মণ্ডপে কর্মব্যস্ততা দেখা গেছে। প্রতিমাশিল্পীরা দেবী দুর্গার প্রতিমার অবয়ব তৈরির কাজ করছেন।

জেলা শহরের আবাহন পূজা মণ্ডপের সভাপতি সন্তোষ কান্তি দাশ বলেন, ‘প্রস্তুতি প্রায় শেষের দিকে। এবার আমাদের থিমের সঙ্গে মিলিয়ে আলাদা প্রায় ২৫ জন দেবদেবী নিয়ে আমাদের মণ্ডপ সাজানো হবে।’

কমলগঞ্জ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রণীত রঞ্জন দেবনাথ বলেন, ‘সব জায়গায় শেষ সময়ের পূজার প্রস্তুতি চলছে। প্রতিটি পূজা মণ্ডপের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য আয়োজকেরা বিরামহীন কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। পূজা উপলক্ষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মহিম দে বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা আয়োজনের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় সভাও করা হয়েছে।

মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, জেলার সব পূজা মণ্ডপের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা, গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধসহ পূজাপূর্ববর্তী, পূজাকালীন এবং প্রতিমা বিসর্জনসংক্রান্ত করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। পূজা মণ্ডপগুলোতে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপে পুলিশ ও আনসারের সমন্বয়ে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত