মাগুরায় ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলার জমজমাট আসর

ক্রিকেট-ফুটবলের আধুনিক জয়জয়কারে হারিয়ে যেতে বসা গ্রামবাংলার প্রাচীন ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে মাগুরার মহম্মদপুরে বসেছিল লাঠিখেলার এক জমজমাট আসর। আজ শুক্রবার বিকেলে উপজেলার বাবুখালী ইউনিয়নের ডুমুরশিয়া ডি সি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে অনুষ্ঠিত এই ঐতিহ্যবাহী ১০৬তম লাঠিখেলা দেখতে উপচে পড়া ভিড় জমেছিল। হাজারো নারী-পুরুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা যেন এক আনন্দঘন মিলনমেলায় রূপ নেয়।
শতবর্ষের পুরোনো প্রথা ও উৎসবমুখর পরিবেশে ডুমুরশিয়া বাজার বণিক সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত এই শতবর্ষী ঐতিহ্য দেখতে মহম্মদপুর ছাড়াও পার্শ্ববর্তী শালিখা, শ্রীপুর, বোয়ালমারী ও মধুখালী উপজেলা থেকে ছুটে এসেছিলেন নানা বয়সের দর্শনার্থীরা। বিশেষ করে, নারী দর্শকদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
প্রতিবছর বাংলা কার্তিক মাসে আয়োজিত এই লাঠিখেলাকে কেন্দ্র করে পুরো মাঠে বসে গ্রামীণ মেলা। নাগরদোলা, নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী আর হরেক রকমের পণ্যের পসরায় জমে ওঠে চারপাশ।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘লাঠিখেলা গ্রামবাংলার অত্যন্ত প্রাচীন ও জনপ্রিয়। লাঠি, হাডুডু, দাঁড়িয়াবান্ধা ও নৌকাবাইচের মতো আমাদের ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলো নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় দেশব্যাপী নানা উদ্যোগ নিয়েছে।’

ঢাকঢোল আর বাঁশির তালে বর্ণিল সাজে ও রংবেরঙের পোশাকে মাঠে নামে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা লাঠিয়াল দলগুলো। ঢাকঢোল আর বাঁশির সুরের তালে তালে লাঠিয়ালদের কসরত এবং একে অপরকে ঘায়েল করার অভিনব দৃশ্য মুগ্ধ করে দর্শকদের। খেলা দেখতে মাঠে উপস্থিত দর্শকদের করতালি ও উল্লাসে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ।
আয়োজক কমিটির সভাপতি ও ডুমুরশিয়া বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মো. আবুল হোসেন জানান, নতুন দল তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়লেও পুরোনো লাঠিয়ালদের এই ঐতিহ্য ধরে রাখার তীব্র আগ্রহ রয়েছে।

বহুদিনের লাঠিয়াল দলের প্রধান মানিক সরদার বলেন, পূর্বপুরুষদের দেখেই এই খেলায় আগ্রহ জন্মেছিল। এখন সব জায়গায় এর আয়োজন হয় না, তবে কার্তিকের এই মেলায় এলে বুক জুড়িয়ে যায়।
ঢাকা থেকে আসা কবি হাফিজ রহমান বলেন, ‘ষাটের দশক থেকে আমাদের এই ঐতিহ্য চলে আসছে। ক্রিকেটের ভিড়ে আজ তা কোণঠাসা। এই অমূল্য ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে স্থানীয়দের পাশাপাশি সরকারের আরও জোরালো ভূমিকা রাখা প্রয়োজন।’









