
ঝিনাইদহ শহরের প্রবেশমুখে অবস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বরের ভাস্কর্য ভাঙার কাজ আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। আজ রোববার জেলা প্রশাসনের সভাকক্ষে এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ভাস্কর্যটি পুনর্নির্মাণ করা হবে, নাকি অন্যত্র স্থানান্তর করা হবে—সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে আগামী বুধবার।
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের পরিবার ভাস্কর্যটি অন্যত্র স্থানান্তরের প্রশাসনিক ভাবনা মেনে নিতে নারাজ। পরিবারের দাবি, যেখানে ভাস্কর্যটি ছিল, সেখানেই এটি পুনরায় স্থাপন করতে হবে।
গত ১৪ জুলাই অনলাইনে এবং ১৫ জুলাই আজকের পত্রিকায় ‘ঝিনাইদহে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বরের ভাস্কর্য কে ভাঙছে জানে না কেউ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পর দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের দাবি হচ্ছে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানকে যথাযথ মূল্যায়ন করে নির্দিষ্ট জায়গায় ভাস্কর্য নির্মাণ করা। বর্তমানে যে ভাস্কর্যটি ভাঙছে, সেটি আদৌ বীরশ্রেষ্ঠ ভাস্কর্য না। ভাঙা বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের কোন আপত্তিও নাই। যেহেতু এটি নিয়ে নানা সমালোচনা হচ্ছে, তাই আপাতত এটি ভাঙার কাজ বন্ধ করেছি। মুক্তিযোদ্ধা ও বীরশ্রেষ্ঠ নামে ভাস্কর্য নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছি। এই বিষয়ে আজ মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে আগামী বুধবার। সেখানে মুক্তিযোদ্ধা, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের পরিবারসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের মতামত নেওয়া হবে। কোন জায়গায় এটি নির্মিত হবে, তা নিয়েও আলোচনা হবে।’
আজ বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বরে গিয়ে দেখা যায়, ভাস্কর্যটির বিভিন্ন অংশ ভাঙা। বেদির ভাঙা অংশ থেকে ঢালাইয়ের লোহা বের হয়ে আছে। এদিন সেখানে কোনো শ্রমিককে কাজ করতে দেখা যায়নি।
স্থানীয় কয়েকজন ইজিবাইকচালক জানান, কয়েক দিন ধরে ভাঙার কাজ চলছিল। গতকাল শনিবার থেকে আর ভাঙতে দেখছেন না। প্রশাসন এটি ওই স্থান থেকে সরিয়ে ফেলতে পারে বলেও শুনেছেন তারা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ২০২৪ সালের সরকার পতনের পর বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের এ ভাস্কর্যটি হামলার শিকার হয়।
ঝিনাইদহ পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের দিকে পৌরসভার উদ্যোগে ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের ঝিনাইদহ-যশোর, ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গা লিংক সড়কে ৩০ ফুট উচ্চতা ও ১০ ফুট প্রস্থের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর নির্মাণ প্রকল্প নেওয়া হয়।
কয়েক বছর পার হলেও অজ্ঞাত কারণে ভাস্কর্যটির সম্পূর্ণ কাজ শেষ করা হয়নি। এর মধ্যে দুই দফা মেয়র পরিবর্তন ও দুই দফা প্রশাসক নিয়োগ হলেও চত্বরের কাজ শেষ হয়নি। কাজ শেষ না হওয়ায় ভাস্কর্যের সম্পূর্ণ আকৃতিও ছিল না। দীর্ঘদিন অবহেলায় ফেলে রাখায় চত্বরে সৌন্দর্যবর্ধনের গাছের পরিবর্তে আগাছা জন্মায়।
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাতিজা হাফিজুর রহমান বলেন, ‘তৎকালীন পৌরসভার মেয়র ভাস্কর্যটি নির্মাণের জন্য আমাদের কাছে অনুমতি নিয়েছিলেন। এমনকি কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সময় আমাদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অথচ এখন ভেঙে ফেলার আগে আমাদের সঙ্গে কেউ কোনো যোগাযোগ করলো না। পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর চাপে পড়ে আমাদের জানানো হয়েছে, ভাস্কর্যটি ঝিনাইদহ জেলা শহরের শহীদ মিনারের পাশের গোলচত্বরে স্থাপন করা হবে। কিন্তু সেখানে আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ছিল। সরকার পরিবর্তনের পর সেটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। সেই স্থানে আমার চাচা বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য স্থাপন করা হলে ভবিষ্যতে আবারও আঘাতের শঙ্কা থাকবে। আমরা এটি মেনে নেব না।’
হাফিজুর রহমান আরও বলেন, ‘ভাস্কর্যটি ভেঙে যে ক্ষতি করা হয়েছে, তা পূরণ হওয়ার নয়। অন্য কোথাও নয়, জেলা শহরের প্রবেশদ্বারেই এটি পুনঃস্থাপন করতে হবে। কারণ এটিই ঝিনাইদহের পরিচয় বহন করে এবং নতুন প্রজন্ম এ জেলার প্রবেশমুখেই একজন বীরশ্রেষ্ঠের ইতিহাস জানতে পারবে। অন্য কোথাও স্থাপন করা হলে পরিবারের পক্ষ থেকে তা মেনে নেওয়া হবে না।’
সচেতন মহলের বক্তব্য, ভাস্কর্য অপসারণের ঘটনাকে ঘিরে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে মূলত এর পেছনের কারণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীরবতার কারণে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার মুশরীভূজা বটতলা গ্রামে সংঘর্ষে একজন নিহত হওয়ার ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলার পর গ্রেপ্তার আতঙ্কে পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে পুরো গ্রাম। অনেক পরিবারের প্রধানেরা আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় নেমে এসেছে অনিশ্চয়তা, উদ্বেগ ও আর্থিক সংকট।
১ ঘণ্টা আগে
রাজশাহীর গোদাগাড়ীর হেরোইন সাম্রাজ্যে নতুন এক মাফিয়ার আবির্ভাব হয়েছে। তার নাম নাসির উদ্দিন। একসময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সোর্স হিসেবে কাজ করা নাসির এখন নিজেই হেরোইন কারবারি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। যদিও নাসির তা অস্বীকার করেছেন।
১ ঘণ্টা আগে
জোয়ারের পানি ঢোকার সময় ঘরের দরজা বন্ধ করেও লাভ হয় না। বঙ্গোপসাগরের লোনাপানি ভাঙা বেড়িবাঁধ ছাপিয়ে মুহূর্তেই ঢুকে পড়ে বসতঘরে। খাট, আলমারি, রান্নাঘর, উঠান—সবকিছু পানিতে তলিয়ে যায়। ভাটার সময় পানি নেমে গেলেও থেকে যায় লবণের আস্তরণ। নষ্ট হয় ফসল। ক্ষতির মুখে পড়ে পুকুরের মাছ ও নলকূপ।
১ ঘণ্টা আগে
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অসংখ্য খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। টানা বৃষ্টিতে কাঁচপুর সেতু থেকে মেঘনা টোল প্লাজা পর্যন্ত কার্পেটিং উঠে গিয়ে তৈরি হওয়া এসব খানাখন্দের কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে। এ ছাড়া খানাখন্দের কারণে এই সড়কে যানবাহনের গতিও কমেছে।
১ ঘণ্টা আগে