Ajker Patrika

ভোটের মাঠে: সাতক্ষীরায় ভিন্ন চিত্র বিএনপি-জামায়াতে

  • বিএনপি সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম ঘোষণার পর দুটি আসনে অসন্তোষ
  • বিভেদ ভুলে সবাইকে এক হওয়ার আহ্বান বিএনপির প্রার্থীদের
  • চারটি আসন পুনরুদ্ধারে মরিয়া জামায়াত
  • বড় দুই দলের লড়াই বেশ জমজমাট হবে বলে মনে করছেন ভোটাররা
আবুল কাসেম, সাতক্ষীরা 
আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০২৫, ১৫: ৫১
(ওপরে বা থেকে) হাবিবুল ইসলাম হাবিব, কাজী আলাউদ্দীন, শহিদুল আলম, আব্দুর রউফ (নিচে বা থেকে) আব্দুল আলিম, তাজকিন আহমেদ চিশতি, অধ্যক্ষ ইজ্জতুল্লাহ ও মুহাদ্দিস রবিউল বাশার।
(ওপরে বা থেকে) হাবিবুল ইসলাম হাবিব, কাজী আলাউদ্দীন, শহিদুল আলম, আব্দুর রউফ (নিচে বা থেকে) আব্দুল আলিম, তাজকিন আহমেদ চিশতি, অধ্যক্ষ ইজ্জতুল্লাহ ও মুহাদ্দিস রবিউল বাশার।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের দিনক্ষণ ঠিক না হলেও সাতক্ষীরার চারটি আসনে জমজমাট প্রচার চলছে। বড় দুই দল ইতিমধ্যে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। প্রার্থিতা নিয়ে জামায়াতের কোন্দল না থাকায় তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছে দলটি। তবে ভিন্ন চিত্র বিএনপিতে; গত ৩ নভেম্বর সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম ঘোষণার পর দুটি আসনে অসন্তোষ দেখা দেয়। পরদিন থেকে প্রার্থী বদলের দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, ১৯৯১ সালের পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরায় আসন ছিল পাঁচটি। এর মধ্যে চারটি আসনেই জামায়াত জয়লাভ করে। অপরটি পায় আওয়ামী লীগ। ৭ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ চিত্র পাল্টে যায়। শুধু সাতক্ষীরা সদর আসনে জামায়াত ছাড়া আর বাকি আসনে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি নির্বাচিত হয়। ২০০১ সালে জামায়াত আবারও তিনটি আসনে জয়লাভ করে। জেলার মধ্যে সেবারই প্রথম বিএনপির টিকিটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন হাবিবুল ইসলাম হাবিব। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একটি আসন কমিয়ে সাতক্ষীরায় সংসদীয় আসন হয় চারটি। এ নির্বাচনে জামায়াত ও বিএনপি একটি আসনও পায়নি। আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি (এরশাদ) দুটি করে আসনে জয়লাভ করে।

সাতক্ষীরা সীমান্তঘেঁষা জেলা হওয়ার সুবাদে এখানকার মুসলিম ভোটারদের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ ভারত থেকে আসা। সে কারণে সাতক্ষীরায় জামায়াতের একটি ভালো প্রভাব রয়েছে। বরাবরের মতো জামায়াত এবারও চারটি আসনে জিততে চায়। অভ্যন্তরীণ কোন্দল না থাকায় মাস দুয়েক আগে থেকে চারটি আসনে জামায়াতের পক্ষ থেকে প্রার্থী ঘোষণা দেওয়া হয়। সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসন থেকে জামায়াতের মনোনয়ন পেয়েছেন অধ্যক্ষ ইজ্জতুল্লাহ, সাতক্ষীরা-২ (সাতক্ষীরা সদর-দেবহাটা) আসনে মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, সাতক্ষীরা-৩ (কালীগঞ্জ ও আশাশুনি) থেকে মুহাদ্দিস রবিউল বাশার ও সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনে গাজী নজরুল ইসলাম। অপর দিকে সাতক্ষীরা-১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব, সাতক্ষীরা-২ আসনে আব্দুর রউফ, সাতক্ষীরা-৩ আসনে কাজী আলাউদ্দীন ও সাতক্ষীরা-৪ আসনে ড. মনিরুজ্জামান মনির।

সাতক্ষীরা-১ আসনে ২০০১ সালে চারদলীয় জোটের পক্ষ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ছাত্রদল ও ডাকসুর সাবেক নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব। এরপর থেকে বিএনপির জনসমর্থন বাড়তে থাকে। এ আসনে জামায়াতেরও শক্ত অবস্থান রয়েছে। এবার হাবিব ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ইজ্জতুল্লাহর মধ্যে লড়াইটা বেশ জমজমাট হবে বলে মনে করছেন ভোটাররা।

বিএনপির প্রকাশনা সম্পাদক হাবিব বলেন, ‘তালা-কলারোয়ার এমন কোনো জায়গা নেই, যেখানে আমার প্রচেষ্টায় উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। আমি নির্বাচিত হলে পাটকেলঘাটাকে উপজেলায় উন্নীত করার পদক্ষেপ নেব। জলাবদ্ধতা দূরীকরণে ব্যবস্থা নেব।’

সাতক্ষীরা-২ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা আব্দুর রউফকে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই। রউফকে মনোনয়ন দেওয়ায় ফুঁসে উঠেছে মনোনয়নবঞ্চিতসহ সাধারণ জনগণ। মনোনয়ন ঘোষণার দিন রাতে সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কের বিনেরপোতায় টায়ার জ্বালিয়ে ব্লকেড তৈরি করে বিক্ষোভ করেন মনোনয়নবঞ্চিত জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব আব্দুল আলিমের সমর্থকেরা। তাঁকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবিতে সদর উপজেলার ১২ ইউনিয়নের ৩৩ জন দায়িত্বশীল নেতা বিএনপি মহাসচিবের কাছে আবেদন করেছেন।

এ আসনে বিএনপির আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী তাজকিন আহমেদ চিশতি। বর্তমানে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক চিশতি সাতক্ষীরা পৌরসভার দুবারের নির্বাচিত মেয়র। তারপক্ষে পৌরসভার ওয়ার্ড পর্যায়ের বিএনপি নেতারাও মহাসচিব বরাবর আবেদন করেছেন।

বিএনপির দ্বন্দ্বের কারণে এ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মুহাদ্দিস আব্দুল খালেককে এগিয়ে রাখছেন ভোটাররা।

সাতক্ষীরা-৩ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন কেন্দ্রীয় সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য কাজী আলাউদ্দীন। তবে এ আসনে কাজী আলাউদ্দীনের মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত টানা ১১ দিন বিক্ষোভ সমাবেশ করে কালীগঞ্জ ও আশাশুনি উত্তাল রেখেছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস ও মনোনয়নপ্রত্যাশী ডা. শহিদুল আলমের সমর্থকেরা।

শহিদুলের সমর্থক জেলা বিএনপির সদস্য শেখ নূরুজ্জামান বলেন, ‘গরিবের ডাক্তার বলে খ্যাত ডা. শহিদুল আলমকে মনোনয়ন না দেওয়া পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরে যাব না। যে মানুষটি তাঁর সবকিছু ব্যয় করেছেন জনকল্যাণে, তাঁকে মনোনয়ন দিতে হবে।’

এ আসনে কাজী আলাউদ্দীনও গণসংযোগ শুরু করেছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে আশাশুনির বালির মাঠে আয়োজিত সংবর্ধনা সভায় অংশগ্রহণ করেন তিনি।

মনোনয়নের বিষয়ে কাজী আলাউদ্দীন বলেন, ‘আমি সকল সময়ে জনগণের পাশে ছিলাম। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে হামলা-মামলায় জর্জরিত ছিলাম। তবুও জনগণ থেকে আমাকে বিচ্ছিন্ন করা যায়নি।’ বিভেদ ভুলে দল যাকে মনোনীত করবে, তাঁর পক্ষে সবাইকে কাজ করার অনুরোধ আলাউদ্দীনের।

সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনটি একটি উপজেলা নিয়ে গঠিত। বিগত নির্বাচনগুলোতে এ আসনে বিএনপি তাদের শক্তিমত্তা দেখাতে পারেনি। তবে এবার বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন নতুন মুখ লন্ডনপ্রবাসী ড. মনিরুজ্জামান মনির। তিনি জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অপর দিকে জামায়াতের গাজী নজরুল ইসলাম সাবেক দুবারের সংসদ সদস্য হওয়ায় এ আসনে তাঁর নিজস্ব একটি ভোটব্যাংক রয়েছে।

মনিরুজ্জামান বলেন, ‘সংসদ নির্বাচনে আমি হয়তো নতুন মুখ। তবে পাঁচ বছর ধরে আমি শ্যামনগরের আপামর জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছি।’

সার্বিক বিষয়ে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল আজিজ বলেন, ‘২০০১ সালে সাতক্ষীরা থেকে চারটি আসন পেয়েছিল জামায়াত। আমরা এবারও সবকটি আসনে বিজয়ী হওয়ার আশা করছি।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

মোহাম্মদপুর ট্র্যাজেডি: নাটোরে পৌঁছাল মা-মেয়ের মরদেহ, দুদিন আগে হারিয়ে গিয়েছিল চাবি

৫ আগস্টের পর দুর্নীতিবাজদের কোটি টাকায় সীমান্ত পার করে দিয়েছেন রাজনৈতিক এলিটরা: দুদক চেয়ারম্যান

তুরস্কের গোয়েন্দা সহায়তায় যেভাবে ‘দামেস্কের আমির’ হলেন আল–শারা

কোটালীপাড়ায় এক রাতে ২টি এজেন্ট ব্যাংকসহ ৪ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চুরি

মোহাম্মদপুরে মা-মেয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা, আসামি গৃহকর্মী

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

ব্রাকসু নির্বাচন: মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিনে অফিসে তালা, কর্মকর্তারা লাপাত্তা

বেরোবি সংবাদদাতা
আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২: ৫৮
ছবি: আজকের পত্রিকা
ছবি: আজকের পত্রিকা

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (ব্রাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা নেয়নি কর্তৃপক্ষ। তফসিল অনুযায়ী আজ মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিন থাকলেও সকাল থেকে নির্বাচন কমিশন কার্যালয় বন্ধ ছিল। এতে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেল ব্রাকসু নির্বাচন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনার মনোনয়নপত্র জমা নিচ্ছেন না বা নির্বাচন কমিশনার কার্যালয়ে কেন নেই, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। এ বিষয়ে আপনারা নির্বাচন কমিশনারদের জিজ্ঞেস করলে সঠিক তথ্য পাবেন।’

এর আগে সকাল থেকে কমিশনের কার্যালয়ের সামনে ভিড় করেন প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকেরা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচন কর্মকর্তাদের না দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাঁরা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এটি পরিকল্পিত অবহেলা, যা পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে কমিশনের অনুপস্থিতি নির্বাচনকে নির্বিঘ্ন করার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ব্যর্থতার নগ্ন উদাহরণ। এতে নির্বাচন নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

কমিশনে আসা প্রার্থী মো. শিবলী সাদিক বলেন, ‘মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার জন্য নির্ধারিত শেষ দিনে সকাল থেকে কার্যালয়ে আছি। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের কেউ নেই। মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিনে কমিশনের অনুপস্থিতি একটি বড় প্রশাসনিক ব্যর্থতা। এতে পুরো নির্বাচনী কাঠামো দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।’

ভিপি প্রার্থী আহমাদুল হক আলবীর বলেন, ‘মনোনয়নপত্র জমা দিতে এসে দেখি অফিসই বন্ধ। আজ শেষ দিন জানার পরও সকাল থেকে আমরা এখানে বসে আছি। কিন্তু কমিশনের কেউ নেই। এতে আমাদের অধিকার হরণ করা হচ্ছে।’

এ বিষয়ে কথা বলতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মো. শাহজামান, কমিশনার সহযোগী অধ্যাপক ড. প্রদীপ কুমার সরকার ও সহযোগী অধ্যাপক মো. হাসান আলীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে সাড়া না পাওয়ায় তাঁদের বক্তব্য জানা যায়নি।

উল্লেখ্য, ১ ডিসেম্বর শিক্ষার্থীদের ভোটার তালিকায় অসংগতি থাকার কারণ দেখিয়ে তফসিল স্থগিত করে ব্রাকসু নির্বাচন কমিশন। পরে ৩ ডিসেম্বর স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নতুন তফসিল ঘোষণা করা হয়।

তফসিল অনুযায়ী ৮ ও ৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র বিতরণ ও দাখিল (ডোপ টেস্টের রিপোর্টসহ), ১০ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র বাছাই ও প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ, ১১ ডিসেম্বর প্রাথমিক তালিকা সম্পর্কে প্রার্থীদের আপত্তি গ্রহণ ও নিষ্পত্তি এবং ২৪ ডিসেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

মোহাম্মদপুর ট্র্যাজেডি: নাটোরে পৌঁছাল মা-মেয়ের মরদেহ, দুদিন আগে হারিয়ে গিয়েছিল চাবি

৫ আগস্টের পর দুর্নীতিবাজদের কোটি টাকায় সীমান্ত পার করে দিয়েছেন রাজনৈতিক এলিটরা: দুদক চেয়ারম্যান

তুরস্কের গোয়েন্দা সহায়তায় যেভাবে ‘দামেস্কের আমির’ হলেন আল–শারা

কোটালীপাড়ায় এক রাতে ২টি এজেন্ট ব্যাংকসহ ৪ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চুরি

মোহাম্মদপুরে মা-মেয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা, আসামি গৃহকর্মী

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

অবরুদ্ধ প্রধান শিক্ষিকা, উদ্ধার করল পুলিশ

ঝালকাঠি প্রতিনিধি  
করুয়াকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ছবি: আজকের পত্রিকা
করুয়াকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

ঝালকাঠির নলছিটিতে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক প্রধান শিক্ষিকাকে স্কুলের কক্ষে অবরুদ্ধ করেছেন এলাকাবাসী। আজ মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুরে উপজেলার মগড় ইউনিয়নের করুয়াকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মলিনা রানী গোস্বামীর সঙ্গে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে নলছিটি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে।

জানা গেছে, গতকাল সোমবার স্কুলে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও প্রধান শিক্ষিকা স্কুলে না আসায় পরীক্ষা নেওয়া যায়নি। এতে এলাকাবাসী ও অভিভাবকেরা ক্ষুব্ধ হন। আজ তিনি স্কুলে এলে বিক্ষুব্ধ অভিভাবক ও এলাকাবাসী তাঁর কক্ষে তালা দিয়ে তাঁকে আটকে রাখেন।

পরে প্রধান শিক্ষিকা জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে ঘটনাটি জানান। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তাঁকে উদ্ধার করে।

প্রধান শিক্ষক মলিনা রানী গোস্বামীর মোবাইল নম্বরে কল দিয়ে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কিছু না বলেই সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে একাধিকবার কল করা হলেও কোনো সাড়া মেলেনি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শিরীন আক্তার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমি এখন কোনো মন্তব্য করতে পারব না, কাল অফিসে আসেন।’

নলছিটি থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি, তদন্ত) আশরাফ আলী বলেন, ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষিকাকে অবরুদ্ধ থেকে মুক্ত করেছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

মোহাম্মদপুর ট্র্যাজেডি: নাটোরে পৌঁছাল মা-মেয়ের মরদেহ, দুদিন আগে হারিয়ে গিয়েছিল চাবি

৫ আগস্টের পর দুর্নীতিবাজদের কোটি টাকায় সীমান্ত পার করে দিয়েছেন রাজনৈতিক এলিটরা: দুদক চেয়ারম্যান

তুরস্কের গোয়েন্দা সহায়তায় যেভাবে ‘দামেস্কের আমির’ হলেন আল–শারা

কোটালীপাড়ায় এক রাতে ২টি এজেন্ট ব্যাংকসহ ৪ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চুরি

মোহাম্মদপুরে মা-মেয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা, আসামি গৃহকর্মী

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

কৃষিজমির মাটি ব্যবহার করে ইট তৈরি, চার ভাটাকে জরিমানা

নেত্রকোনা প্রতিনিধি
অবৈধ ইটভাটায় অভিযান। ছবি: আজকের পত্রিকা
অবৈধ ইটভাটায় অভিযান। ছবি: আজকের পত্রিকা

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় কৃষিজমির মাটি ব্যবহার করে ইট তৈরির অপরাধে চারটি ইটভাটাকে চার লাখ টাকা জরিমানা করেছে প্রশাসন।

মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) উপজেলার আশুজিয়া ও বলাইশিমুল ইউনিয়নে চারটি অবৈধ ইটভাটায় এ অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন।

এ সময় কৃষিজমির মাটি ব্যবহার করে ইট তৈরি করার অপরাধে প্রত্যেক ইটভাটাকে এক লাখ টাকা করে মোট চার লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাঈম-উল ইসলাম চৌধুরী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ জরিমানা করেন।

অভিযানে সহযোগিতা করেন পরিবেশ অধিদপ্তর নেত্রকোনার সহকারী পরিচালক মো. আবদুল্লাহ আল মতিন ও পরিদর্শক মাহবুবুল ইসলাম।

এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কেন্দুয়া থানা-পুলিশের একটি টিম উপস্থিত থেকে সহায়তা করে। পাশাপাশি কেন্দুয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদস্যরাও অভিযানকালে উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া পরিচালিত ও কৃষিজমির উর্বর মাটি কাটার কারণে পরিবেশ ও কৃষি উৎপাদন মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ সব কারণে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।

কেন্দুয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাঈম-উল ইসলাম চৌধুরী বলেন, কৃষিজমি সংরক্ষণ ও পরিবেশ রক্ষায় এমন অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

মোহাম্মদপুর ট্র্যাজেডি: নাটোরে পৌঁছাল মা-মেয়ের মরদেহ, দুদিন আগে হারিয়ে গিয়েছিল চাবি

৫ আগস্টের পর দুর্নীতিবাজদের কোটি টাকায় সীমান্ত পার করে দিয়েছেন রাজনৈতিক এলিটরা: দুদক চেয়ারম্যান

তুরস্কের গোয়েন্দা সহায়তায় যেভাবে ‘দামেস্কের আমির’ হলেন আল–শারা

কোটালীপাড়ায় এক রাতে ২টি এজেন্ট ব্যাংকসহ ৪ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চুরি

মোহাম্মদপুরে মা-মেয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা, আসামি গৃহকর্মী

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

দিনাজপুরে তিন অবৈধ ইটভাটায় অভিযান

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি 
আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ২১: ৫৮
অবৈধ ইটভাটায় অভিযান। ছবি: সংগৃহীত
অবৈধ ইটভাটায় অভিযান। ছবি: সংগৃহীত

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবৈধ তিন ইটভাটায় অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন। এর মধ্যে মেসার্স এ আর বি ব্রিকস এবং মেসার্স সততা ব্রিকসের ইটভাটার চিমনি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আর মেসার্স ভাই ভাই ব্রিকসকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

আজ মঙ্গলবার (৮ ডিসেম্বর) দুপুরে পরিবেশ অধিদপ্তর এই অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাজ্জাদ জাহিদ রাতুল। প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন পরিবেশ অধিদপ্তর দিনাজপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বদরুন্নাহার সীমা। উপস্থিত ছিলেন পার্বতীপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদ হুসাইন রাজ ও পরিবেশ অধিদপ্তর রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের রিসার্স কর্মকর্তা রুনায়েত আমিন রেজা।

অভিযানে সহযোগিতা করেন সেনাসদস্য, র‍্যাব, পার্বতীপুর থানা-পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। পরিবেশ সুরক্ষায় দিনাজপুর জেলায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্তৃপক্ষ।

দিনাজপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক বদরুন্নাহার সীমা বলেন, ‘দিনাজপুরে ৩১টি ইটভাটার বিরুদ্ধে জাল রিট ও ভুয়া আদেশ দেখিয়ে ভাটা পরিচালনার অভিযোগে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। গত সপ্তাহে সেই ৩১ ইটভাটাসহ অবৈধভাবে ভাটা পরিচালনাকারীদের কার্যক্রম বন্ধের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। অভিযান পরিচালনা করে দুটি ভাটার চিমনি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং অপর একটি অবৈধ ইটভাটাকে জরিমানা করা হয়েছে। আমাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

মোহাম্মদপুর ট্র্যাজেডি: নাটোরে পৌঁছাল মা-মেয়ের মরদেহ, দুদিন আগে হারিয়ে গিয়েছিল চাবি

৫ আগস্টের পর দুর্নীতিবাজদের কোটি টাকায় সীমান্ত পার করে দিয়েছেন রাজনৈতিক এলিটরা: দুদক চেয়ারম্যান

তুরস্কের গোয়েন্দা সহায়তায় যেভাবে ‘দামেস্কের আমির’ হলেন আল–শারা

কোটালীপাড়ায় এক রাতে ২টি এজেন্ট ব্যাংকসহ ৪ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চুরি

মোহাম্মদপুরে মা-মেয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা, আসামি গৃহকর্মী

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত