Ajker Patrika

কিশোরগঞ্জে ৯ মাসে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ২৫ হাজার, ডেঙ্গুতে ১৮০০, মৃত্যু ৩

সাজন আহম্মেদ পাপন, কিশোরগঞ্জ 
আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৬: ৩৯
কিশোরগঞ্জে ৯ মাসে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ২৫ হাজার, ডেঙ্গুতে ১৮০০, মৃত্যু ৩
কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ড। ছবি: আজকের পত্রিকা

কিশোরগঞ্জে বাড়ছে ডেঙ্গু, ডায়রিয়া ও হামের প্রকোপ। চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে জেলায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ। একই সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৮০০ জন। হাম ও ডেঙ্গু-ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন সংক্রামক ব্যাধিতে এ পর্যন্ত মারা গেছে তিনজন।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে ৪৪ জন। একই সময়ে ডায়রিয়া নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১০৭ জন। এ ছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে আরও ১৬ জন।

চলতি বছরের শুরু থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে মোট ১ হাজার ৮১১ জন। তাদের মধ্যে ১ হাজার ৬৭৮ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে একজন। অন্যদিকে এ সময়ে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে ২৪ হাজার ৯৮৩ জন। সুস্থ হয়েছে ২৪ হাজার ৮০৩ জন এবং মারা গেছে একজন।

এ ছাড়া চলতি বছরে নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হওয়া ২১৫ জন হাম রোগীর মধ্যে একজন এবং সন্দেহভাজন ২ হাজার ৮৮৯ জনের মধ্যে একজন মারা গেছে। একই সময়ে সাপে কাটা ৭৪ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছে।

জেলার সরকারি-বেসরকারি ১৬টি হাসপাতালে বর্তমানে মোট ৩৮০ জন সংক্রামক ব্যাধির রোগী ভর্তি আছে। তাদের মধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্ত ১৩৩ জন, সন্দেহভাজন হাম রোগী ৬৭ জন এবং ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ১৮০ জন।

ডেঙ্গু রোগীর সবচেয়ে বেশি চাপ সামলাতে হচ্ছে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে। সেখানে বর্তমানে ৩২ জন ডেঙ্গু, ২৬ জন হাম ও ১০ জন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি রয়েছে। কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ১৭ জন ডেঙ্গু ও ২৬ জন ডায়রিয়া রোগী।

উপজেলাগুলোর মধ্যে ভৈরবে রোগীর চাপ বেশি। ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে ৩২ জন ডেঙ্গু ও ২৮ জন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি আছে। বাজিতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছে ৮ জন ডেঙ্গু ও ১৭ জন ডায়রিয়া রোগী।

বেসরকারি হাসপাতালগুলোর মধ্যে জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে সাতজন ডেঙ্গু, ২৬ জন হাম ও ৯ জন ডায়রিয়া রোগী।

সরেজমিনে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে দেখা যায়, রোগীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হলেও অনেকেই তা মানছে না। গরমের কারণে কেউ কেউ মশারি ব্যবহার করছে না। এতে হাসপাতালে থাকা অন্য রোগীদেরও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগী তারা মিয়ার ভাই আউয়াল মিয়া বলেন, হাসপাতালে নার্সদের খুঁজে পাওয়া যায় না। রাতে ডাক্তারদেরও তেমন দেখা যায় না। টয়লেটে গেলে বমি আসে। এখানে অসুস্থ রোগীরা এসে আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডায়রিয়া রোগী খাদিজা বেগমের স্বামী সাত্তার বলেন, বিভিন্ন ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হয়। তবে স্যালাইনের কোনো সংকট পাইনি। বাথরুমগুলো ব্যবহারের উপযোগী নয়। এগুলোর দিকে নজর দিলে রোগীরা স্বস্তি পেতেন।

সিভিল সার্জন মোহাম্মদ সাইদুর রহমান বলেন, চিকিৎসাসেবায় কোনো ঘাটতি রাখা হচ্ছে না। হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত ডেঙ্গু পরীক্ষার এনএস১ কিট, প্রয়োজনীয় স্যালাইন ও ওষুধ মজুত রয়েছে। আক্রান্তের ঝুঁকি কমাতে বাসাবাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা, ফোটানো পানি পান করা এবং ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত