Ajker Patrika

ড্রোনে শনাক্ত হলেও উদ্ধার হয়নি সেই বাঘ, সীমান্তে বাড়ছে আতঙ্ক

লালমনিরহাট প্রতিনিধি
আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ২০: ০৭
ড্রোনে শনাক্ত হলেও উদ্ধার হয়নি সেই বাঘ, সীমান্তে বাড়ছে আতঙ্ক
বাঘটিকে অক্ষত উদ্ধারে অভিযান চলছে। ছবি: আজকের পত্রিকা

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার আমঝোল সীমান্তে আসা বাঘটিকে ড্রোনে শনাক্ত করা হলেও এখন পর্যন্ত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। বাঘের হামলায় এ পর্যন্ত তিনজন আহত হয়েছেন। আজ সোমবার বিকেল পর্যন্ত বন বিভাগ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ উদ্ধার অভিযান চলে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, ভারত থেকে সীমান্ত পেরিয়ে এসেছে বাঘটি।

গতকাল রোববার সন্ধ্যায় গোতামারী ইউনিয়নের আমঝোল সীমান্তের ৯০৫ নম্বর পিলারসংলগ্ন এলাকায় বাঘের হামলায় আহত হন আমঝোল গ্রামের শরিফা বেগম (৩৪), নজরুল ইসলাম (৪৫) ও আফসার আলী (৪০)।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, সন্ধ্যার দিকে শরিফা বেগম ধানখেতে ছাগল খুঁজতে যান। সীমান্তের কাছাকাছি গিয়ে তিনি একটি বাঘকে ছাগলের ওপর হামলা করতে দেখেন। শরিফা বেগম চিৎকার করলে বাঘটি তাঁকে ধাওয়া করে আক্রমণ করে।

শরিফা বেগমের চিৎকারে আশপাশের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে এগিয়ে এলে বাঘটি তাঁদের ওপরও চড়াও হয়। এতে একে একে তিনজন আহত হন। পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের ধাওয়া ও টহলরত বিজিবি সদস্যদের ছোড়া দুই রাউন্ড গুলির পর বাঘটি সীমান্ত এলাকার ধানখেতে আত্মগোপন করে।

আহত ব্যক্তিদের প্রথমে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা গুরুতর আহত দুজনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে পাঠান।

গতকাল সন্ধ্যা থেকে স্থানীয় বন বিভাগ, বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দারা বাঘটিকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করে। রাতভর সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা লাঠি ও টর্চলাইট হাতে পাহারা দেন। রংপুর অঞ্চলের বন বিভাগের সদস্যরাও অভিযানে যুক্ত হন।

বাঘটিকে অক্ষত উদ্ধারে অভিযান চলছে। ছবি: আজকের পত্রিকা
বাঘটিকে অক্ষত উদ্ধারে অভিযান চলছে। ছবি: আজকের পত্রিকা

বিজিবি সদস্যরা রাতে ড্রোনের মাধ্যমে বাঘটিকে শনাক্ত করেন। পরে গ্রামের বাসিন্দারা বাঘটিকে ঘিরে দূর থেকে মানবপ্রাচীর তৈরি করে পাহারাচৌকি বসান। ভোররাতের দিকে বাঘটি ড্রোন ক্যামেরার সীমার বাইরে চলে গেলে আবারও অদৃশ্য হয়ে যায়।

আজ বিকেলে ঢাকা থেকে আসা বন বিভাগের বিশেষ দল বাঘ উদ্ধারের কাজ শুরু করে। দলের নেতৃত্বে রয়েছেন সামাজিক বন বিভাগের রংপুর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম। সন্ধ্যা ৭টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাঘটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

আমঝোল গ্রামের লিয়াকত আলী বলেন, ‘অনেকেই বাঘটি দেখেছেন। বিজিবির ড্রোন ক্যামেরায়ও বাঘটি দেখা গেছে। বেশ বড় আকারের বাঘ। ধারণা করা হচ্ছে, বাঘটি ভারত থেকে সীমানা পেরিয়ে এসেছে। আমরা বাঘের আতঙ্কে রয়েছি। রাতে লাঠি হাতে লাইট নিয়ে নির্ঘুম রাত কাটিয়েছি।’

গোতামারী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মোনাব্বিরুল ইসলাম বলেন, বাঘের হামলায় তিনজন আহত হয়েছেন। আহত দুজন শঙ্কামুক্ত হলেও গৃহবধূ শরিফা বেগম আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন। বন বিভাগ, বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসন বাঘ উদ্ধারে কাজ করছে।

হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দ্বীপ জন মিত্র বলেন, ‘আমরা যতটুকু নিশ্চিত হতে পেরেছি, তাতে সেটি বাঘ। বাঘের এ প্রজাতির রাগ সাধারণত কম থাকে। ক্ষুধার্ত বা কেউ আঘাত না করলে এরা সাধারণত আক্রমণ করে না।’

ইউএনও আরও বলেন, ঢাকা ও রংপুর থেকে বন্য প্রাণীর একজন চিকিৎসকসহ ১০ সদস্যের একটি বিশেষ দল বাঘটিকে উদ্ধারের চেষ্টা করছে। বিশেষ দল ট্রাঙ্কুইলাইজার পাইপ ও ট্রাঙ্কুইলাইজার শুটিং মেশিন ব্যবহার করে অভিযান চালাচ্ছে। জনসমাগমের কারণে উদ্ধারকাজ কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে।

বিজিবির লালমনিরহাট ১৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মেহেদী ইমাম বলেন, ‘রাতে ড্রোনের সাহায্যে বাঘটির অবস্থান শনাক্ত করেছিলাম। পরে তা ড্রোনের সীমার বাইরে চলে যায়। ঢাকা রেঞ্জের বন বিভাগের বিশেষ দল বাঘটিকে উদ্ধারের চেষ্টা করছে।’ তিনি সীমান্তবাসীকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

উদ্ধার দলের প্রধান নুরুল ইসলাম বলেন, ‘স্থানীয় প্রশাসনের খবরে আমরা বন্য প্রাণীটিকে অক্ষত উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছি।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত