
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পের ভর্তুকি মূল্যের ১০টি ভুট্টা মাড়াই মেশিন কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অভিজিৎ সরকারের বিরুদ্ধে। বরাদ্দের ২৩ টির মেশিনের মধ্যে বিতরণ হয়নি ২২টি। এই বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মহাপরিচালক সমীপে সম্প্রতি লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী জিয়াউর রহমান।
কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণের জন্য সরকারি প্রণোদনায় ৭০ শতাংশ ভর্তুকি দামে চলতি বছর অষ্টগ্রামে, ১০টি মেইজ শেলার, ৪টি রিপার, ৭টি রিপার বাইন্ডার ও ২টি রাইস ট্রান্সপ্লান্টারসহ ২৩টি কৃষিযন্ত্র বরাদ্দ দেয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। এই বরাদ্দের ১০টি ভুট্টা মাড়াই মেশিন (মেইজ, শেলার) কৃষকদের মাঝে বিতরণ না করে অন্যত্ব বিক্রির অভিযোগ উঠেছে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এবার অষ্টগ্রামে ভুট্টা মাড়াই মেশিনের বরাদ্দপত্র পেয়ে কৃষক জিয়াউর রহমান ও অন্যরা মেশিন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘এসিআই ও আলিম’ কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করেন। দুই দিন পর কোম্পানির প্রতিনিধি কৃষকদের জানান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অভিজিৎ সরকার মেশিন প্রদানে সম্মতিপত্র দেয়নি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি নানা টালবাহানা করে কৃষি মৌসুম পার করে দেন এবং পরে জানতে পারেন এই মেশিনগুলো বাইরে বিক্রি করা হয়েছে।
এ ছাড়া, সরকারি কৃষি প্রণোদনার সার, বীজ, কীটনাশক, প্রদর্শনীর মালামাল ও কৃষি যন্ত্রপাতি বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎদের অভিযোগ করেন। একই অভিযোগ করেন ২০২৪ সালে ৭০ শতাংশ ভর্তুকি মূল্যে কৃষিযন্ত্র বরাদ্দ পাওয়া শাহীন মিয়া, এয়ার রহমান, শহীদসহ অন্যরা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর অষ্টগ্রামে ২৩টি ধান রোপণ মেশিন, হস্তচালিত ধান কাটা মেশিন ও ভুট্টা মাড়াই মেশিনের মধ্যে মাত্র ১টি ধান রোপণ মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। অন্য ২২টি মেশিনের বরাদ্দ তালিকা অনুমোদনের পর, কৃষকেরা অষ্টগ্রামে আনুষ্ঠানিকভাবে মেশিন গ্রহণে আপত্তি করেন। বরাদ্দপ্রাপ্তরা সরকারি মেশিন চড়াদামে বাইরে বিক্রি করার খবরে মেশিন বিতরণ বন্ধ করা হয়।
অভিযোগকারী মো. জিয়াউর রহমান বলেন, ‘ভুট্টা উত্তোলনে আমাদের হাড়কাটুনী পরিশ্রম কমাতে সরকার ভর্তুকি দামে মেশিন দেয়। আর সেই মেশিন পেতে বারবার অফিসে ধরনা দিই। পরে, জানি আমার মেশিনটি উচ্চ মূল্যে অন্যত্র বিক্রি করে দেয়। এর সুষ্ঠু বিচার চাই আমরা।’
রিপার বাইন্ডার বরাদ্দ পাওয়া অষ্টগ্রাম সদর ইউনিয়নের শেখ তাইয়েবুর রহমান বলেন, ‘বরাদ্দকৃত রিপার বাইন্ডার পেতে আমরা বারবার যোগাযোগ করেও পায়নি। আমরা মেশিন নিতে চাইনি— তা ডাহা মিথ্যা কথা।’
অষ্টগ্রাম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অভিজিৎ সরকার বলেন, ‘মেশিনগুলো সংশ্লিষ্ট কৃষক নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নিতে পারেনি বিধায় বিতরণ করা সম্ভব হয়নি। মেশিন নির্দিষ্ট সময়ে বিতরণের জন্য অফিস থেকে কৃষকদের বারবার তাগিদ দেওয়া সত্ত্বেও তারা নানান টালবাহানা করে সময়ক্ষেপণ করে এবং মেশিন উপজেলায় নিয়ে আসতে বলা হলে তাঁরা সেটা করতে অস্বীকৃতি জানায়। এ জন্য মেশিনগুলো বিতরণ করা সম্ভব হয়নি।’
সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পের পরিচালক তারিক মাহমুদুল ইসলাম বলেন, ‘মেশিন বিতরণ না করার বিষয়টি আমার জানা নেই। এগুলো কেউই বাইরে বিক্রি করার কোনো সুযোগ নেই।’
এই বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নম্বরে কল দিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে, অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করে অতিরিক্ত উপপরিচালক (পিএস, ডিজি) মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।’

মাকু আর শানার খটখট শব্দ তুলে আপন মনে শাড়ি বুনছেন হরিপদ। মাটির গর্তে বসে ছন্দে ছন্দে তৈরি করছেন বর্ণিল শাড়ি। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে চাহিদা বেড়েছে, তাই দম ফেলবার ফুরসত নেই এই কারিগরের। হরিপদ কাজ করেন টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার পাথরাইল গ্রামের ‘শুদ্ধ তাঁত’ নামক কারখানায়।
১ ঘণ্টা আগে
যশোর শহরের আরবপুর পাওয়ার হাউস পাড়ার বাসিন্দা শহিদুল আলম। বাসা থেকে শহরের চার খাম্বা মোড়ে তাঁর কর্মস্থলের দূরত্ব চার কিলোমিটার। সাধারণত রিকশায় করে কার্যালয়ে যেতে সময় লাগে ২০ মিনিটের মতো। কিন্তু তাঁকে প্রায় এক ঘণ্টা সময় হাতে রেখে রওনা দিতে হয়। তবু সড়কের তীব্র যানজটের কারণে সময়মতো অফিসে...
১ ঘণ্টা আগে
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার বুক চিরে বয়ে চলা ইছামতী, হুরাসাগর ও ফুলজোড় নদীতে একসময় ছিল স্রোত, চলত নৌযান। সময়ের ব্যবধানে সে চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। ফুলজোড় নদীর কিছু অংশে খননকাজ হলেও ইছামতী ও হুরাসাগরের বেশির ভাগ অংশ এখন পানিশূন্য। শুষ্ক মৌসুম তো বটেই, বর্ষাকালেও অনেক জায়গায় পানির দেখা মেলে না।
১ ঘণ্টা আগে
তেজগাঁও কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মো. সোহেল রানা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এলএলবি শেষ বর্ষ ২০২৩ সালের পরীক্ষায় কক্ষ পরিদর্শকের দায়িত্ব পালন করছিলেন। গত ৬ মার্চ সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত পরীক্ষার সময় তিনি কলেজের ৬০৮ নম্বর কক্ষে দায়িত্বে ছিলেন...
১ ঘণ্টা আগে