Ajker Patrika

‘টেন্ডার না তুললি তোর বাপকেও ছাড়ব না’, ছাত্রলীগ নেতার কল রেকর্ড ভাইরাল

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২৩, ২০: ২৪
‘টেন্ডার না তুললি তোর বাপকেও ছাড়ব না’, ছাত্রলীগ নেতার কল রেকর্ড ভাইরাল

‘বিশ মিনিটের মধ্যে টেন্ডার তুলে নিবি, নাইলে তোর বাপকেও ছাড়ব না। ঝিনাইদহ শহরে মস্তানি করতি হলি আমাদের ট্যাক্স দিয়ে করতি হবি’, ঠিকাদারি কাজ নিয়ে ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির এমন কথোপকথনের একটি অডিও কল রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এ নিয়ে জেলাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। ১ মিনিট ৫৩ সেকেন্ডের কল রেকর্ডটি তাজিমুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে ছিল। 

এ ঘটনায় আজ বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করেছেন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সজীব হোসেন। তিনি দাবি করেছেন রেকর্ডটি এডিট করা হয়েছে। সজীব লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘আমাকে জড়িয়ে যে অডিও রেকর্ড প্রচার করা হচ্ছে, সেটা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এটা এডিট করে প্রচার করা হয়েছে। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই। তবে, জেলা ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির কিছু পদবঞ্চিত মানুষ আছে, যারা হয়তো ষড়যন্ত্র করে আমার নামে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। এর তীব্র নিন্দা জানাই এবং সঠিক ঘটনা প্রকাশের অনুরোধ করছি সংবাদকর্মীদের।’ 

ভাইরাল কল রেকর্ডের অপর পাশের ব্যক্তি তাজিমুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘সজীবের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ভালো। কীভাবে এই কল রেকর্ড আসল আর কীভাবে তা ভাইরাল হলো—এটা আমার বোধগম্য না। কেউ এডিট করে এই অপপ্রচার করেছে। আমাদের বাড়ি সদর উপজেলার কনেজপুর গ্রামে। বাবা কুতুব উদ্দিন জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডে নৈশপ্রহরীর চাকরি করেন। আমার লেখাপড়া শেষ, ছাত্রলীগের রাজনীতি ছেড়েছি। এখন ব্যবসা-বাণিজ্য ও ঠিকাদারি করি।’ 

এর আগে গতকাল বুধবার মোবাইল ফোনে আজকের পত্রিকাকে তাজিমুল ইসলাম বলেন, ‘ওই দিন কী দিয়ে কী হয়েছিল তা আমিও বুঝতে পারছি না। আধুনিক যুগ, কথা যত কম বলা যায় ততই ভালো। এই দেখলেন, দুটো কথা বলে ফেঁসে গেছি আমি নিজেই! যেটা হয়েছে সেটা পাস্ট ইজ পাস্ট।’ 

সংবাদ সম্মেলন করে কল রেকর্ডটি এডিট করা বলে দাবি করেছেন ছাত্রলীগ নেতা সজীব। ছবি: আজকের পত্রিকাএ বিষয়ে জানতে চাইলে গতকাল জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সজীব হোসেন মোবাইল ফোনে আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘ছেলেটা আমার ভাগনে, ছাত্রলীগ করে, আমার কর্মী। তাকে শাসন করেছি।’

কত টাকার দরপত্র ছিল জানতে চাইলে তাজিমুল বলেন, ‘কত টাকার টেন্ডার ছিল সেটা মনে নেই। তবে কাজটা হতে পারে খাল কাটা বা রিপেয়ারিং হবে হয়তো। সজীব আর আমার ভেতরে কী কথা হয়েছে সেটা আমরাই জানি।’

কথোপকথনে ছাত্রলীগ সভাপতি সজীব হোসেনকে বলতে শোনা যায়, ‘ঝিনাইদহ শহরে মস্তানি করতি হলি আমাদের ট্যাক্স দিয়ে করতি হবি। এই জায়গা কিছু বলতি হলি, আমাদের ট্যাক্স দিতে হবি।’ 

তখন তাজিমুল বলেন, ‘আমি কি মস্তান, আপনার কি মনে হয় আমি মস্তান?’ তখন সজীব অশ্লীল ভাষায় গালি দিয়ে বলেন, ‘তাইলে তুই শিডিউল ফেলিছিস কী জন্যি?’

জবাবে তাজিমুল বলে, ‘আমি ফেললি তো আপনাকে বলেই দিতাম।’ সজীব হুমকি দিয়ে বলেন, ‘বিশ মিনিট সময় দিলাম এর মধ্যে শিডিউল তুলে নে, না হলে তোর বাপকেও ছাড়বোনানে।’ এই বলেই সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দেন সজীব হোসেন। 

এ সময় মোবাইল ফোনে সজীব হোসেনের পাশ থেকে আরও কয়েকজনের অস্পষ্ট কথা শোনা যায়। 

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রানা হামিদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘যে বকাঝকা ভাইরাল হয়েছে, সেটা অবশ্যই খারাপ হয়েছে। একজন ছাত্রলীগের সভাপতির এ ধরনের ভাষা ব্যবহার করা উচিত হয়নি।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিলে আইনি পথ দেখবে বিসিবি

আজকের রাশিফল: চাকরিতে সুখবর আসবে, সঙ্গীকে ‘সরি’ বলতে দ্বিধা করবেন না

১০৩ কর্মী নেবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

ভ্রাম্যমাণ আদালতে বাধা: চেয়ারম্যানকে বরখাস্তের এক দিন পর ইউএনও বদলি

বরিশাল-৫: ভোটের লড়াইয়ে হাতপাখার প্রতিদ্বন্দ্বী এখন ধানের শীষ

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত