Ajker Patrika

লালনের আখড়াবাড়িতে তিন দিনে থানায় ৮৬টি মোবাইল চুরির অভিযোগ

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২৬, ২১: ৩৯
লালনের আখড়াবাড়িতে তিন দিনে থানায় ৮৬টি মোবাইল চুরির অভিযোগ
আখড়াবাড়িতে এবার লাখো মানুষের সমাগম ঘটে। ছবি: সংগৃহীত

কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় লালন শাহর আখড়াবাড়িতে এবার তিন দিনের তিরোধান দিবসের অনুষ্ঠানে লাখো মানুষের সমাগম ঘটে। আর এ সুযোগে সক্রিয় ছিল মোবাইল ফোন চোর ও পকেটমার চক্র। তিন দিনে ফোন চুরির ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ৮৬ জন।

আজ বুধবার কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন এ তথ্য জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের অভিযোগ, সাধু-ফকির, বাউল ও ভক্ত-অনুরাগীদের পদচারণায় মুখর আখড়াবাড়িতে সুযোগ নিয়েছে পকেটমার চক্র। বিশেষ করে, আখড়াবাড়ির প্রবেশপথে প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যে কৌশলে অনেকের পকেট থেকে মোবাইল ফোন চুরি করা হয়েছে। ফোন হারিয়ে বিপাকে পড়েছেন দর্শনার্থীরা। তবে এখনো চুরি হওয়া কোনো মোবাইল ফোন উদ্ধার কিংবা এ ঘটনায় কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।

মেলায় মোবাইল ফোন হারানো কুষ্টিয়ার আরাফাত হোসেন বলেন, ‘মেলার দ্বিতীয় দিন অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের হওয়ার সময় দেখি পকেটে মোবাইল ফোন নেই। পরে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছি। এত মানুষের সমাগমের মধ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের আরও বেশি নজরদারি রাখা উচিত ছিল।’

ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, ‘বুধবার পর্যন্ত লালন তিরোধান দিবস উপলক্ষে মাজার এলাকা থেকে মোবাইল ফোন হারানোর ঘটনায় ৮৬টি সাধারণ ডায়েরি পেয়েছি। এসব ঘটনা নিয়ে পুলিশের একটি দল কাজ করছে। এখন পর্যন্ত কোনো মোবাইল ফোন উদ্ধার বা চোর চক্রের কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’

এদিকে, গত সোমবার সকালে লালনের আখড়াবাড়ি প্রাঙ্গণ থেকে টাইম বোমা ও দুই বোতল পেট্রল উদ্ধারের ঘটনায় চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই দিন সন্ধ্যায় কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক ও লালন একাডেমির সভাপতি তৌহিদ বিন-হাসান কমিটি গঠন করে দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

তদন্ত কমিটির প্রধান কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। বিভিন্ন সূত্র ধরে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় তদন্তের স্বার্থে এখনই গণমাধ্যমের সামনে বিস্তারিত বলা সম্ভব হচ্ছে না। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ বলেন, ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ কাজ করছে। কয়েকটি বিষয় সামনে রেখে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তিনি জানান, মেলা প্রাঙ্গণের সিসিটিভি ক্যামেরা ও পুলিশের বডি ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত