Ajker Patrika

পরীক্ষায় বহিষ্কারের পর বিদ্যালয়ে বোমা বিস্ফোরণের অভিযোগ

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২৬, ২০: ৩৫
পরীক্ষায় বহিষ্কারের পর বিদ্যালয়ে বোমা বিস্ফোরণের অভিযোগ
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের পর বিদ্যালয়ে বোমা হামলার অভিযোগ উঠেছে। ছবি: সংগৃহীত

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে এসএসসি নির্বাচনী (টেস্ট) পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের পর বিদ্যালয়ে বোমা হামলার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ফিলিপনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কার্যালয় লক্ষ্য করে দুটি বোমাসদৃশ বস্তু নিক্ষেপ করা হয়। বিস্ফোরণে বিকট শব্দ হলে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আজ সোমবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ে এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষা চলছিল। আজ ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা চলাকালে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক পাঁচ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মোবাইল ফোন জব্দ করেন। এ সময় নকলের চেষ্টার অভিযোগে তানজিন রহমান রিদু নামের এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়।

রিদু ফিলিপনগর ইউনিয়নের চরসাদিপুর গ্রামের মিন্টুর ছেলে। সে জামায়াত নেতা খাজা আহমেদের অনুসারী বলে জানা গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, বহিষ্কারের পর রিদু কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে বিদ্যালয়ে ফিরে প্রধান শিক্ষকের কার্যালয় লক্ষ্য করে দুটি বোমাসদৃশ বস্তু নিক্ষেপ করেন। এতে বিস্ফোরণের শব্দে বিদ্যালয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনাস্থল থেকে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, মোটরসাইকেলটির মালিক কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও ফিলিপনগর ইউনিয়নে জামায়াত মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী খাজা আহমেদ।

তবে এ ঘটনায় অভিযুক্ত রিদু ও তার পরিবারের কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মোটরসাইকেলের মালিকানা ও ঘটনার বিষয়ে জানতে খাজা আহমেদের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রশ্ন শুনে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে একাধিকবার চেষ্টা করেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, ‘বিস্ফোরণের সময় আমি নিজ কক্ষে ছিলাম। কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা বলতে পারব না। পরীক্ষার হলে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন জমা দিতে বলা হয়েছিল। কয়েকজন জমা দেয়। পরে তানজিন রহমান রিদু নামের এক শিক্ষার্থী নকলের চেষ্টা করলে তাকে বহিষ্কার করা হয়। এর কয়েক মিনিট পরই বাইরে এ ঘটনা ঘটে।’

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়ের একাডেমিক সুপারভাইজার কামাল হোসেন বলেন, সন্ধ্যার পর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ঘটনাটি জানান। পরীক্ষা চলাকালে এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের কিছুক্ষণ পর বিদ্যালয়ের পেছনের দিকে বিকট শব্দ হয়। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, পরীক্ষায় এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের পর বিদ্যালয়ের পাশে দুটি বোমা বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে। তদন্তে এর মালিক হিসেবে খাজা আহমেদের নাম পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত