
খুলনা মহানগরীতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। গত এক সপ্তাহে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পাঁচজন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়। এরই মধ্যে চার ওয়ার্ডকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ (রেড জোন) হিসেবে চিহ্নিত করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার করেছে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি)। এদিকে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছে সরকারি হাসপাতালগুলো। ডেঙ্গু ওয়ার্ডে জায়গা না পেয়ে অনেকে হাসপাতালের বারান্দায় অন্য রোগীর সঙ্গে বিছানা পেতে মশারি টাঙিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে।
আক্রান্ত রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ, ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেসিসির মশকনিধন কর্মসূচি কোনো কাজে আসছে না। তবে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ বলছে, ভাইরাসজনিত জ্বর ডেঙ্গুর জন্য দায়ী এডিস মশার বিস্তার রোধে নগরীতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হচ্ছে। মশকনিধনের পাশাপাশি ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক স্থাপনায় জমে থাকা পানি ও মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে ভ্রাম্যমাণ আদালতও পরিচালনা করা হচ্ছে। সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করা হয়েছে কেসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।
সম্প্রতি কেসিসির তৈরি পরিসংখ্যানে নগরীতে ডেঙ্গুর ঊর্ধ্বমুখী চিত্র উঠে এসেছে। পরিসংখ্যানে নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৩০, ২৯, ২৮ ও ২২ নম্বর ওয়ার্ডকে রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এসব ওয়ার্ডে চলতি মৌসুমে ২৮৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এই ওয়ার্ডে চলতি মৌসুমে ১১১ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ২৯ নম্বর ওয়ার্ড। ওয়ার্ডটিতে ১০০ ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। অপর দুটির মধ্যে ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে ৮০ জন এবং ২২ নম্বর ওয়ার্ডে ৭৭ ডেঙ্গু রোগী রয়েছে।
অপর দিকে ১৭, ১৮, ২৩, ২৪ ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডকে মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ ‘কমলা জোন’ ঘোষণা করা হয়েছে। এসব ওয়ার্ডে মোট ২৬৮ ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। কম ঝুঁকিপূর্ণ ‘হলুদ জোনে’ থাকা ১৫, ২০, ২৫ ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে এ পর্যন্ত ১১৭ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে।
খুলনা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত এক সপ্তাহে খুমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ডেঙ্গু আক্রান্ত পাঁচজনের মৃত্যু হয়। চলতি বছরে খুলনা বিভাগে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ জনে। এর মধ্যে শুধু খুলনা জেলাতেই মারা গেছে ১৪ জন। এ ছাড়া বাগেরহাটে ১ জনের মৃত্যু হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় পরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ১৩৩ ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে খুলনার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১০৩ জন। খুমেক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩৫ জন। বর্তমানে হাসপাতালটিতে ১২৩ ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। জেলার অন্যান্য হাসপাতাল মিলিয়ে মোট ৩৪৪ রোগী ভর্তি আছে।
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক শেখ মো. মোশারফ হোসেন বলেন, ‘চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত খুলনা বিভাগে বিভিন্ন হাসপাতালে ৩ হাজার ৮২৩ রোগী ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে ৩ হাজার ২৬৭ জন। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ৫০২ ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য এ পর্যন্ত ৩৯ রোগীকে অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে।’
খুমেক হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘হাসপাতালে প্রতিদিন ডেঙ্গু রোগীর চাপ বাড়ছে। ডেঙ্গু ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত শয্যা না থাকায় রোগী ভর্তির ক্ষেত্রে হিমশিম খেতে হচ্ছে।’
কেসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শরীফ শাম্মীউল ইসলাম বলেন, ‘খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, খুলনা জেনারেল হাসপাতালসহ নগরীর বিভিন্ন হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে প্রতিদিন ডেঙ্গু শনাক্তের তথ্য কেসিসিতে পাঠানো হয়। পরীক্ষায় পজিটিভ আসা রোগীদের তথ্যের ভিত্তিতেই ওয়ার্ডভিত্তিক আক্রান্তের তালিকা তৈরি করা হয়েছে।’
শরীফ শাম্মীউল ইসলাম বলেন, ‘ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় কেসিসির ওয়ার্ডগুলোকে ঝুঁকি বিবেচনায় বিভিন্ন জোনে ভাগ করে মশকনিধন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে ১০টি ফগার মেশিন ও হ্যান্ড স্প্রের মাধ্যমে মশকনিধন শুরু হয়েছে। এ ছাড়া উন্মুক্ত স্থান ও বড় নালায় মশকনিধনে প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে হুইল ব্যারো ফগার মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে।’
কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আগেই সতর্ক করেছে, খুলনায় এবার ডেঙ্গুর প্রকোপ ভয়াবহ হতে পারে। সরকারও এ বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে। আরও দুই-তিন মাস ডেঙ্গুর প্রকোপ থাকার আশঙ্কা রয়েছে।’
পরিস্থিতি মোকাবিলায় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে কেসিসি ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে এবং লিফলেট বিতরণসহ বিভিন্নভাবে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এ ছাড়া খুমেক হাসপাতাল, সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে।’

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) স্নাতক পর্যায়ে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমে যাচ্ছে। ভর্তির পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, কয়েক বছর বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তিতে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেলেও সর্বশেষ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক প্রথম বর্ষে কোনো বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হননি।
৩৭ মিনিট আগে
কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালের পেছনের ফটক। এই ফটক ঘেঁষে ৯টি এবং ২০০ গজের মধ্যে গড়ে উঠেছে অর্ধশতাধিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিক। শুধু জেলা সদরের এই হাসপাতাল নয়, ১২টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের চিত্র একই। প্রতিটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আশপাশে রয়েছে ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিক।
১ ঘণ্টা আগে
দালাল চক্রের হাত ধরে ইউরোপে পাড়ি জমানোর জন্য দেশ ছাড়ার পর নিখোঁজ রয়েছেন সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার পাঁচ যুবক। ভুক্তভোগীদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই পাঁচজনের কেউ কেউ এক মাস, কেউ ২০ দিন ধরে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন না। এ নিয়ে উৎকণ্ঠায় পরিবারগুলো।
১ ঘণ্টা আগে
রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার আরাজী বীরচরণ গ্রামে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত যুবক পলাশের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় প্রধান আসামি মোজাহার আলীকে (৫৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার মোজাহার আলী উপজেলার সারাই ইউনিয়নের আরাজী বীরচরণ গ্রামের মৃত সাদুল্ল্যাহর ছেলে।
২ ঘণ্টা আগে