Ajker Patrika

বাজিতপুরে বিএনপি নেতার মার্কেটের জমি দখলচেষ্টার অভিযোগ বহিষ্কৃত নেতার বিরুদ্ধে

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
বাজিতপুরে বিএনপি নেতার মার্কেটের জমি দখলচেষ্টার অভিযোগ বহিষ্কৃত নেতার বিরুদ্ধে
শনিবার সকালে সংবাদ সম্মেলনে প্রয়াত এ কে আমিনুল হকের স্ত্রী লায়লা আঞ্জুমান আরা বেগম। ছবি: আজকের পত্রিকা

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর বাজারে প্রয়াত বিএনপি নেতা এ কে আমিনুল হকের প্রতিষ্ঠিত ‘লায়লা আঞ্জুমান আরা বেগম সুপার মার্কেটের’ ১৪ শতাংশ জমি দখলচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনিরের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রয়াত নেতার পরিবারের পক্ষ থেকে জমির মালিকানা রক্ষা, পরিবারের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার দাবি করা হয়েছে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে বাজিতপুর বাজারের গণনাট্য মঞ্চে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন প্রয়াত এ কে আমিনুল হকের স্ত্রী লায়লা আঞ্জুমান আরা বেগম।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে লায়লা আঞ্জুমান আরা বেগম জানান, তাঁর প্রয়াত স্বামী এ কে আমিনুল হক সারা জীবনের উপার্জিত অর্থ দিয়ে বাজিতপুর বাজারের প্রাণকেন্দ্রে নিজের নামে ‘আমিনুল হক সুপার মার্কেট’ এবং তাঁর নামে ‘লায়লা আঞ্জুমান আরা বেগম সুপার মার্কেট’ প্রতিষ্ঠা করেন। তবে বিগত সরকারের আমলে একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক পক্ষ মার্কেটটির ১৪ শতাংশ জমি দখলের চেষ্টা চালায়। এ সময় তাঁদের পরিবারকে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

লায়লা বেগমের অভিযোগ, জমির মালিকানা হস্তান্তরে রাজি না হওয়ায় ২০২০ সালের ৮ মার্চ রাতে পূর্ব বাজিতপুরে তাঁদের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় ডাকাতেরা স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও মার্কেটের মালিকানাসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র লুট করে নিয়ে যায়। পরে জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে ২০২৪ সালের মার্চ মাসে ওই জায়গায় ‘রেজিয়া সুপার মার্কেট’ নামে একটি সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়। তবে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সেখান থেকে সরে যান বলে দাবি করেন তিনি।

সর্বশেষ ৩ নভেম্বর সন্ধ্যার পর জমিটি পুনরায় দখলের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন লায়লা বেগম। তাঁর দাবি, রাতের আঁধারে মার্কেটের প্রবেশপথে থাকা তাঁর মালিকানার সাইনবোর্ড এবং হাইকোর্টের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশসংক্রান্ত নোটিশ বোর্ড খুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে সেখানে মনিরুজ্জামান মনির গংয়ের নামে জমির মালিকানা দাবি করে একটি ব্যানার টাঙানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ১৯৯৩ সাল থেকে ওই ১৪ শতাংশ জমির মালিকানা ও দখল তাঁদের পরিবারের রয়েছে। এ-সংক্রান্ত বৈধ কাগজপত্রও তাঁদের কাছে সংরক্ষিত আছে। জমির মালিকানা নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগের প্রতিকার চেয়ে ২০২৩ সালে কিশোরগঞ্জের যুগ্ম জেলা জজ দ্বিতীয় আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা বর্তমানে বিচারাধীন। এ ছাড়া একই জমি নিয়ে হাইকোর্টে দায়ের করা সিভিল রিভিশন মামলার পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৭ সেপ্টেম্বর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ বহাল রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।

লায়লা আঞ্জুমান আরা বেগম বলেন, ‘জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আমি ও আমার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে চরম হয়রানি ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছি। আমি জমির প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ, পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ন্যায়বিচার চাই।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রয়াত নেতার ছেলে এ কে এম আরিফুল হক রনি, বাজিতপুর সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যাপক ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি তোফাজ্জল হোসেন বাদল এবং মার্কেটের কয়েকজন ব্যবসায়ী।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনিরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত