হিরামন মণ্ডল সাগর, বটিয়াঘাটা

খুলনার ডুমুরিয়া, বটিয়াঘাটা ও পাইকগাছা উপজেলার গা ঘেঁষে বয়ে চলা শত শত বছরের ভদ্রা নদী। একসময় শত শত বাড়িঘর, জমি-জায়গা, পুকুর, হাজার হাজার বিঘা জমি, লিজঘের, বিলীন হয়ে যায় এই ভদ্রা নদীতে। এতে অনেক পরিবার হয়েছে নিঃস্ব।
কালের পরিবর্তে আজ হারিয়ে যেতে বসেছে সেই রাক্ষসী মায়াবী ভদ্রা নদী। একসময় ৩০০ থেকে ৪০০ হাত, এমনকি কোথাও কোথাও তারও বেশি গভীরতা ছিল এই নদীর। কোনো যানবাহন নদীতে তলিয়ে গেলে তা আর খুঁজে পাওয়া যেত না। একসময় এই নদী ছিল দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে যোগাযোগের একমাত্র কেন্দ্র। সে সময় এই নদীতে লঞ্চ, স্টিমারসহ বিভিন্ন মালবাহী, পণ্যবাহী ভারী নৌযান চলাচল করত।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই নদীতে ঢাকা থেকে বরিশাল, টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, পাটুরিয়া থেকে খুলনা, গোপালগঞ্জ, টুঙ্গিপাড়া, বাগেরহাট, যশোর, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, সাতক্ষীরা থেকে দক্ষিণ অঞ্চল সুন্দরবন কয়রা, বেদকাশি, শ্যামনগর, সাতক্ষীরা, আশাশুনি, ঘড়িলাল, বটিয়াঘাটা, দাকোপ, পাইকগাছা, কালাবগী, সুতারখালী, লাউডোবসহ বিভিন্ন অঞ্চলের লঞ্চ স্টিমার, ইঞ্জিনচালিত ট্রলার ও নৌকায় চলাচল করত শত শত যাত্রী। এখন এসব নৌযান নদীতে দেখা যায় না। নাব্যতা হারিয়ে নদীর মাঝে উঠেছে বিশাল বালুর দ্বীপ। ফলে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে এই নদী। এতে খুলনার দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের বিভিন্ন বড় বড় ব্যবসা-বাণিজ্য, নিগম, পৌরসভা, উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার, বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান আজ হারিয়ে হওয়ার পথে। অচিরেই এই নদীর জীবন ফিরিয়ে না আনলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল হয়ে যাবে মরুভূমি। দেখা দেবে খাদ্যের সংকটসহ নানাবিদ সমস্যা ও দুর্ভিক্ষ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বটিয়াঘাটা উপজেলার ভদ্রা নদীর বারোআড়িয়া চৌমুহনা ও গাওঘরা, শরাফপুর, কাঞ্চননগর, উত্তর শৈলমারী, বটিয়াঘাটা ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় ভাটার সময় মানুষ হেঁটে নদী পার হচ্ছে। কারণ গাওঘরা-শরাফপূরে নদীতে হঠাৎ করে জেগে উঠেছে বালুর দ্বীপ। ফলে ভাটার সময় নৌযান চলাচল করতে পারছে না।
এ বিষয়ে মাঝি অরুণ দাস বলেন, ‘গাওঘরা-শরাফপুর খেয়াঘাটে আমি দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে যাত্রী পারাপার করছি। আমার বয়সের অধিকাংশ জীবন পার করেছি যাত্রী পারাপার করে। এখন নদীতে ভাটার সময় নৌকা চালাতে পারছি না।’
ঘাট ইজারাদার মো. শরিফ জানান, ‘আমি প্রতিবছর খুলনা জেলা পরিষদ থেকে ১২ লাখ টাকা দিয়ে ঘাটটি ইজারা নেই। কিন্তু এবার ঘাটের যে অবস্থা, তাতে আমি অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হব। যে টাকা দিয়ে ঘাট ইজারা নিয়েছি, সেই টাকা এ বছর আর তোলো সম্ভব হবে না।’
বারোআড়িয়া-রায়পুর ঘাট ইজারাদার মো. ইবাদুল জানান, সরকার ঘাট থেকে প্রতিবছর ২-৩ লাখ টাকা ইজারা নিয়ে থাকে। নদীতে জোয়ার থাকলে মানুষ পারাপার হয়। ভাটা হলে কেউ কাদা মেখে নৌকায় উঠতে চায় না। ভাটার সময় বালুর চরে নৌকা আটকে যায়।
বাজার কমিটির সভাপতি মিলন কান্তি মল্লিক জানান, এই বাজারে একসময় ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা শহরের ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করতে আসতেন। প্রতি শুক্রবার এই বাজারে সাপ্তাহিক হাট বসত। তখন হাজার হাজার লোকের সমাগম হতো। কিন্তু আজ আর এখানে সেরকম জনসমাগম হয় না। কারণ একটাই, যোগাযোগব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ইঞ্জিনচালিত বাল্কহেড বোর্ডের খুলনার সাবেক সভাপতি সুশান্ত সরকার জানান, এখন আগের মতো নদীতে নৌকা চলাচল করতে পারে না। বালু পড়ে অধিকাংশ নদীনালা বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে এই পেশার মানুষ এখন অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন।
হাট-বাজার উন্নয়ন কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মমিনুর রহমান বলেন, ‘নদী-নালা যেভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তাতে অচিরেই নৌচলাচল বন্ধ হয়ে যাবে। সরকার নদী খনন ও হাট-বাজারের উন্নয়নকাজ চলমান রেখেছে। আমি এই সমস্যাগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলব।’

খুলনার ডুমুরিয়া, বটিয়াঘাটা ও পাইকগাছা উপজেলার গা ঘেঁষে বয়ে চলা শত শত বছরের ভদ্রা নদী। একসময় শত শত বাড়িঘর, জমি-জায়গা, পুকুর, হাজার হাজার বিঘা জমি, লিজঘের, বিলীন হয়ে যায় এই ভদ্রা নদীতে। এতে অনেক পরিবার হয়েছে নিঃস্ব।
কালের পরিবর্তে আজ হারিয়ে যেতে বসেছে সেই রাক্ষসী মায়াবী ভদ্রা নদী। একসময় ৩০০ থেকে ৪০০ হাত, এমনকি কোথাও কোথাও তারও বেশি গভীরতা ছিল এই নদীর। কোনো যানবাহন নদীতে তলিয়ে গেলে তা আর খুঁজে পাওয়া যেত না। একসময় এই নদী ছিল দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে যোগাযোগের একমাত্র কেন্দ্র। সে সময় এই নদীতে লঞ্চ, স্টিমারসহ বিভিন্ন মালবাহী, পণ্যবাহী ভারী নৌযান চলাচল করত।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই নদীতে ঢাকা থেকে বরিশাল, টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, পাটুরিয়া থেকে খুলনা, গোপালগঞ্জ, টুঙ্গিপাড়া, বাগেরহাট, যশোর, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, সাতক্ষীরা থেকে দক্ষিণ অঞ্চল সুন্দরবন কয়রা, বেদকাশি, শ্যামনগর, সাতক্ষীরা, আশাশুনি, ঘড়িলাল, বটিয়াঘাটা, দাকোপ, পাইকগাছা, কালাবগী, সুতারখালী, লাউডোবসহ বিভিন্ন অঞ্চলের লঞ্চ স্টিমার, ইঞ্জিনচালিত ট্রলার ও নৌকায় চলাচল করত শত শত যাত্রী। এখন এসব নৌযান নদীতে দেখা যায় না। নাব্যতা হারিয়ে নদীর মাঝে উঠেছে বিশাল বালুর দ্বীপ। ফলে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে এই নদী। এতে খুলনার দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের বিভিন্ন বড় বড় ব্যবসা-বাণিজ্য, নিগম, পৌরসভা, উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার, বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান আজ হারিয়ে হওয়ার পথে। অচিরেই এই নদীর জীবন ফিরিয়ে না আনলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল হয়ে যাবে মরুভূমি। দেখা দেবে খাদ্যের সংকটসহ নানাবিদ সমস্যা ও দুর্ভিক্ষ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বটিয়াঘাটা উপজেলার ভদ্রা নদীর বারোআড়িয়া চৌমুহনা ও গাওঘরা, শরাফপুর, কাঞ্চননগর, উত্তর শৈলমারী, বটিয়াঘাটা ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় ভাটার সময় মানুষ হেঁটে নদী পার হচ্ছে। কারণ গাওঘরা-শরাফপূরে নদীতে হঠাৎ করে জেগে উঠেছে বালুর দ্বীপ। ফলে ভাটার সময় নৌযান চলাচল করতে পারছে না।
এ বিষয়ে মাঝি অরুণ দাস বলেন, ‘গাওঘরা-শরাফপুর খেয়াঘাটে আমি দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে যাত্রী পারাপার করছি। আমার বয়সের অধিকাংশ জীবন পার করেছি যাত্রী পারাপার করে। এখন নদীতে ভাটার সময় নৌকা চালাতে পারছি না।’
ঘাট ইজারাদার মো. শরিফ জানান, ‘আমি প্রতিবছর খুলনা জেলা পরিষদ থেকে ১২ লাখ টাকা দিয়ে ঘাটটি ইজারা নেই। কিন্তু এবার ঘাটের যে অবস্থা, তাতে আমি অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হব। যে টাকা দিয়ে ঘাট ইজারা নিয়েছি, সেই টাকা এ বছর আর তোলো সম্ভব হবে না।’
বারোআড়িয়া-রায়পুর ঘাট ইজারাদার মো. ইবাদুল জানান, সরকার ঘাট থেকে প্রতিবছর ২-৩ লাখ টাকা ইজারা নিয়ে থাকে। নদীতে জোয়ার থাকলে মানুষ পারাপার হয়। ভাটা হলে কেউ কাদা মেখে নৌকায় উঠতে চায় না। ভাটার সময় বালুর চরে নৌকা আটকে যায়।
বাজার কমিটির সভাপতি মিলন কান্তি মল্লিক জানান, এই বাজারে একসময় ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা শহরের ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করতে আসতেন। প্রতি শুক্রবার এই বাজারে সাপ্তাহিক হাট বসত। তখন হাজার হাজার লোকের সমাগম হতো। কিন্তু আজ আর এখানে সেরকম জনসমাগম হয় না। কারণ একটাই, যোগাযোগব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ইঞ্জিনচালিত বাল্কহেড বোর্ডের খুলনার সাবেক সভাপতি সুশান্ত সরকার জানান, এখন আগের মতো নদীতে নৌকা চলাচল করতে পারে না। বালু পড়ে অধিকাংশ নদীনালা বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে এই পেশার মানুষ এখন অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন।
হাট-বাজার উন্নয়ন কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মমিনুর রহমান বলেন, ‘নদী-নালা যেভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তাতে অচিরেই নৌচলাচল বন্ধ হয়ে যাবে। সরকার নদী খনন ও হাট-বাজারের উন্নয়নকাজ চলমান রেখেছে। আমি এই সমস্যাগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলব।’

বিলম্বের বৃত্ত থেকে বের হতে পারছে না বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন রেলপথ প্রকল্প। ইতিমধ্যে চার দফা মেয়াদ বাড়ানো এই প্রকল্প শেষ করতে আরও দুই বছর মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। প্রায় এক যুগে প্রকল্পের কাজ হয়েছে ৫৪ শতাংশ।
৩৬ মিনিট আগে
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আজম পাশা চৌধুরী রুমেল এবং হাতিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছাইফ উদ্দিন আহমদ দীর্ঘদিন হত্যা-বিস্ফোরকসহ একাধিক মামলার আসামি হয়ে জেলা কারাগারে রয়েছেন।
১ ঘণ্টা আগে
যুগ যুগ ধরে সমুদ্রের পানি দিয়ে লবণ উৎপাদন করে আসছেন কৃষকেরা। তবে লবণ উৎপাদন কারখানার পরিত্যক্ত পানি দিয়ে আবার লবণ তৈরির সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ দিয়েছেন চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কৃষকেরা।
২ ঘণ্টা আগে
খুলনা জেলায় খাদ্যশস্য সংগ্রহ মৌসুমে বস্তা কেনায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নতুন বস্তার সঙ্গে পুরোনো বস্তাও সরবরাহ ও ব্যবহার হচ্ছে বলে জানা গেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, পুরোনো নিম্নমানের বস্তা ক্রয় এবং অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে খাদ্যগুদামের অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছে। তবে খাদ্য কর্মকর্তাদের দাবি...
২ ঘণ্টা আগে